ফিরোজ আল আমিন
নিজস্ব প্রতিনিধি:
সিরাজগঞ্জ জেলায় একসময় যেসব নদী-নালা ও খাল-বিলকে ঘিরে গড়ে উঠেছিল সমৃদ্ধ জনপদ ও নদীকেন্দ্রিক ব্যবসা-বাণিজ্য, আজ সেগুলোই ধীরে ধীরে মৃতপ্রায় অবস্থায় পৌঁছে গেছে। দীর্ঘদিন ধরে খননের অভাব, অবৈধ দখল ও অপরিকল্পিত স্থাপনার কারণে জেলার বহু নদী এখন সংকুচিত হয়ে খালে পরিণত হয়েছে, আবার অনেক খাল-বিল পুরোপুরি ভরাট হয়ে গেছে।
স্থানীয় ও পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা যায়, সিরাজগঞ্জ জেলার যমুনা, বাঙ্গালী, ইছামতী, করতোয়া, ফুলজোড়, হুরাসাগর, বড়ালসহ অন্তত ৬০৫ কিলোমিটার নদ-নদীর নেটওয়ার্ক আজ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত। এছাড়া জেলার ৩০৩টি খাল-বিলের মধ্যে প্রায় ১১০টি ইতোমধ্যে মরা খালে রূপ নিয়েছে।
নদীর স্বাভাবিক প্রবাহে বিপর্যয়
খননের অভাব ও দখলদারিত্বের কারণে এসব নদী-খালে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। ফলে মাছ, শামুক-ঝিনুকসহ বিভিন্ন জলজ প্রাণীর আবাসস্থল ধ্বংস হচ্ছে। এতে একদিকে যেমন জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়েছে, অন্যদিকে নদীপারের মানুষের জীবন-জীবিকা ও স্থানীয় অর্থনীতি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, আগে এসব নদীতে সারাবছর পানি থাকত এবং মাছ, শামুক-ঝিনুক সহজলভ্য ছিল। গবাদিপশুর গোসলসহ দৈনন্দিন নানা কাজে নদী-খাল ব্যবহার করা হতো। বর্তমানে অনেক জায়গায় পানি না থাকায় মানুষ দখল করে আবাদ ও বসতবাড়ি তৈরি করছে।
বিশেষজ্ঞদের মতামত
বাংলাদেশ নদী বাঁচাও আন্দোলন জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক রফিক মোল্লা বলেন, নদীগুলো পুনরুদ্ধারে প্রথমে উৎসমুখে থাকা বাঁধ অপসারণ এবং অবৈধ দখল উচ্ছেদ জরুরি। পাশাপাশি সমন্বিত উদ্যোগে নদী ও খালগুলোর স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনতে হবে।
বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) সিরাজগঞ্জ জেলা শাখার আহ্বায়ক দীপক কুমার কর বলেন, অপরিকল্পিত বালু উত্তোলন, নদী দখল, জলবায়ু পরিবর্তন ও দীর্ঘ খরার কারণে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়েছে। তিনি দ্রুত বিজ্ঞানসম্মতভাবে নদী-খাল পুনঃখনন ও জলাশয় সংরক্ষণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
রাজনৈতিক ও স্থানীয় প্রতিক্রিয়া
জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান বাচ্চু জানান, খাল খনন কার্যক্রমের মাধ্যমে নদীগুলো পুনরুজ্জীবিত করা গেলে কৃষি, অর্থনীতি ও জীববৈচিত্র্যে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে তারা আশা করেন।
উপসংহার
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে সিরাজগঞ্জের নদী-খালগুলো স্থায়ীভাবে হারিয়ে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হবে, যা ভবিষ্যতে পরিবেশ, কৃষি ও স্থানীয় অর্থনীতির ওপর ভয়াবহ প্রভাব ফেলতে পারে।