সোনারগাঁও (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে অটোরিকশাচালক আবু জুম্মান সজিবের রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় হত্যার বিচার ও জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছেন নিহতের স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দারা।
শুক্রবার (৭ আগস্ট) দুপুরে উপজেলার কাঁচপুর ইউনিয়নের কাশিপুর এলাকায় এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে নিহতের স্ত্রী, শ্বশুর ও শ্বশুরবাড়ির সদস্যদের বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ তুলে তাদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান স্বজনরা।
এর আগে বৃহস্পতিবার নিহতের মা সেলিনা বেগম বাদী হয়ে সোনারগাঁও থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দেন।
অভিযোগে তিনি দাবি করেন, পারিবারিক কলহের জেরে তার ছেলে আবু জুম্মান সজিবকে নির্যাতন করে হত্যার পর মরদেহ ঘরে ঝুলিয়ে রেখে ঘটনাটিকে আত্মহত্যা হিসেবে প্রচারের চেষ্টা করা হয়েছে। তার অভিযোগ, প্রেমের সম্পর্কের সূত্র ধরে আফসানাকে বিয়ে করেন সজিব। বিয়ের পর থেকেই তাদের মধ্যে দাম্পত্য কলহ চলছিল। এ সময় স্ত্রী আফসানা, তার বাবা নুর হোসেনসহ পরিবারের অন্য সদস্যরা বিভিন্ন সময়ে সজিবকে হুমকি দিতেন।
পুলিশ জানায়, বুধবার সন্ধ্যায় কাঁচপুর ইউনিয়নের কাশিপুর এলাকায় লিটন মিয়ার ভাড়াটিয়া বাসা থেকে আবু জুম্মান সজিবের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ পাঠানো হয়েছে।
মানববন্ধনে নিহতের চাচা নজরুল ইসলাম, মা সেলিনা বেগম, স্থানীয় বাসিন্দা মো. শুভ আহমেদ, লিপি আক্তার ও মো. নাছির উদ্দিন বক্তব্য দেন।
বক্তারা বলেন, সজিবের মৃত্যুর ঘটনায় সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন করতে হবে। একই সঙ্গে অভিযোগের ভিত্তিতে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
নিহতের চাচা নজরুল ইসলাম বলেন, “আমার ভাতিজাকে হত্যা করা হয়েছে। হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। আমরা মামলা করতে চাই। কিন্তু এখন পর্যন্ত শুধু একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) নেওয়া হয়েছে। আমাদের অভিযোগটি মামলা হিসেবে গ্রহণ করার দাবি জানাচ্ছি।”
নিহতের মা সেলিনা বেগম বলেন, “আমার ছেলেকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে বলে আমার বিশ্বাস। এর সঙ্গে তার স্ত্রী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন জড়িত বলে আমি মনে করি। আমি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন এবং দায়ীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানাই।”
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া স্বজনরা বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে হত্যার বিচার দাবি করেন। পরে সেখান থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি কাঁচপুর ইউনিয়নের কাশিপুর এলাকার বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে।
এদিকে, নিহতের স্বজনদের করা অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্বজনদের দাবি, ঘটনার পর তারা এলাকা ছেড়ে চলে গেছেন।
ঘটনাটি নিয়ে পুলিশি তদন্ত ও ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়া গেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে আরও বিস্তারিত জানা যাবে।