বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ০২:০৬ অপরাহ্ন
শিরোনাম
লংগদুতে নেটওয়ার্ক ও বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন দূর্গম ভোটকেন্দ্র সমূহ পরিদর্শনে ইউএনও  মোহনগঞ্জে বসতবাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের প্রতিবাদে ভুক্তভোগী সংবাদ সম্মেলন রায়গঞ্জে ট্রাক চাপায় বৃদ্ধার মৃত্যু  খাগড়াছড়িতে ইয়াকুব আলী চৌধুরীকে হত্যার চেষ্টা নিন্দা ও প্রতিবাদ সিএইচটির খাগড়াছড়িতে সাংবাদিকদের নির্বাচনকালীন সাংবাদিকতা বিষয়ক প্রশিক্ষণ এনসিপি নেতার আবেদনে সিংড়া পৌরসভা পেল ৪০ লক্ষ টাকার বরাদ্দ হাটিকুমরুল প্রেসক্লাবের কমিটি গঠন: সভাপতি জাকির, সম্পাদক মোর্শেদ সিংড়ার গ্রাম-গঞ্জে কম্বল বিতরন করছেন ইউএনও  বারবার একই ব্যক্তির প্রশিক্ষণ, বঞ্চিত অভিজ্ঞ সাংবাদিকরা : বাংলাদেশ প্রেস ইনস্টিটিউটের প্রশিক্ষণ নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন হাতীবান্ধা সীমান্তে বিজিবি’র নতুন বিওপি উদ্বোধন

সিরাজগঞ্জে ৪ কোটি টাকার সেতু, পারাপারে ভরসা বাঁশের সাঁকো  দুর্ভোগে ২০ গ্রামের লক্ষাধিক মানুষ, ৮ মাসেও হয়নি সংযোগ সড়ক

Reporter Name / ৫৬ Time View
Update : রবিবার, ২ নভেম্বর, ২০২৫

সিরাজগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি:

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে প্রায় চার কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত একটি সেতু এখন এলাকাবাসীর জন্য আশীর্বাদের বদলে চরম দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। নির্মাণের আট মাস পেরিয়ে গেলেও সেতুর দুই পাশে সংযোগ সড়ক (অ্যাপ্রোচ রোড) তৈরি না করায় স্থানীয়দের বাঁশের সাঁকো বেয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। এতে উপজেলার খুকনী, কৈজুরী ও জালালপুর—এই তিনটি ইউনিয়নের প্রায় ২০টি গ্রামের লক্ষাধিক মানুষ অবর্ণনীয় ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) অর্থায়নে ২০২১-২২ অর্থবছরে খুকনী ইউনিয়নের কাইজা বিশ্বনাথপুর পোরাকুম বিলের ওপর ৬০ মিটার দীর্ঘ এই সেতু নির্মাণের জন্য ৩ কোটি ৭৪ লাখ ৮৫ হাজার ৩৭ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স ইউনুস অ্যান্ড ব্রাদার্স প্রাইভেট লিমিটেড কাজটি পেলেও সংযোগ সড়ক নির্মাণ না করেই ফেলে রেখেছে। ফলে এলাকাবাসী নিজ খরচে বাঁশ ও কাঠ দিয়ে সেতুর দুই পাশে প্রায় ২৫ ফুট দীর্ঘ দুটি সাঁকো তৈরি করে নিয়েছেন, যা দিয়ে প্রতিদিন পারাপার হতে গিয়ে প্রায়ই ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা।

সরেজমিনে দেখা যায়, বাইসাইকেল, মোটরসাইকেল ও ভ্যানচালকেরা চরম ঝুঁকি নিয়ে সেতুটি পার হচ্ছেন। ভ্যানচালক হাসেম আলী জানান, মালামাল নিয়ে সেতুর এক প্রান্তে এসে তা মাথায় করে সাঁকো পার করে অন্য প্রান্তের ভ্যানে তুলতে হয়। এতে সময় ও শ্রম দুটোই নষ্ট হয়। আরেক ভ্যানচালক বাবু ভাঙারির মালামাল নিয়ে সাহায্যের অপেক্ষায় বসে ছিলেন, কারণ একা পক্ষে মালামাল পার করা সম্ভব নয়। মোটরসাইকেল আরোহীদেরও ঝুঁকি নিয়ে পার হতে দেখা যায়; একজন চালকের আসনে বসে নিয়ন্ত্রণ রাখেন এবং অন্যজন পেছন থেকে ধরে নামাতে সাহায্য করেন।

ভুক্তভোগী সোলাইমান, ফজলুল করিম ও আজিজুল শেখসহ অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “সেতুটি হওয়ার ৮ মাস পরেও আমরা এর কোনো সুফল পাচ্ছি না।” খুকনী, বিশ্বনাথপুর, সড়াতৈল, রূপসী, সৈয়দপুরসহ আশেপাশের গ্রামের মানুষের ধান, চালসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্য বাজারজাত করতে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। এছাড়া গর্ভবতী মা, শিশু ও জরুরি রোগী হাসপাতালে নেওয়ার ক্ষেত্রে অবর্ণনীয় দুর্ভোগ পোহাতে হয়।ওই প্রকল্পের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপ-সহকারী প্রকৌশলী আমির ফারুক সরকার জানান, ঠিকাদারকে বারবার চিঠি দিয়েও কাজ করানো সম্ভব হচ্ছে না।উপজেলা প্রকৌশলী এএইচএম কামরুল হাসান রনী বলেন, “ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে দ্রুত সংযোগ সড়ক নির্মাণের জন্য চিঠি দেওয়া হয়েছে এবং তাদের বিল আটকে রাখা হয়েছে।” তিনি আরও বলেন, যদি তারা দ্রুত কাজ শুরু না করে, তবে তাদের লাইসেন্সের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং সংযোগ সড়ক নির্মাণের জন্য নতুন করে দরপত্র আহ্বান করা হবে।

এদিকে, শাহজাদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. কামরুজ্জামান দ্রুত সমস্যাটি সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
এক ক্লিকে বিভাগের খবর