কুষ্টিয়া প্রতিনিধি:
কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলায় এসএসসি (দাখিল) পরীক্ষায় এক মাদ্রাসা সুপারের ছেলের উত্তরপত্র বাইরে থেকে লিখে এনে জমা দেওয়ার সময় হাতেনাতে ধরা পড়েছেন তিন শিক্ষক। বুধবার দুপুরে উপজেলার মল্লিকপাড়া রেজওয়ানুল উলুম দাখিল মাদ্রাসা পরীক্ষাকেন্দ্রে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত পরীক্ষার্থী মোহাম্মদ নাসিরুল্লাহকে বহিষ্কার করা হয়েছে এবং আটক শিক্ষকদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
র্যাবের অভিযানে আটক তিন শিক্ষক হলেন— উপজেলার মহিষকুন্ডি মুসলিম নগর দাখিল মাদ্রাসার শিক্ষক মো. বজলুর রহমান (৪৮), মো. নুরুল ইসলাম (৪৫) এবং মোছা. মাতোয়ারা খাতুন। জানা গেছে, ঘটনার দিন এই তিন শিক্ষকের পরীক্ষাকেন্দ্রে কোনো ডিউটি ছিল না। আর বহিষ্কৃত শিক্ষার্থী নাসিরুল্লাহ ওই মাদ্রাসার সুপার মাওলানা আব্দুল ওহাব বিশ্বাসের ছেলে।
র্যাব সূত্রে জানা গেছে, বুধবার জীববিজ্ঞান পরীক্ষা চলাকালে শিক্ষার্থী নাসিরুল্লাহর পরীক্ষার খাতা বাইরে থেকে লিখে এনে কেন্দ্রে জমা দেওয়ার কাজ করছিলেন ওই তিন শিক্ষক। অভিযোগ রয়েছে, মোটা অঙ্কের অবৈধ অর্থের বিনিময়ে এই চক্রটি দীর্ঘদিন ধরেই এভাবে পরীক্ষার্থীদের অসদুপায় অবলম্বনে সাহায্য করে আসছিল। বুধবারও একই কায়দায় উত্তরপত্র লিখে দেওয়ার সময় র্যাব সদস্যরা তাদের হাতেনাতে ধরে ফেলেন।
স্থানীয় সূত্র জানায়, র্যাবের হাতে শিক্ষকরা আটক হওয়ার পর পরই কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি তাদের ছাড়িয়ে নেওয়ার জোর তদবির শুরু করেন। একপর্যায়ে কিছু বহিরাগত কেন্দ্রে এসে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করার চেষ্টা করলেও প্রশাসনের কঠোর অবস্থানের কারণে তা ভেস্তে যায়।
আটক শিক্ষকরা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে দাবি করেছেন, মাদ্রাসার সুপারিন্টেনডেন্ট মো. আব্দুল ওহাব বিশ্বাস তার ছেলের জন্য এই অনৈতিক কাজ করতে তাদের বাধ্য করেছিলেন। তারা স্বেচ্ছায় এ কাজ করেননি বরং সুপারের চাপেই এটি করতে হয়েছে।
তবে এই গুরুতর অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে মাদ্রাসার সুপারিন্টেনডেন্ট মো. আব্দুল ওহাব বিশ্বাসের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
ঘটনার খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে পরীক্ষাকেন্দ্রে ছুটে যান দৌলতপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শ্রী প্রদীপ কুমার দাস। তদন্ত শেষে তিনি অভিযুক্ত শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার করেন এবং শিক্ষকদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলার নির্দেশ দেন।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট প্রদীপ কুমার দাস বলেন,
”ঘটনাটি জানার সঙ্গে সঙ্গেই আমি কেন্দ্রে উপস্থিত হই। তদন্তে উঠে এসেছে যে, পূর্বেও বাইরে থেকে খাতায় লিখে এনে কেন্দ্রে জমা দেওয়ার মতো বড় অনিয়মের ঘটনা ঘটেছে। আজকেও র্যাবের হাতে তিন শিক্ষক আটকের বিষয়টি সত্য প্রমাণিত হয়েছে। অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।”