মোঃ সুজন আহমেদ, উল্লাপাড়া (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি:
সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলা-র ২ নম্বর বাঙ্গালা ইউনিয়নের বালিয়াদিঘী থেকে মোড়দহ বাজার পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি দীর্ঘ প্রায় ২০ বছরেও কোনো উন্নয়নের মুখ দেখেনি। বর্ষা মৌসুমে সড়কটি কাদার সাগরে পরিণত হওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন এলাকার ১৫ থেকে ২০টি গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ।
সরেজমিনে দেখা যায়, সামান্য বৃষ্টিতেই সড়কের বিভিন্ন স্থানে হাঁটুসমান কাদা ও পানি জমে যায়। রাস্তার অনেক অংশে গভীর গর্ত ও যানবাহনের চাকার দাগ সৃষ্টি হওয়ায় চলাচল প্রায় অচল হয়ে পড়ে। বিশেষ করে শিক্ষার্থী, কৃষক, ব্যবসায়ী, বৃদ্ধ ও রোগীদের জন্য এ সড়ক এখন দুর্ভোগের প্রতীক হয়ে উঠেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বহুবার জনপ্রতিনিধিদের কাছে রাস্তা সংস্কার ও পাকাকরণের দাবি জানানো হলেও বছরের পর বছর শুধু আশ্বাসই মিলেছে, বাস্তবে কোনো কার্যকর উদ্যোগ দেখা যায়নি। নির্বাচনের সময় বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও নির্বাচন শেষে আর কেউ খোঁজ নেন না বলেও অভিযোগ করেন তারা।
এলাকাবাসী জানান, জরুরি রোগীকে হাসপাতালে নেওয়া, প্রসূতি মাকে চিকিৎসাকেন্দ্রে পৌঁছানো কিংবা অ্যাম্বুলেন্স চলাচল প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। অনেক সময় জীবনের ঝুঁকি নিয়েই রোগীদের কাদাময় সড়ক পাড়ি দিতে হয়। ফলে এলাকাজুড়ে এক ধরনের মানবিক সংকট সৃষ্টি হয়েছে।
কৃষিনির্ভর এ অঞ্চলের কৃষকদেরও পোহাতে হচ্ছে বাড়তি ভোগান্তি। হাজার হাজার মণ ধান, পাট, সবজি ও অন্যান্য কৃষিপণ্য বাজারজাত করতে অতিরিক্ত পরিবহন ব্যয় গুনতে হচ্ছে। পরিবহন সংকটের কারণে অনেক ক্ষেত্রে কৃষকরা তাদের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্য মূল্য থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন।
এদিকে প্রতিদিন শত শত শিক্ষার্থী বিভিন্ন প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও কলেজে যাতায়াত করে। বৃষ্টির দিনে তাদের অনেকেই কাদা মাড়িয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যেতে বাধ্য হয়। ফলে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিতেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, এটি শুধু একটি রাস্তার সমস্যা নয়; বরং শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি ও স্থানীয় অর্থনীতির সঙ্গে জড়িত একটি গুরুত্বপূর্ণ জনদুর্ভোগের বিষয়। দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত এ সড়ক দ্রুত সংস্কার না হলে জনভোগান্তি আরও বাড়বে।
এলাকাবাসী সংশ্লিষ্ট প্রশাসন, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (LGED), উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে দ্রুত সরেজমিন তদন্তের মাধ্যমে সড়কটি পাকাকরণের দাবি জানিয়েছেন।
তাদের ভাষ্য, “আমরা আর প্রতিশ্রুতি চাই না, বাস্তব উন্নয়ন চাই। একটি টেকসই পাকা রাস্তা নির্মাণের মাধ্যমে আমাদের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের অবসান ঘটানো হোক।”