ধর্মপাশায় জলমহালে মাছ ধরার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন
মো: ইমাম হোসেন
হাওরাঞ্চল প্রতিনিধি, নেত্রকোনা- সুনামগঞ্জ
সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলার নয়া বিল-২ নামক জলমহালটি উচ্চ আদালতের স্থগিতাদেশ অমান্য করে উপজেলা প্রশাসন কর্তৃক খাস-কালেকশনে ইজারা দেওয়ার প্রতিবাদে এক সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে চারটার দিকে উপজেলার বাদশাগঞ্জ বাজারের একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে উপজেলার সেলবরষ ইউনিয়নের মাইজবাড়ি গ্রামের সবুর খান চৌধুরী নামে এক ব্যক্তি এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে সবুর খান চৌধুরী বলেন, উপজেলা সদর ইউনিয়নের লংকাপাথারিয়া মৌজাধীন ১২১, ১২৩ ও ১৩০ দাগে ১৯ একর ৩৮ শতাংশ আয়তনের একটি সরকারি জলমহাল রয়েছে। জলমহালটি গত ২০২৪ সালের ২৩ আগষ্ট উপজেলা প্রশাসনের কাছ থেকে এক বছরের জন্য ৬ লাখ টাকায় ইজারা নেন উপজেলার সেলবরষ ইউনিয়নের মাইজবাড়ি গ্রামের সবুর খান চৌধুরী। জলমহালটি ইজারাপ্রাপ্রাপ্ত হওয়ার পর তিনি জলমহালটিতে কাঠা-বাঁশ পুঁতে ও পাহারাদার নিয়োগ করার মাধ্যমে জলমহালটিতে প্রায় ১৬ লাখ টাকা ব্যয় করে সেখানে তিনি মাছ সংরক্ষণ করে আসছিলেন।
কিন্ত বিগত ৫ আগষ্টের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনের পর সরকারিভাবে ইজারাপ্রাপ্ত ওই জলমহালটি স্থানীয় প্রভাবশালী একটি চক্র জোরপূর্বক লুটপাট করে প্রায় ২০ লাখ টাকার মাছ হরিলুট করে নিয়ে যায়। বিষয়টি আমি উপজেলা প্রশাসনকে অবগত করি এবং চলতি বছরেও উক্ত জলমহালটি আমাকে ইজারায় বন্দোবস্ত দেওয়ার জন্য আবেদন করি। কিন্তু উপজেলা প্রশাসন উক্ত জলমহালটি আমাকে বন্দোবস্ত না দিয়ে উপজেলার আক্তাপাড়া গ্রামের শামীম মিয়া নামে এক ব্যক্তিকে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে খাস-কালেকশনের মাধ্যমে ইজারায় দিয়ে দেন। এতে করে আমি সর্বশান্ত হয়ে পড়েছি। এ অবস্থায় নিরুপায় হয়ে চলতি মাসের ৯ নভেম্বর আমি উচ্চ আদালতে গিয়ে উপজেলা প্রশাসন কর্তৃক দেওয়া উক্ত জলমহালটি কাস-কালেকশনের বিরুদ্ধে একটি স্থগিতাদেশের আবেদন করি। আমার আবেদনের প্রেক্ষিতে উচ্চ আদালত যথাযথভাবে জলমহালটির খাস-কালেকশনের বিষয়টির উপর ৩ মাসের জন্য একটি স্থগিতাদেশের আদেশ জারি করেন। কিন্তু উপজেলা প্রশাসন রহস্যজনক কারনে উচ্চ আদালতের দেওয়া উক্ত স্থগিতাদেশ অমান্য করে শামীম মিয়াকে দেওয়া খাস-কালেকশনটি এখনও বহাল রেখেছেন। এতে করে শামীম মিয়া উক্ত জলমহালটি থেকে তার লোকজন দিয়ে দিন-রাত লাখ-লাখ টাকার মাছ ধরে নিয়ে যাচ্ছেন। তাই আজ আমি এই সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এ ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি।
নয়াবিল-২ জলমহালের খাস-কালেকশনে ইজারাপ্রাপ্ত ইজারাদার মো.শামীম মিয়া বলেন, আমি জলমহালটি খাস-কালেকশনে ইজারা পাওয়ার পর সেটি জহিরুল নামে স্থানীয় এক ব্যক্তির কাছে বিক্রি করে দিয়েছি। তবে উচ্চ আদালতের স্থগিতাদেশের বিষয়টি আমরা শুনেছি। এ বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
এ ব্যাপারে উপজেলা জলমহাল রক্ষণাবেক্ষণ কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জনি রায় বলেন, এ বিষয়ে খোঁজ নিয়ে দ্রুতই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।








