মো. শাহ আলম, সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি
সিরাজগঞ্জে দেশের ঐতিহ্যবাহী তাঁতশিল্পের উন্নয়ন, দক্ষ জনশক্তি তৈরি এবং নতুন উদ্যোক্তা গড়ে তোলার লক্ষ্যে আধুনিক তাঁত প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ও বেসিক সেন্টার উদ্বোধন করা হয়েছে।
শনিবার (১৮ জুলাই) জমকালো আয়োজনের মধ্য দিয়ে কেন্দ্রটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। “দেশীয় পণ্য কিনে হই ধন্য”—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তাঁতশিল্প সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি, সরকারি কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের উপস্থিতিতে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সচিব শরফ উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও সিরাজগঞ্জের কৃতী সন্তান ইকবাল হাসান মাহমুদ এমপি। বিশেষ অতিথি ছিলেন বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. শরিফুল আলম এমপি।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন সিরাজগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. আমিনুল ইসলাম, জেলা পুলিশ সুপার মো. সাইফুল ইসলাম সান্তু, বিপিএম (বার), জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. ছাইদুর রহমান বাচ্চু, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, তাঁতশিল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নারী-পুরুষ, বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, একসময় তাঁতশিল্পে সমৃদ্ধ ছিল সিরাজগঞ্জ। এখানকার জামদানি, কাতান, বেনারসি, সিল্ক, লুঙ্গি ও গামছাসহ বিভিন্ন উন্নতমানের কাপড় দেশ-বিদেশে ব্যাপক সুনাম অর্জন করেছিল। নানা প্রতিকূলতার কারণে বর্তমানে এই শিল্প সংকটের মুখে পড়েছে। তবে সরকারের যথাযথ সহযোগিতা, আধুনিক প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে তাঁতশিল্পকে আবারও তার হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনা সম্ভব।
তিনি বলেন, নতুন এই প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের মাধ্যমে প্রান্তিক পর্যায়ের তাঁতি নারী-পুরুষদের আধুনিক প্রশিক্ষণ দিয়ে দক্ষ উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলা হবে। এতে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে, উৎপাদিত পণ্যের গুণগত মান বৃদ্ধি পাবে এবং দেশের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি বিদেশেও রপ্তানি বৃদ্ধি পাবে।
অনুষ্ঠানে বক্তারা জানান, সিরাজগঞ্জ সদর, শাহজাদপুর, বেলকুচি, এনায়েতপুর, সোহাগপুর, তামাই, বেজগতি, কাজিপুর, রায়গঞ্জের পাঙ্গাসী, ধানগড়া ও উল্লাপাড়াসহ জেলার বিভিন্ন তাঁতপল্লী এখনও উন্নতমানের তাঁতবস্ত্র উৎপাদনের জন্য পরিচিত। এসব অঞ্চলের তাঁতশিল্পকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সরকারি সহযোগিতা, আধুনিক প্রযুক্তি, প্রশিক্ষণ এবং সহজ শর্তে ব্যাংক ঋণের ব্যবস্থা করা হবে।
বক্তারা আরও বলেন, উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত সিরাজগঞ্জে শিল্পায়ন, দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং উদ্যোক্তা সৃষ্টি করা গেলে জেলার অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে এবং তাঁতশিল্প আবারও জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে সক্ষম হবে।
শেষে উপস্থিত সকলের সুস্বাস্থ্য, কল্যাণ ও দেশের সমৃদ্ধি কামনা করে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।