সোমবার, ০২ মার্চ ২০২৬, ১১:১২ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
তৃণমূল থেকে উঠে আসা এক আদর্শিক নেতা: তাড়াশের রাজনীতিতে মো. সোলাইমান হোসেন সিহাব স্বাধীনতার প্রথম সূর্যোদয়: যে কক্ষে রচিত হয়েছিল বাংলাদেশের পতাকার নকশা কুষ্টিয়ায় লালন আঁখড়াবাড়ীতে দোল পুর্ণিমা উৎসবের প্রস্তুতি সম্পন্ন  কুষ্টিয়ার মিরপুরে সংসদ সদস্যের সাথে সরকারি কর্মকর্তাদের মতবিনিময়  কুষ্টিয়ায় ট্রেনের নিচে পড়ে মোটরসাইকেল আরোহী নিহত  অভিযোগ ও সংবাদ প্রকাশের পরে তাড়াশ সদর ইউনিয়ন ভূমি উপসহকারী মোঃ আরিফুল ইসলাম পলাশকে শাস্তিমূলক বদলি কমলনগরে নদী কেড়েছে ভিটেমাটি, কাড়তে পারেনি ভালোবাসা: চর কালকিনিতে মাস্টার সাইফুল্লাহর ৩৩ বছরের আস্থার প্রতিচ্ছবি কুষ্টিয়ায় জিকে ক্যানেল থেকে নিখোঁজ শিশুর মরদেহ উদ্ধার পিআরও হিসেবে সাংবাদিক নিয়োগের প্রস্তাব সচিবালয়ে জমা   আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করায় তিন ভাই গ্রেপ্তার 

কমলনগরে মেঘনা নদীত মাছ নেই, হাসিও নেই-ঈদের দিনেও নদীতেই?  জেলে ছিদ্দিক 

Reporter Name / ২৬০ Time View
Update : রবিবার, ৮ জুন, ২০২৫

মোখলেছুর রহমান ধনু

রামগতি -কমলনগর (লক্ষ্মীপুর) প্রতিনিধি,

ঈদের দুপুরে যখন শহর-গ্রামের ঘরে ঘরে রান্নার ঘ্রাণ, শিশুর হাসি আর উৎসবের আমেজ-ঠিক তখনই মেঘনার পাড়ে নীরবে জাল বুনছিলেন আবু বকর ছিদ্দিক (৫৭)। লক্ষ্মীপুরের কমলনগরের মতিরহাট ঘাটে, নৌকা ভেড়ানো তার চিরচেনা ঠাঁই। মুখে কোনো রঙ নেই, চোখে ঈদের ঝিলিক নেই।

 

 

ঈদ তো বড়লোকদের জন্য। আমাদের জীবনে এখন মাছও নাই, হাসিও নাই, বলছিলেন ছিদ্দিক।

 

 

ছিদ্দিকের বাড়ি উপজেলার চর মার্টিন ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ডে। পেশায় জেলে। গত ৩০ বছরেরও বেশি সময় নদীতে মাছ ধরে দিন চলে তার। কিন্তু এবারের ঈদে সেই নদীই যেন মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে।

 

 

গত কয়দিন ধরেই জাল ফেলে খালি ফিরি। তেলের দাম দিয়ে মাছ না পাইলে তো লস। ধার করে চলতে হয়। আজ ঈদের দিনেও বাড়ি যাইনি। খালি হাতে গেলে ছেলে-মেয়েদের মুখ দেখি কেমনে?-বলেন তিনি।

 

 

ছিদ্দিক জানান, চার সন্তানের বাবা তিনি। আগে ঈদের দিনে বাড়িতে কিছু না কিছু নিয়ে ফিরতে পারতেন। এবার সেটা আর হয়নি। শুধু মাছ না পাওয়ার হতাশাই নয়, সরকারি সহায়তার অভাবও তাকে কাবু করে তুলেছে।

 

 

জেলে কার্ডের জন্য মেম্বার টাকা চাইছিল। সরকার পড়ে যাওয়ার আগে দিবে বলছিল। টাকা না দেওয়ায় আর করিনি। এখন জেলের নামেও নাই, কার্ডেও নাই-বলেই দীর্ঘশ্বাস ফেলেন তিনি।

 

 

শুধু ছিদ্দিক একা নন, মতিরহাট ঘাটের মাতাব্বর হাট ঘাটের, পাটোয়ারির হাট ঘাটের অন্য  জেলেরাও একই সুরে কথা বলেন। নদীতে মাছ নেই, তাই ঈদও নেই।

 

 

স্থানীয় জেলে নুর আলম বললেন, ঈদের আগে দুই বাচ্চার জন্য জামা কিনতে পারিনি। নদীতে মাছ না থাকলে আমরা না খেয়ে থাকি। উৎসব তো অনেক দূরের ব্যাপার।

 

 

জানা গেছে, নদীতে ইলিশের মৌসুম শুরু হলেও এখনো কাঙ্ক্ষিত পরিমাণে মাছ ধরা পড়ছে না। সঙ্গে জ্বালানি তেল ও নিত্যপণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় আরও সংকটে পড়েছেন জেলেরা।

 

 

কথা বলে গেল, জাল বুনে চললো। আলো-আঁধারি বিকেলের মতিরহাট ঘাটে বসে ছিদ্দিক তখনও জাল বুনছিলেন। কথা শেষ করে বললেন, ঈদের দিন হোক আর যেকোনো দিন-নদীতে না গেলে তো চুলায় আগুন জ্বলে না।

 

 

 


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
এক ক্লিকে বিভাগের খবর