নেত্রকোনায় আইনবিধি লঙ্ঘন করে সরকারি গাছ কাটার অভিযোগ
শংকর চন্দ্র সরকার, নেত্রকোনা জেলা প্রতিনিধি:
নেত্রকোণার কেন্দুয়ায় সরকারি নিয়ম না মেনে ৫ (পাঁচ) লক্ষ টাকার গাছের কান্ড ও ডালপালা কেটে এবং চুরি করে নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় এক (১) জনের নামোল্লেখ করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। এসআই ইমন পালকে দেয়া হয়েছে মামলার তদন্ত ভার।
উপজেলার মাসকা ইউনিয়ন ভূমি অফিসের সহকারী কর্মকর্তা মো. আব্দুল জলিল (৫৫) বাদী হয়ে গত ২৩ নভেম্বর রেজাউল হাসান ভূঞা ওরফে সুমনসহ অজ্ঞাতনামা ৩/৪ জনের বিরুদ্ধে এ মামলা দায়ের করেন।
অভিযোগে বলা হয়েছে মাসকা ইউনিয়নের দিগলী গ্রামের কাঁচা রাস্তার পাশে প্রায় ২০ (বিশ) বছর পূর্বে বিভিন্ন প্রজাতির গাছ রোপণ করা হয়। এবং রাস্তাটি সরকারি ১নং খাস খতিয়ানভুক্ত হওয়ায় গাছগুলোর মালিকানা গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের,যার বিআরএস দাগ নং-৬৭৯। উক্ত রাস্তার দু’পাশে পাকা করার কাজটি মোহাম্মদ ইউনুস এন্ড ব্রাদার্স প্রাঃ লি. নামক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের পক্ষে তদারককারী হিসেবে দায়িত্ব পান রেজাউল হাসান ভূঞা ওরফে সুমন।
গত ১৮ নভেম্বর সকাল অনুমান ১০ টা হতে সন্ধ্যা অনুমান ৬টা পর্যন্ত সময়ে কোনরূপ লিখিত সরকারি অনুমতি ব্যতিরেকে সম্পূর্ণ অবৈধভাবে সরকারি মালিকানাধীন ৩১টি বিভিন্ন প্রজাতীর গাছ কেটে বন,পরিবেশ ও জীব বৈচিত্রের ক্ষতি সাধন করে এবং আনুমানিক মূল্য-৫ (পাঁচ) লক্ষ টাকা গাছের কান্ড ও ডালপালা চুরি করে নিয়ে যায় বিবাদী রেজাউল হাসান ভূঞা ওরফে সুমন।এক পর্যায়ে স্থানীয়দের দেখানো মতে শিমুলতলা বাজারে রাখা গাছের ৩৯টি কান্ড উদ্ধার করা হয়।যার আনুমানিক মূল্য ২ (দুই) লক্ষ টাকা।পরবর্তীতে গত ২০ নভেম্বর আনসার সদস্য ও বন বিভাগসহ স্থানীয় লোকজনদের সহায়তায় উদ্ধারকৃত গাছের গুড়িগুলোর সংরক্ষন ও নিরাপত্তার স্বার্থে আনসার সদস্য রাজু আহম্মেদের জিম্মায় উপজেলা নির্বাহী কার্যালয় প্রাঙ্গনে রাখা হয় ।
অভিযুক্ত রেজাউল হাসান ভূঁইয়া সুমন এর আগে সাংবাদিকদের বলেছিলেন, রাস্তা প্রশস্ত ও পাকা করার জন্য নিজ খরচে গাছগুলো কেটে ছিলেন । নির্মাণ কাজের সময়সীমা কম থাকায় দ্রুত গাছ কাটতে হয়েছে এবং স্থানীয়দের সাথে আলাপ- আলোচনা করেই গাছগুলো কাটার পর সব এক জায়গায় রাখা হয়।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইমদাদুল হক তালুকদার মুঠোফোনে জানান,ইতিমধ্যে সহকারী কমিশনার (ভূমি)কে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছিলো।তিন দিনের ভেতর প্রতিবেদন দেয়ার কথা থাকলেও সহকারী কমিশনার (ভূমি)’র পরীক্ষা সংক্রান্ত ব্যস্ততায় সম্ভব হয়নি।
এ ব্যাপারে কেন্দুয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মিজানুর রহমান মুঠোফোনে বলেন,অভিযোগ পেয়েছি।তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।








