মোখলেছুর রহমান ধনু
রামগতি- কমলনগর (লক্ষ্মীপুর) প্রতিনিধি
লক্ষ্মীপুরের রামগতিতে স্বামীর নির্যাতনের শিকার হয়ে আইনি প্রক্রিয়ায় তালাক দেওয়ার মাত্র দুই মাসের মাথায় প্রেমিকের সঙ্গে নতুন সংসার শুরু করেছেন প্রিয়া আক্তার (১৮) নামের এক গৃহবধূ। এফিডেভিটের মাধ্যমে এ বিয়ে সম্পন্ন হয়।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত ১৮ জুন ২০২৬ তারিখে নোয়াখালী জেলার সুবর্ণচর উপজেলার মো. রিপনের ছেলে মো. ইউসুফ আলীর সঙ্গে শরিয়ত মোতাবেক বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন প্রিয়া আক্তার। তবে বিয়ের পর থেকেই স্বামীর অবহেলা ও নিয়মিত নির্যাতনের কারণে তাদের মধ্যে চরম অসন্তোষ তৈরি হয়। সব সহ্যসীমা ছাড়িয়ে গেলে গত ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে এফিডেভিটের মাধ্যমে স্বেচ্ছায় ও সজ্ঞানে স্বামীকে তিন তালাক দিয়ে বৈবাহিক সম্পর্ক ছিন্ন করেন প্রিয়া।
বিচ্ছেদের কিছুদিন যেতে না যেতেই একই এলাকার মো. হৃদয় হোসেন মিরাজের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়ান ওই গৃহবধূ। হৃদয় হোসেন মিরাজ রামগতি উপজেলার পূর্ব চর কলাকোপা গ্রামের মো. গিয়াস উদ্দিনের ছেলে এবং প্রিয়া আক্তার একই এলাকার আব্দুর রহিমের মেয়ে। দীর্ঘদিন পরিচিতি ও প্রেমের সম্পর্কের জেরে উভয়ের সম্মতিতে গত ৫ নভেম্বর ২০২৬ তারিখে নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে যৌথ এফিডেভিট সম্পন্ন করে তারা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। নবদম্পতি তাদের নতুন জীবনের পথচলায় সকলের কাছে দোয়া প্রার্থনা করেছেন।
এ বিষয়ে গৃহবধূ প্রিয়া আক্তার বলেন, আমি দুই মাস আগেই ইউসুফকে নোটারির মাধ্যমে তালাক দিয়েছি এবং স্বেচ্ছায় ও আইনিভাবেই হৃদয় হোসেন মিরাজকে বিয়ে করেছি।
তবে প্রথম স্বামী ইউসুফ আলী অভিযোগ করে বলেন, আমার স্ত্রীকে মো. হৃদয় হোসেন মিরাজ জোর করে আমার থেকে নিয়ে গেছে। তাছাড়া হৃদয়ের আগের একটি স্ত্রীও রয়েছে।
অন্যদিকে, প্রথম স্বামীর অভিযোগ অস্বীকার করে মো. হৃদয় হোসেন মিরাজ বলেন, আমি জোর করিনি, প্রিয়া আইনিভাবেই আমার সঙ্গে বিয়ে বসেছে। তবে তার আগের স্ত্রীর বিষয়টি তিনি এড়িয়ে যান।