লংগদুতে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে পাহাড়ি সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের হামলায় আহত গুরুতর আহত এক, প্রাণ নাশের হুমকি
মোঃ এরশাদ আলী, লংগদু প্রতিনিধি :
পাহাড়ের সশস্ত্র সন্ত্রাসী গ্রুপ গুলোর বিস্তৃতি ক্রমশ বেড়েই চলেছে। সম্প্রতি রাঙ্গামাটির লংগদু উপজেলার বগাচতর ইউনিয়নের রাঙ্গিপাড়া (হেলিপ্যাড) এলাকায় ভূমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে পাহাড়ের সশস্ত্র সন্ত্রাসী বাহিনী কর্তৃক গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে আল আমিন (৩৩)। তাকে প্রাণনাশের হুমকিও প্রদান করা হয়েছে। সে উপজেলার বগাচতর ইউনিয়নের রাঙ্গিপাড়া(হেলিপ্যাড) এলাকার মজনু মিয়ার ছেলে।
১৬জুন (সোমবার) সকাল সাড়ে ৯টায় লংগদু উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন আহত মোঃ আল আমিন (৩৩)। খোঁজ নিতে গেলে সে জানায়, গত ১৪ জুন রাত আনুমানিক সাড়ে ৯টার দিকে নিজ বসত ঘরের বাহিরে প্রস্রাবের জন্য বের হলে হটাৎ করেই দুই পাশ থেকে সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা ঘিরে ধরে। মারধর করে গুরুতর আহত করে সকালেই বসতবাড়ি ছেড়ে চলে যেতে বলে নতুবা প্রাণ মেরে ফেলার হুমকি দিয়ে যায়। আহত আল আমিন স্থানীয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
ভুক্তভোগী জানায়, অমি রাতে ঘরের বাহিরে বের হলে সেনাবাহিনীর পোশাকে ২০/২৫ জনের একটি সশস্ত্র গ্রুপ আমাকে ঘিরে ধরে ভয়ে জোরে চিৎকার দিই। তখন তারা অস্ত্র ঠেকিয়ে কোন আওয়াজ করতে দেয়নি। আমার বৃদ্ধ মাকেও অস্ত্র ঠেকিয়ে চুপ থাকতে বলে এবং গাছের ডাল দিয়ে সজোরে আমার পাছায় বারি দিয়ে ভেঙে ফেলে ও ভাঙ্গা ডাল দিয়ে মাথায় আঘাত করে এবং অস্ত্রের বাট দিয়ে বুকে পেটে আঘাত করে বলে আগামীকাল সকালের মধ্যেই এই ঘর-বাড়ি ছেড়ে চলে যাবি না হলে প্রাণে মেরে ফেলব।
আহত আল আমিন আরও বলেন, আমার ভোগ দখলীয় জমিটি নিয়ে ঠেকাপাড়া নিবাসী নজু মিয়া চৌধুরীর ছেলে আলী আহমেদ সঙ্গে মামলা চলছে। যাহা সিভিল স্যুট মামলায় আদালতের মাধ্যমে আমার পক্ষে রায় হয়। ফলে উক্ত আলী আহমেদ গং এলাকায় এসে বিগত ০২/১০/২০২০ তারিখে মারামারি করলে একটি মামলা করা হয়, যা আদালতে প্রক্রিয়াধীন রায়ের রয়েছে। পক্ষান্তরে আমার ঐ জমিতে জোরপূর্বক ঘর নির্মাণকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট মারামারির কারণে বিজিবি ঘরটি ভেঙে দিলেও আলী আহমেদ আমার নামে ঘরভাঙা মামলার দায়ের করে যাহা আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। আমার উপরে হামলাকারীদের জিজ্ঞাসা ও হুমকির মাধ্যমে এটা স্পট যে, আমার জমি দখলের উদ্দেশ্যে সশস্ত্র সন্ত্রাসী গ্রুপ দিয়ে উৎখাতের চেষ্টায় আলী আহমেদ এ ঘটনা ঘটেছে বলে মনে হচ্ছে।
এসময়ে আমার চিৎকার শুনে প্রতিবেশী মহিলা বার বার জিজ্ঞেস করলেও কোন জবাব দেওয়া সম্ভব হয়নি। প্রতিবেশী কোন জবাব না পেয়ে আমার ভাইকে জানায় যে, আল আমিনের চিৎকার শুনেছি, কি হলো। তখন ঐ মহিলাসহ প্রতিবেশীরা টচ লাইট চালিয়ে এগুতে দেখে সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা চলে যায়।
উল্লেখ্য যে, ঘটনার স্থান হতে মাত্র আধা কিলোমিটার দূরে ৯নং পোস্ট (অস্থায়ী ক্যাম্প) যা বর্তমানে তুলে নেওয়া হয়েছে। যার ফলেই সশস্ত্র সন্ত্রাসী গ্রুপ গুলো বাঙ্গালি জনবহুল এলাকায় এসে এধরণের সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটানোর সাহস পাচ্ছে। তাই জনস্বার্থেই পাহাড়ের অস্থায়ী নিরাপত্তা ক্যাম্প সমূহ স্থাপনের জন্য দাবি জানিয়েছেন এলাকার সাধারণ মানুষ।
তবে এ ঘটনায় থানায় এখনো পর্যন্ত কোন মামলা বা অভিযোগ দায়ের করা হয়নি।








