রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০১:৫৬ অপরাহ্ন
শিরোনাম
শূন্য হাতে ফিরল জাতীয় পার্টি: চার দশকের ইতিহাসে চরম বিপর্যয় ত্রয়োদশ নির্বাচনে গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্টের ভরাডুবি,১৫৩ প্রার্থীর ১৫২ জনই জামানত হারালেন লংগদু উপজেলার ২২টি ভোট কেন্দ্রে শান্তিপূর্ণ ভাবে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত  ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে লংগদুতে ২২ টি ভোট কেন্দ্রের শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি  রামগড়ে র‌্যাব ৭ এর প্রেস ব্রিফিং কুষ্টিয়ায় বিপুল পরিমাণ অস্ত্র উদ্ধার  কোনভাবেই যেন এই নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ না হয় : আব্দুল গফুর  কুষ্টিয়ায় ভোটকেন্দ্রের পাশ থেকে ককটেল সাদৃশ্য বস্তু উদ্ধার রায়গঞ্জ-তাড়াশে সহিংসতা রোধে র‍্যাবের কঠোর নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা নজরদারি কুষ্টিয়ায় ভোটকেন্দ্র থেকে সিসি ক্যামেরা চুরি

কমলনগরে মেঘনা নদীত মাছ নেই, হাসিও নেই-ঈদের দিনেও নদীতেই?  জেলে ছিদ্দিক 

Reporter Name / ২৫২ Time View
Update : রবিবার, ৮ জুন, ২০২৫

মোখলেছুর রহমান ধনু

রামগতি -কমলনগর (লক্ষ্মীপুর) প্রতিনিধি,

ঈদের দুপুরে যখন শহর-গ্রামের ঘরে ঘরে রান্নার ঘ্রাণ, শিশুর হাসি আর উৎসবের আমেজ-ঠিক তখনই মেঘনার পাড়ে নীরবে জাল বুনছিলেন আবু বকর ছিদ্দিক (৫৭)। লক্ষ্মীপুরের কমলনগরের মতিরহাট ঘাটে, নৌকা ভেড়ানো তার চিরচেনা ঠাঁই। মুখে কোনো রঙ নেই, চোখে ঈদের ঝিলিক নেই।

 

 

ঈদ তো বড়লোকদের জন্য। আমাদের জীবনে এখন মাছও নাই, হাসিও নাই, বলছিলেন ছিদ্দিক।

 

 

ছিদ্দিকের বাড়ি উপজেলার চর মার্টিন ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ডে। পেশায় জেলে। গত ৩০ বছরেরও বেশি সময় নদীতে মাছ ধরে দিন চলে তার। কিন্তু এবারের ঈদে সেই নদীই যেন মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে।

 

 

গত কয়দিন ধরেই জাল ফেলে খালি ফিরি। তেলের দাম দিয়ে মাছ না পাইলে তো লস। ধার করে চলতে হয়। আজ ঈদের দিনেও বাড়ি যাইনি। খালি হাতে গেলে ছেলে-মেয়েদের মুখ দেখি কেমনে?-বলেন তিনি।

 

 

ছিদ্দিক জানান, চার সন্তানের বাবা তিনি। আগে ঈদের দিনে বাড়িতে কিছু না কিছু নিয়ে ফিরতে পারতেন। এবার সেটা আর হয়নি। শুধু মাছ না পাওয়ার হতাশাই নয়, সরকারি সহায়তার অভাবও তাকে কাবু করে তুলেছে।

 

 

জেলে কার্ডের জন্য মেম্বার টাকা চাইছিল। সরকার পড়ে যাওয়ার আগে দিবে বলছিল। টাকা না দেওয়ায় আর করিনি। এখন জেলের নামেও নাই, কার্ডেও নাই-বলেই দীর্ঘশ্বাস ফেলেন তিনি।

 

 

শুধু ছিদ্দিক একা নন, মতিরহাট ঘাটের মাতাব্বর হাট ঘাটের, পাটোয়ারির হাট ঘাটের অন্য  জেলেরাও একই সুরে কথা বলেন। নদীতে মাছ নেই, তাই ঈদও নেই।

 

 

স্থানীয় জেলে নুর আলম বললেন, ঈদের আগে দুই বাচ্চার জন্য জামা কিনতে পারিনি। নদীতে মাছ না থাকলে আমরা না খেয়ে থাকি। উৎসব তো অনেক দূরের ব্যাপার।

 

 

জানা গেছে, নদীতে ইলিশের মৌসুম শুরু হলেও এখনো কাঙ্ক্ষিত পরিমাণে মাছ ধরা পড়ছে না। সঙ্গে জ্বালানি তেল ও নিত্যপণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় আরও সংকটে পড়েছেন জেলেরা।

 

 

কথা বলে গেল, জাল বুনে চললো। আলো-আঁধারি বিকেলের মতিরহাট ঘাটে বসে ছিদ্দিক তখনও জাল বুনছিলেন। কথা শেষ করে বললেন, ঈদের দিন হোক আর যেকোনো দিন-নদীতে না গেলে তো চুলায় আগুন জ্বলে না।

 

 

 


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
এক ক্লিকে বিভাগের খবর