উদ্দেশ্য প্রণোদিত ভাবে গণমাধ্যমকর্মীকে আসামি বানিয়ে মামলা
শরিফা বেগম শিউলী
স্টাফ রিপোর্টার
রংপুরের মাহিগঞ্জ মেট্রোপলিটন থানাধীন বিহারী গ্রামে দীর্ঘদিন থেকে জমি সংক্রান্ত বিরোধ ও ভন্ড কবিরাজী বন্ধ করা নিয়ে ভাই ভাতিজাদের সঙ্গে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে মারামারি ঘটনা ঘটে। ঘটনায় দুইজন আহত হয়ে রংপুর মেডিকেলে ভর্তি হয়। সে সময় সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে “জাতীয় দৈনিক বাংলাদেশ সমাচার” পত্রিকার রংপুর মহানগর প্রতিনিধি, মোঃ জাহিদুল ইসলাম জাহিদকে আসামি বানিয়ে উদ্দেশ্য প্রণোদিত ভাবে হয়রানী মুলক মামলায় জড়িত করার অভিযোগ উঠেছে।
এ ব্যাপারে সাংবাদিক জাহিদুল ইসলাম জাহিদ বলেন, গত ৫ই ডিসেম্বর ২৫ ইং সকাল ৮টার দিকে পাভেল নামে এক ব্যক্তি আমাকে এসে বলে কবিরাজের বাড়ীর সামনের মাঠে ভাই ভাতিজার মধ্যে জমিজমা ও কবিরাজের নামে ভন্ডামী বন্ধ করা নিয়ে কথা কাটাকাটি ও ঝগড়া লেগেছে।
খবর শুনে আমি সাংবাদিক জাহিদুল ইসলাম জাহিদ ঘটনাস্থলে যাই। গিয়ে দেখি মোবারক কবিরাজ তার বড়ভাই শাহজানের অন্ডোকোশ চিপে ধরে টানা হেঁছরা করছে।
মোবারকের ছেলে সাজ্জাদুল হোসেন সুজন আলু রোপনের লাঙ্গল দিয়ে রহিম চৌধুরী’র মাথায় আঘাত করতেছে। আর এক ছেলে সজল বাঁশের লাঠি দিয়ে সরোয়ার চৌধুরীর মুখে গুতা মারলে,তার কিছুক্ষনের মধ্যেই শাহজান অজ্ঞান হয়ে পড়ে। দেখতে পেয়ে আমার ক্যামেরা দিয়ে ভিডিও করা শুরু করি।
আমাকে ভিডিও করতে দেখে মোবারক ও তার দুই ছেলে ক্ষিপ্ত হয়ে আমার হাতে থাকা ডিএসএলআর ক্যানোন ইওএস ৩০০০ ডি ১৮ মেগাপিক্সেল ক্যামেরাটি তিনজনে মিলে কেরে নেয় এবং ভেংগে ফেলে এবং আমার উপর চড়াও হয়ে এসে আমার বাম হাতের একটি আংগুল ভেঙ্গে দেয় ও হুমকি দেয় যে তোর নামেও মামলা করে তোর সাংবাদিকতা বের করে দেবো।
ক্যমেরাটি নষ্ট করাতে ভিডিও ডকুমেন্ট গুলোও নষ্ট হয়ে যায়। তবে পাশে থাকা একজনের মোবাইলে ছবি তোলা ছিলো তাহার কাছ থেকে ধারন করা কিছু ছবি সংরক্ষণ করেছি। ঘটনার দুইদিন পর প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে ৯ই ডিসেম্বর জানতে পারি আমাকে ২নং আসামিসহ মোট ৮জনকে আসামি করে মোবারক কবিরাজের ছেলে সাজ্জাদুল ইসলাম সুজন মাহিগঞ্জ মেট্রো থানায় একটি মামলা দায়ের করে যাহার নং-২/৭৮।
আমি সাংবাদিক জাহিদুল ইসলাম জাহিদ আদালতের কাছে জামিনের আবেদন করি। জামীন মঞ্জুর হয়েছে। পরে মাহীগঞ্জ মেট্রো থানার অফিসার্স ইনচার্জ এর সাথে দেখা করে মামলার বিষটি নিয়ে কথা বার্তা বলি।
এ বিষয়ে,মাহি গঞ্জ থানার অফিসার্স ইনচার্জ বলেন, মামলার তদন্ত কার্যক্রম চলছে,সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে সঠিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এলাকাবাসী ও স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ঘটনাস্থলে উপস্থিত লোকজন মামলার সাক্ষিগনের সাথে কথা বলে জানা যায়, সাংবাদিক জাহিদুল ও বাকি ৭সাত জনকে উদ্দেশ্য প্রণদিত ভাবে এই মামলায় ফাঁসানো হয়েছে। ভন্ড কবিরাজি বন্ধ করতে বলাতে হয়ত তাকে এই মামলায় জড়িয়েছে বলে মনে হয়।
এ বিষয়ে মাহিগঞ্জ মেট্রোপলিটন থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাইদুল ইসলাম বলেন, মামলা যে কারো নামে হতে পারে। ঘটনার সাথে সম্পৃক্ততা না পাওয়া গেলে চার্জশিট থেকে অটোমেটিক নাম বাদ যাবে।








