মোখলেছুর রহমান ধনু
রামগতি-কমলনগর (লক্ষ্মীপুর) প্রতিনিধি
লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার চর কাদিরা ও তোরাবগঞ্জ ইউনিয়নের সংযোগকারী গুরুত্বপূর্ণ ‘দোপা সড়ক’ দীর্ঘ প্রায় ২৫ বছর ধরে সংস্কারের অভাবে বেহাল অবস্থায় পড়ে রয়েছে। প্রায় ৫ কিলোমিটার দীর্ঘ ইটের সড়কটির অধিকাংশ অংশ ভেঙে গিয়ে সৃষ্টি হয়েছে অসংখ্য খানাখন্দ। সামান্য বৃষ্টিতেই সড়কটি কাদায় পরিণত হয়ে যানবাহন ও পথচারীদের চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। ফলে প্রতিদিন চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন কয়েক হাজার মানুষ।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ‘হোন্নার বাপের সমাজ’ থেকে শুরু করে ‘জমাদার সমাজ’ হয়ে ‘সদাগর রাস্তার মাথা’ পর্যন্ত বিস্তৃত এই সড়কটি চর কাদিরা ও তোরাবগঞ্জ ইউনিয়নের মানুষের জন্য অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ মাধ্যম। প্রতিদিন শিক্ষার্থী, কৃষক, ব্যবসায়ী, চাকরিজীবীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার হাজারো মানুষ এই সড়ক ব্যবহার করেন। কিন্তু দীর্ঘদিন কোনো সংস্কার না হওয়ায় ইটের সলিং উঠে গিয়ে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এতে প্রতিনিয়ত ছোট-বড় দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা নুরুল ইসলাম বলেন, “আমাদের কষ্টের কোনো শেষ নেই। রাস্তাটির যে অবস্থা, তাতে হাটে-বাজারে যাতায়াত করাও কঠিন হয়ে পড়েছে। জরুরি প্রয়োজনে রোগীকে হাসপাতালে নেওয়াও প্রায় অসম্ভব হয়ে যায়।”
স্থানীয় ২ নম্বর ওয়ার্ডের সম্ভাব্য মেম্বার প্রার্থী রুবেল হোসেন বলেন, “এই রাস্তায় চলাচল করা এখন অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। বিশেষ করে স্কুল-কলেজের কোমলমতি শিক্ষার্থীরা প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে। দ্রুত সংস্কার না হলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।”
চর কাদিরা ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি ও সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী আকরাম হোসেন শাহেদ হাওলাদার জানান, “সড়কটি সাবেক এমপি ও বর্তমান জাতীয় সংসদের হুইপ আশরাফ উদ্দিন নিজান নির্মাণ করেছিলেন। দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় এটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। ইতোমধ্যে সড়কটি পাকাকরণের জন্য তালিকা পাঠানো হয়েছে। আশা করছি, শিগগিরই সংস্কার কাজ শুরু হবে।”
এ বিষয়ে কমলনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাহাত উজ জামান বলেন, “সড়কটির বেহাল অবস্থার বিষয়টি আমাদের নজরে রয়েছে। আগামী সরকারি উন্নয়ন প্রকল্প থেকে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ পাওয়ার পর সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হবে।”
এলাকাবাসীর অভিযোগ, বছরের পর বছর ধরে শুধু আশ্বাস মিললেও দৃশ্যমান কোনো সংস্কার হয়নি। তাই আর বিলম্ব না করে শিক্ষার্থী, রোগী ও সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে দ্রুত সড়কটি সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন তারা। তাদের প্রত্যাশা, দীর্ঘ ২৫ বছরের অবহেলার অবসান ঘটিয়ে দ্রুত দোপা সড়কটি পাকা করা হবে।