ভিক্ষুকের দুই বস্তায় সোয়া লাখ টাকা, ব্যয় হবে চিকিৎসায়
ফিরোজ আল আমিন
নিজস্ব প্রতিনিধি:
সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার মাছুমপুর নতুনপাড়ার ভিক্ষুক সালেয়া বেগমের দীর্ঘদিনের জমানো দুই বস্তা টাকা গণনা শেষে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। দীর্ঘ ৪০ বছর ধরে ভিক্ষা করে জমিয়ে রাখা এই দুই বস্তায় মোট ১ লাখ ২৬ হাজার টাকা ব্যবহারযোগ্য অবস্থায় পাওয়া গেছে। মানবিক কারণে এই বিপুল পরিমাণ অর্থ তার চিকিৎসার জন্য ব্যয় করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন স্থানীয় গ্রামবাসী ও আত্মীয়-স্বজনরা।
জানা যায়, প্রায় ৬৫ বছর বয়সী সালেয়া বেগম প্রায় চার দশক ধরে সিরাজগঞ্জ শহরে ভিক্ষা করে আসছিলেন। তিনি সিরাজগঞ্জ শহরের কওমি জুট মিলের বারান্দায় বসবাস করতেন এবং এলাকাবাসীর কাছে ‘সালে পাগল’ নামেই বেশি পরিচিত ছিলেন। বস্তা দুটিতে তিনি তার ভিক্ষা করে পাওয়া টাকা ও কয়েন জমিয়ে রাখতেন।
টাকা গণনার কাজটি সম্পন্ন হয় বৃহস্পতিবার (৯ অক্টোবর)। দুপুর ২টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত পাইওনিয়ার কেজি অ্যান্ড হাই স্কুলের পেছনে গ্রামবাসী ও আত্মীয়-স্বজন একত্র হয়ে এই টাকা গোনার দীর্ঘ প্রক্রিয়াটি শেষ করেন।
গণনার পর দেখা যায়, দুই বস্তা নোট ও কয়েনের মধ্যে ১ লাখ ২৬ হাজার টাকা ভালো বা ব্যবহারযোগ্য অবস্থায় রয়েছে। তবে দুঃখের বিষয়, দীর্ঘ সময় ধরে বস্তায় থাকায় বাকি বিপুল পরিমাণ টাকা ও কয়েন পচে নষ্ট হয়ে গেছে এবং তা আর ব্যবহার করা সম্ভব নয়।
সিরাজগঞ্জ পৌরসভার ১নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর শিপু এই প্রসঙ্গে জানান, “পুরো দুই বস্তা টাকা গুনে দেখা গেছে ১ লাখ ২৬ হাজার টাকা ভালো আছে। বাকি টাকাগুলো পচে নষ্ট হয়ে গেছে। এখন গ্রামবাসী ও আত্মীয়দের নিয়ে বসে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যে, এই কষ্টার্জিত টাকাগুলো সালেয়া বেগমের চিকিৎসার কাজে ব্যয় করা হবে।”
ভিক্ষুকের এই বিপুল সঞ্চয় উদ্ধার এবং তা তার চিকিৎসার জন্য ব্যয় করার এই সিদ্ধান্ত এলাকায় এক মানবিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।








