কমলনগরে ৬ষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী ধর্ষণের অভিযোগ, বিএনপি নেতার ধামাচাপার চেষ্টা
মোখলেছুর রহমান ধনু
রামগতি-কমলনগর (লক্ষ্মীপুর) প্রতিনিধি
লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে প্রেমের ফাঁদে ফেলে ষষ্ঠ শ্রেণির এক ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে রহিম (২৫) নামে এক যুবকের বিরুদ্ধে। পরে বিয়ে পড়ানোর নামে ধর্ষণের ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করে তোরাবগঞ্জ ইউনিয়নের বিএনপি নেতা আবদুশ শহীদ। বুধবার (২৯ অক্টোবর) রাতে এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত রহিম তোরাবগঞ্জ ইউনিয়নের বাইন্না বাড়ির রফিকের ছেলে। ঘটনার পর সে পালিয়ে যায়।
এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। দ্রুত ধর্ষক ও সহযোগীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
রাত সাড়ে ১১টার দিকে সরেজমিনে গেলে ভুক্তভোগী ছাত্রী জানায়, গত রমজান মাসে রহিম প্রথমে তার মোবাইল ফোনে যোগাযোগ শুরু করে। ধীরে ধীরে তাদের মধ্যে সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বিভিন্ন স্থানে একাধিকবার তাকে ঘুরতে নিয়ে যান রহিম।
ঘটনার দিন বুধবার দুপুরে রহিম বিয়ের প্রলোভনে তাকে লক্ষ্মীপুরে তার এক আত্মীয়ের বাসায় ডেকে নেয়। সেখানে জোরপূর্বক শারীরিক সম্পর্ক করে। পরে রাত পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে ঘোরানোর পর বাড়ির কাছে এনে পালিয়ে যায় সে।
স্থানীয় সূত্রে আরো জানা যায়, রাতে মেয়েটি রহিমের বাড়িতে গিয়ে আশ্রয় নেয়। অভিযুক্তের বাবা রফিক স্থানীয় বিএনপি নেতা শহিদের সহযোগিতায় ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে নানা চেষ্টা চালান। রাত ১২টা পর্যন্ত চলে নাটকীয়তা। জন্মনিবন্ধন ও জাতীয় পরিচয়পত্র না থাকলেও ভুয়া কাগজ তৈরি করে কাজী ডেকে বিয়ে পড়ানোর চেষ্টা করেন তারা।
খবর শুনে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলেও ‘বিয়ের প্রস্তুতি চলছে’এমন তথ্য দিয়ে তাদের ফিরিয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ ওঠে।
বিএনপি নেতা আবদুশ শহীদ বলেন, আমি খোঁজ খবর নিয়ে জানতে পারলাম ধর্ষণের ঘটনা ঘটেনি।তবে দুই পরিবারের অভিভাবক আমার কাছে এসেছে।তাদের সম্মতিতে কাজি এনেছি। বিয়ে পড়ানো হবে বলে জানান তিনি।
রহিমের ভাই মো: ইসমাইল জানান,রাতে বিয়ে পড়ানো হইছে তাদের। কাগজপত্র না থাকায় কাবিন পরে রেজিষ্ট্রি করবেন বলে নাম ঠিকানা নিয়েছেন কাজি দেলোয়ার।
তোরাবগঞ্জ ইউনিয়নের নিকাহ ও তালাক রেজিস্ট্রার কাজি মো: দেলোয়ারের মোবাইলে একাধিকবার ফোন করেও পাওয়া যায়নি তাকে।
কমলনগর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো: জাহাঙ্গীর আলম বলেন, রাত ১২ টার দিকে ঘটনাস্থলে গিয়েছি।মেয়ের সাথে কথা বললে মেয়ে ৬ষ্ঠ শ্রেনীতে পড়ে বলে জানান। পরে বিএনপি নেতা আবদুশ শহীদ বিয়ে পড়াবে দায়িত্ব নিয়েছেন বলে জানান তিনি।








