ফিরোজ আল আমিন
নিজস্ব প্রতিনিধি:
সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার চান্দাইকোনা ইউনিয়নের সরাইদহ এলাকায় করতোয়া নদীর ওপর দীর্ঘদিনের জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ বাঁশের সাঁকোটি অবশেষে সংস্কার করা হয়েছে। স্থানীয় মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ তুলে ধরে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর বিষয়টি সংশ্লিষ্টদের নজরে আসে। এরপর স্থানীয় উদ্যোগ ও জনসাধারণের সহযোগিতায় সাঁকোটির সংস্কার সম্পন্ন হওয়ায় আশপাশের অন্তত ১০ গ্রামের কয়েক হাজার মানুষের স্বস্তি ফিরেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সরাইদহ, লক্ষ্মীকোলা, খোকশাহাট, পাইকোরা ও আশপাশের আরও কয়েকটি গ্রামের মানুষ প্রতিদিন শিক্ষা, চিকিৎসা, কৃষিপণ্য পরিবহন এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় কাজে এই সাঁকো ব্যবহার করেন। স্থায়ী সেতু না থাকায় এলাকাবাসী নিজেদের উদ্যোগে কয়েক বছর আগে বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করেছিলেন। কিন্তু সময়ের ব্যবধানে সাঁকোটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়লে জীবনের ঝুঁকি নিয়েই চলাচল করতে হতো সাধারণ মানুষকে।
এ অবস্থায় গত এপ্রিল মাসে জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত এক সচিত্র প্রতিবেদনে স্বাধীনতার দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও এলাকায় একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণ না হওয়ায় স্থানীয়দের দুর্ভোগের চিত্র তুলে ধরা হয়। সংবাদটি প্রকাশের পর সামাজিকভাবে বিষয়টি ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয় এবং দ্রুত সাঁকো সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়।
জানা গেছে, চান্দাইকোনা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মো. তরিকুল ইসলাম নিজস্ব অর্থায়ন ও স্থানীয়দের সহযোগিতায় ক্ষতিগ্রস্ত অংশে নতুন বাঁশ সংযোজন, খুঁটি মেরামত এবং চলাচলের উপযোগী করে সাঁকোটির সংস্কার সম্পন্ন করেন। স্বেচ্ছাসেবক ও গ্রামবাসীর সম্মিলিত অংশগ্রহণে অল্প সময়ের মধ্যেই সংস্কারকাজ শেষ হয়।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সংস্কারের ফলে বর্তমানে শিক্ষার্থী, কৃষক, ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের চলাচল অনেকটা নিরাপদ হয়েছে। তবে বর্ষা মৌসুমে বাঁশের সাঁকোটি আবারও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই সাময়িক সংস্কারে সন্তুষ্ট হলেও তারা দ্রুত করতোয়া নদীর ওপর একটি টেকসই পাকা সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন।
সংস্কারকাজের উদ্যোক্তা মো. তরিকুল ইসলাম বলেন, “গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের মাধ্যমে এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের কষ্ট সবার সামনে উঠে আসে। এরপর স্থানীয়দের সহযোগিতা নিয়ে আমরা দ্রুত সাঁকোটি সংস্কার করেছি। তবে এটি স্থায়ী সমাধান নয়। এলাকাবাসীর স্বার্থে দ্রুত একটি পাকা সেতু নির্মাণ করা জরুরি।”
এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টির গুরুত্ব বিবেচনা করে করতোয়া নদীর ওপর একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। তাহলে দীর্ঘদিনের ভোগান্তির স্থায়ী অবসান ঘটবে এবং এলাকার শিক্ষা, কৃষি ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড আরও গতিশীল হবে।