ময়মনসিংহে জমি দখলকে কেন্দ্র করে সন্ত্রাসী হামলা, ভাঙচুর ও হুমকির অভিযোগ
গোলাম কিবরিয়া পলাশ, ব্যুরো প্রধান, ময়মনসিংহঃ
ময়মনসিংহ শহরের মধ্যবাড়েরা এলাকায় পৈত্রিক সম্পত্তি দখলকে কেন্দ্র করে দুঃসাহসিক সন্ত্রাসী হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। ঘটনাটি ঘটে বৃহস্পতিবার (৩০ অক্টোবর) বিকেল ৪টার দিকে। এ ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মনজুরুল ইসলামের পুত্র মোঃ শফিকুল ইসলামের নিজ দখলীয় পৈত্রিক ১৭ শতাংশ জমির উপর নির্মাণাধীন টিনশেড ঘরে হামলা চালায় একদল সন্ত্রাসী। অভিযুক্তরা সুলতানের নেতৃত্বে তিনটি মোটরসাইকেলে করে এসে দা, চাপাতি ও চাইনিজ কুড়ালসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ঘরের টিনের বেড়া কুপিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর চালায় এবং ভাড়াটিয়াদের ভীতি প্রদর্শন করে চলে যেতে বলে।
ভুক্তভোগী শফিকুল ইসলাম জানান, সুলতান, রাজিব, শহিদুল ইসলাম, মোতালেব হোসেন, আবু কাউসার বাপ্পীসহ আরও ৫-৬ জন সন্ত্রাসী দীর্ঘদিন ধরে তার পরিবারের উপর জমি দখলের ষড়যন্ত্র চালিয়ে আসছে। তারা আর্থিক সুবিধা আদায়ের জন্য নিয়মিত হুমকি দিচ্ছিল এবং ঐদিন তা বাস্তবায়নের চেষ্টা করে।
তিনি আরও জানান, ময়মনসিংহ শহরের বাড়েরা মৌজার খতিয়ান নং ১৮৪, দাগ নং ৩৮০৮, ৩৮০৯, ৩৮৫৬-এর মোট ৬৮ শতাংশ জমি তাদের পৈত্রিক সম্পত্তি। ঐ জমিতে তারা একটি টিনশেড ঘর নির্মাণ করে গত তিন বছর ধরে একাধিক পরিবারকে ভাড়া দিয়েছেন। কিন্তু সন্ত্রাসীরা জোরপূর্বক উক্ত জমি দখলের চেষ্টা করছে এবং ভাড়াটিয়াদের খুন-জখমের ভয়ভীতি দেখিয়ে উচ্ছেদের হুমকি দিচ্ছে।
সরেজমিনে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গিয়ে দেখা যায়, হামলার কারণে ঘরের টিনের বেড়ায় কাটার দাগ ও ভাঙচুরের চিহ্ন স্পষ্ট। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বৃহস্পতিবার বিকালে সুলতানের নেতৃত্বে সন্ত্রাসীরা এলাকায় প্রবেশ করে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে, টিনের বেড়া কুপিয়ে ভাড়াটিয়াদের চলে যেতে বলে এবং শফিকুল ইসলামের পরিবারকে হত্যা ও গুমের হুমকি দেয়।
এ ঘটনায় মোঃ শফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে কোতোয়ালী মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
কোতোয়ালী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ শিবিরুল ইসলাম বলেন, ঘটনার বিষয়ে অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে, দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অন্যদিকে, অভিযুক্ত সুলতান ও তার সহযোগীদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কাউকে পাওয়া যায়নি। এলাকাবাসী জানান, তারা খুবই ভয়ংকর প্রকৃতির লোক। এরা যেকোনো সময় বড় ধরনের অঘটন ঘটাতে পারে। ঘটনার পর থেকে এলাকাজুড়ে উত্তেজনা বিরাজ করছে, তবে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার আশ্বাস দিয়েছে।








