সোমবার, ০২ মার্চ ২০২৬, ০১:৫৮ অপরাহ্ন
শিরোনাম
তৃণমূল থেকে উঠে আসা এক আদর্শিক নেতা: তাড়াশের রাজনীতিতে মো. সোলাইমান হোসেন সিহাব স্বাধীনতার প্রথম সূর্যোদয়: যে কক্ষে রচিত হয়েছিল বাংলাদেশের পতাকার নকশা কুষ্টিয়ায় লালন আঁখড়াবাড়ীতে দোল পুর্ণিমা উৎসবের প্রস্তুতি সম্পন্ন  কুষ্টিয়ার মিরপুরে সংসদ সদস্যের সাথে সরকারি কর্মকর্তাদের মতবিনিময়  কুষ্টিয়ায় ট্রেনের নিচে পড়ে মোটরসাইকেল আরোহী নিহত  অভিযোগ ও সংবাদ প্রকাশের পরে তাড়াশ সদর ইউনিয়ন ভূমি উপসহকারী মোঃ আরিফুল ইসলাম পলাশকে শাস্তিমূলক বদলি কমলনগরে নদী কেড়েছে ভিটেমাটি, কাড়তে পারেনি ভালোবাসা: চর কালকিনিতে মাস্টার সাইফুল্লাহর ৩৩ বছরের আস্থার প্রতিচ্ছবি কুষ্টিয়ায় জিকে ক্যানেল থেকে নিখোঁজ শিশুর মরদেহ উদ্ধার পিআরও হিসেবে সাংবাদিক নিয়োগের প্রস্তাব সচিবালয়ে জমা   আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করায় তিন ভাই গ্রেপ্তার 

তাড়াশে ২৭টি করাতকলের ২৬টিই অবৈধ: উপেক্ষিত আইন, উজাড় হচ্ছে বন

Reporter Name / ৬৭ Time View
Update : শুক্রবার, ৭ নভেম্বর, ২০২৫

ফিরোজ আল আমিন

নিজস্ব প্রতিনিধি:

সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলায় আইনের তোয়াক্কা না করে ২৭টি করাতকলের মধ্যে ২৬টিই চলছে লাইসেন্সবিহীনভাবে। বছরের পর বছর ধরে সরকারি বিধিবিধান উপেক্ষা করে এসব অবৈধ করাতকল পরিচালিত হওয়ায় সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে এবং মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে পরিবেশ।”করাতকল বিধিমালা ২০১২” অনুযায়ী, লাইসেন্স ছাড়া কোনো করাতকল স্থাপন ও পরিচালনা করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এছাড়াও, সংরক্ষিত বনাঞ্চলের ১০ কিলোমিটারের মধ্যে করাতকল স্থাপন না করা এবং সূর্যাস্তের পর থেকে সূর্যোদয়ের আগ পর্যন্ত করাতকল বন্ধ রাখার মতো সুস্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে। কিন্তু তাড়াশের বাস্তবতা ভিন্ন। অভিযোগ উঠেছে, স্থানীয় বন বিভাগের কর্মকর্তাদের “ম্যানেজ” করেই এসব অবৈধ করাতকল পরিচালিত হচ্ছে।সরেজমিনে দেখা যায়, তাড়াশের ভাসানী মোড়, পৌর সদরের মাদ্রাসা রোড এবং খালকুলাসহ বিভিন্ন এলাকায় এসব করাতকল গড়ে উঠেছে। এর মধ্যে মাদ্রাসা রোডের তিনটি করাতকল সরকারি খাস জমি ও সড়কের জায়গা দখল করে স্থাপন করা হয়েছে। এমনকি দেশিগ্রাম ও খালকুলা এলাকায় মসজিদ, মাদ্রাসা ও বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাশে করাতকল স্থাপন করায় পরিবেশ দূষিত হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন নওগাঁ এলাকার বাসিন্দা নাজমুল হক। এসব করাতকলের কোনোটিতেই পরিবেশগত নিয়ম, যেমন—চারপাশে বেড়া দেওয়া বা কাঠের গুঁড়া নিয়ন্ত্রণের জন্য যান্ত্রিক ব্যবস্থা, মানা হচ্ছে না।তাড়াশের বাসিন্দা আয়নাল হকের অভিযোগ, বন বিভাগের কর্মকর্তাদের নিষ্ক্রিয়তার সুযোগ নিয়ে মালিকরা ১৫ থেকে ৩৫ বছর ধরে অবৈধভাবে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন। তিনি আরও জানান, উপজেলার প্রায় ৮০ শতাংশ করাতকলই শ্যালো মেশিন দিয়ে চালানো হয়, যা শব্দ দূষণ ঘটায় এবং সামাজিক বনায়নের গাছপালা উজাড় করতে উৎসাহিত করে। দিনরাত এসব করাতকলে অপরিপক্ব গাছ কাটা হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বছরের পর বছর ধরে না দেখার ভান করছে।এই বিষয়ে তাড়াশ বন বিভাগের রেকর্ডেও নিষ্ক্রিয়তার চিত্র স্পষ্ট। গত দুই দশকে মাত্র একটি অবৈধ করাতকলের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের তথ্য পাওয়া গেছে। এছাড়া ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে কোনো জরিমানা বা সাজার নজিরও নেই বললেই চলে।এ প্রসঙ্গে তাড়াশ উপজেলা বন কর্মকর্তা মো. আশেক আলী বলেন, “আমি এই উপজেলায় মাস দুয়েক হলো যোগদান করেছি। আমি কাজগুলো গুছিয়ে নিয়ে অবৈধ ও লাইসেন্সবিহীন করাতকলগুলোর বিরুদ্ধে শীঘ্রই অভিযানে নামব। এলাকাবাসীর দাবি, শুধু আশ্বাস নয়, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপের মাধ্যমে অবৈধ করাতকলগুলো বন্ধ করে সরকারি রাজস্ব আদায় নিশ্চিত এবং পরিবেশ রক্ষা করা হোক।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
এক ক্লিকে বিভাগের খবর