আশরাফুল ইসলাম রনজু, তানোর (রাজশাহী) প্রতিনিধি
রাজশাহীর তানোর উপজেলার বিল কুমারী বিলে প্রাকৃতিক পরিবেশ ও উন্মুক্ত জলাশয়কে কাজে লাগিয়ে গড়ে উঠেছে একাধিক হাঁসের খামার। বিলের বাঁধ ও সেতু সড়কের ধারে বাঁশের খুঁটি, তারকাঁটার বেড়া ও পলিথিন দিয়ে তৈরি এসব খামার এখন স্থানীয়ভাবে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
খামারিরা জানান, সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত হাঁসগুলো বিলের পানিতে ছেড়ে দেওয়া হয়। সেখানে তারা প্রাকৃতিকভাবে মাছ, শামুক, পোকামাকড় ও শৈবালজাতীয় খাবার খেয়ে বেড়ে ওঠে। ফলে আলাদা খাদ্য খরচ অনেক কমে যাচ্ছে এবং উৎপাদন ব্যয়ও কম থাকছে।
স্থানীয় খামারি মামুন ও লুৎফর যৌথভাবে প্রায় ১ হাজার ৪০০ হাঁস পালন করছেন। তারা প্রতিদিন গড়ে প্রায় ২৫০টি ডিম সংগ্রহ করছেন, যা স্থানীয় বাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় বিক্রি করা হচ্ছে।
খামারি মামুন বলেন, প্রাকৃতিকভাবে হাঁস পালন করায় খাদ্য খরচ কম এবং লাভ বেশি হচ্ছে। প্রতিদিন ডিম বিক্রি করে নিয়মিত আয় হচ্ছে।
অন্যদিকে লুৎফর জানান, সরকারি সহায়তা, সহজ শর্তে ঋণ এবং প্রশিক্ষণ পেলে তারা আরও বড় পরিসরে হাঁস পালন করতে পারবেন।
স্থানীয়দের মতে, বিল কুমারী বিলসহ আশপাশের বিস্তীর্ণ জলাশয় হাঁস পালনের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে অনেকেই এখন হাঁস খামারের দিকে ঝুঁকছেন, যা গ্রামীণ অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আনছে।
এ বিষয়ে তানোর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. ওয়াজেদ আলী বলেন, খামারিদের নিয়মিত পরামর্শ ও চিকিৎসা সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, প্রাকৃতিক পরিবেশে হাঁস পালন একটি লাভজনক উদ্যোগ, যথাযথ প্রশিক্ষণ ও সরকারি সহযোগিতা বাড়ালে এই খাত আরও বিস্তৃত হবে।