স্বপ্ন বাঁচাতে কৃষকের লড়াই: বৃষ্টিতে ভাসছে সিরাজগঞ্জের ফসলের মাঠ
ফিরোজ আল আমিন
নিজস্ব প্রতিনিধি:
টানা বর্ষণ ও আকস্মিক দমকা হাওয়ায় সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার কৃষকের স্বপ্ন এখন पाण्या নিচে। উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকার রোপা আমন ধান ও শীতকালীন সবজির ব্যাপক ক্ষতিতে হাজারো কৃষক দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। সোনালি ফসল ঘরে তোলার ঠিক আগ মুহূর্তে এমন দুর্যোগে কৃষকদের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে।সোমবার (৩ নভেম্বর) উপজেলার ধামাইনগর, সোনাখাঁড়া, পাঙ্গাশী, ধুবিল, চান্দাইকোনা ও নলকা ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে দেখা যায় এক বিপর্যয়কর চিত্র। মাঠের পর মাঠজুড়ে সোনালি ধানগাছ বাতাসে নুয়ে পড়েছে, আর নিচু এলাকাগুলোর ফসল তলিয়ে গেছে পানিতে। অনেক জায়গায় গাছের গোড়া পচে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। শুধু ধানই নয়, ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বেগুন, মরিচ, লাউসহ অন্যান্য শাকসবজির খেতও।
এমন পরিস্থিতিতে কৃষকেরা শেষ চেষ্টা হিসেবে মাঠে নেমেছেন। তারা পানিতে নুয়ে পড়া ধানগাছগুলো আঁটি বেঁধে দাঁড় করিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছেন, যাতে ফসল পচনের হাত থেকে বাঁচানো যায়।
ধামাইনগর ইউনিয়নের ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক আব্দুল হামিদ কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “এক বিঘা জমির ধান লাগিয়েছিলাম। সবটুকু এখন পানির নিচে। কীভাবে বউ-বাচ্চা নিয়ে বাঁচব, ভেবে পাচ্ছি না।” আরেক কৃষক সাইফুল ইসলাম বলেন, “আর দু-এক দিনের মধ্যে পানি না নামলে শুধু ধান নয়, পাশের সবজি খেতও পচে শেষ হয়ে যাবে।রায়গঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মমিনুল ইসলাম জানিয়েছেন, প্রাথমিক হিসাবে প্রায় ১২০ হেক্টর জমির রোপা আমন ধান এবং ৬ হেক্টর জমির সবজি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তিনি বলেন, “আমরা ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মাঠে গিয়ে পরামর্শ দিচ্ছি। পড়ে যাওয়া ধানগাছগুলো গুচ্ছ করে বেঁধে দিলে ক্ষতি কিছুটা কমানো সম্ভব। ক্ষয়ক্ষতির চূড়ান্ত তালিকা প্রস্তুত করে দ্রুত ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে।কৃষকদের আশা, দ্রুত রোদ উঠলে এবং মাঠ থেকে পানি নেমে গেলে হয়তো তাদের কষ্টের ফসল কিছুটা হলেও রক্ষা পাবে।








