গাজীপুরে সাংবাদিক তুহিন হত্যার প্রতিবাদে ময়মনসিংহে বিশাল মানববন্ধন: বিচার দ্রুত শেষ করে ফাঁসি কার্যকরের দাবি
স্টাফ রিপোর্টারঃ
গাজীপুরের দৈনিক প্রতিদিনের কাগজ পত্রিকার সাংবাদিক আসাদুজ্জামান তুহিন হত্যার ঘটনায় ক্ষোভ ও প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে ময়মনসিংহে। আজ শনিবার (৯ আগস্ট ২০২৫) বিকেলে শহরের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সাংবাদিক, সাংস্কৃতিক কর্মী, রাজনৈতিক নেতা ও সাধারণ মানুষ একত্রিত হয়ে এক বিশাল মানববন্ধন করেন।
মানববন্ধনে অংশ নিয়ে বক্তব্য রাখেন, দীপক চন্দ্র দে (সাপ্তাহিক বিশ্ব বাংলা ভিশন), মোহাম্মদ আরিফ রেওগীর (সম্পাদক, সুবর্ণ বাংলা), আব্দুল্লাহ আল আমিন (দৈনিক আমার সংবাদ), মোঃ রেজাউল করিম রেজা (দৈনিক প্রতিদিনের কাগজ), গোলাম কিবরিয়া পলাশ (সাধারণ সম্পাদক ময়মনসিংহ বিভাগীয় সাংবাদিক ইউনিয়ন), সজীব রাজভর বিপিন (সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ প্রেসক্লাব ময়মনসিংহ জেলা), বাবলী আক্তার (নারী সাংবাদিক সংঘ নাসাস), রবিউল আউয়াল (সময়ের কণ্ঠস্বর), মিজানুর রহমান (প্রেস ক্লাব বাংলাদেশ সম্পাদক), আতিকুল ইসলাম সোহান (নববাণী), আমিরুল ইসলাম রাব্বি (সভাপতি, বাংলাদেশ প্রেস ক্লাব ময়মনসিংহ মহানগর)।
এ সময় উপস্থিত থেকে আরো বক্তব্য রাখেন মোঃ বিল্লাল হোসেন মানিক (দৈনিক কাগজের আলো নির্বাহী সম্পাদক), আলমগীর হোসেন (এশিয়ান টিভি সদর প্রতিনিধি), রাজন লাল সরকার (অপরাধ অনুসন্ধান), মোস্তফা (বিশ্ব বাংলা ভিশন), অধ্যাপক আব্দুল করিম (খেলাফত মজলিস ময়মনসিংহ), ময়মনসিংহ মহানগর এহসানুল হক, রহমান, লুৎফুর রহমান (খেলাফত), রবিউল ইসলাম (খেলাফত মজলিস), সোলাইমান (খেলাফতে মসজিদ), শাকিব গোলাম মোস্তফা, নজরুল ইসলাম, সালে আহমেদ, আরিফুল ইসলাম (খেলাফতের ময়মনসিংহ), অপু কাশেম।
আরো উপস্থিত ছিলেন, আমিনুল ইসলাম দপ্তর সম্পাদক ময়মনসিংহ বিভাগীয় সাংবাদিক ইউনিয়ন, ইমতিয়াজ আহমেদ তানসেন (সমাজ রূপান্তর সাংস্কৃতিক সংঘ ময়মনসিংহ), অজিত বণিক (সাংস্কৃতিক কর্মী), মাইনুল ইসলাম (সিনিয়র সাংবাদিক), তানজিল হোসেন মুনিম (সাধারণ সম্পাদক, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট ময়মনসিংহ জেলা শাখা), রাজু খান (সভাপতি, ভিশন নাট্যাঙ্গণ ময়মনসিংহ), খালেদ হাসান (সভাপতি, বাংলাদেশ প্রেসক্লাব ময়মনসিংহ জেলা), আল নাদিম সানি, দ্বীপজয় সরকার (দৈনিক প্রতিদিনের কাগজ), মোঃ সেলিম সাজ্জাদ (কালের কণ্ঠস্বর), আবু সাঈদ (দৈনিক ভোরের অপেক্ষা), ইব্রাহিম খলিল (সাপ্তাহিক সোনালী শীষ), মোহাম্মদ দীন ইসলাম (আজকালের কণ্ঠস্বর), সুলাইমান রাজিব (দৈনিক ভোরের কথা) এবং আরও অনেকে।
বক্তব্যে মূল দাবি: বক্তারা বলেন, গ্রেফতারকৃত অপরাধীদের ফাঁসি নিশ্চিত করতে হবে এবং অতীতের সব সাংবাদিক হত্যার মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি করতে হবে। একই সঙ্গে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও ষড়যন্ত্রমূলক মামলা প্রত্যাহারের আহ্বান জানানো হয়। তারা প্রধান উপদেষ্টার কাছে দাবি জানান, সাংবাদিক তুহিন হত্যার বিচার দ্রুত ট্রাইব্যুনালে সম্পন্ন করে রায় কার্যকর করতে হবে। বক্তারা সতর্ক করে দেন, সাংবাদিকদের উপর হামলা বন্ধ না হলে দেশের গণতন্ত্র ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
মোহাম্মদ আরিফ রেওগীর বলেন, মুক্তিযোদ্ধা সার্টিফিকেট দিয়ে সরকারি সম্পত্তি বিক্রি নিয়ে নিউজ করার পর তার নামে মিথ্যা মামলা হয়েছে, অথচ ন্যায়বিচার পাননি। মোঃ বিল্লাল হোসেন মানিক বলেন, “আজ শুধু তুহিন নয়, সত্যেরও মৃত্যু হয়েছে। সাহসী সাংবাদিক রক্ষায় আইন প্রণয়ন করে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে, নইলে এ বাংলায় সাহসী সাংবাদিক জন্মাবে না।” মানববন্ধন শেষে সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ হুঁশিয়ারি দেন—যদি দ্রুত বিচার ও ফাঁসি কার্যকর না হয়, তাহলে দেশের সাংবাদিক সমাজ আরও কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবে।
ময়মনসিংহ বিভাগীয় সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক গোলাম কিবরিয়া পলাশ বলেন, যেহেতু আসামিরা খুনের দায় স্বীকার করেছে। আসামিদের ৯০ দিনের মধ্যে ফাঁসি কার্যকর করতে হবে। এ ছাড়াও তুহিনকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা সহ এই দিনটিকে স্বরণীয় রাখতে বিশেষ দিন হিসাবে বিবেচিত করতে হবে। তাছাড়া সাংবাদিক তুহিন এর পরিবারকে সরকারি ভাবে আর্থিক সহযোগিতা করতে হবে। নিহত তুহিন এর দুটি সন্তানকে উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত করতে সরকারি সহযোগিতা করতে হবে।
সবশেষে বিশেষ বক্তব্যে সম্পাদক সিনিয়র সাংবাদিক দীপকচন্দ্র দে বলেন, তুহিন হত্যার বিচার দ্রুত করতে হবে। তুহিন এর পরিবারকে আর্থিক প্রণোদনা দিতে হবে। এ ছাড়াও বিশেষ বক্তব্য দীপক চন্দ্র দে বলেন, ফুলবাড়িয়ার একটি মসজিদের জমি নিয়ে দুর্নীতির রিপোর্টের পরও কেন সুরাহা হলো না, সে বিষয়ে প্রশ্ন তোলেন এবং সরকারি আমলাতান্ত্রিক জটিলতা দূর করার আহ্বান জানান।








