কয়রা (খুলনা) প্রতিনিধি:
খুলনার কয়রা উপজেলার আমাদী ইউনিয়নের হরিয়ারনগর (হড্ডী) গ্রামে সরকারি স্বীকৃতি ও আর্থিক সহায়তা ছাড়াই শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে ইমদাদুল উলুম ইবতেদায়ী মাদ্রাসা। প্রায় পাঁচ বছর ধরে ছয় শিক্ষক ও একজন অফিস সহায়ক বিনা বেতনে দায়িত্ব পালন করছেন। এতে প্রতিষ্ঠানটির ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় শিক্ষানুরাগী আলহাজ্ব রেজাউল করিম সানার উদ্যোগে ২০২০ সালে প্রতিষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠিত হয়। পরে শিক্ষার মানোন্নয়নের লক্ষ্যে স্থানীয়দের সহযোগিতায় ইমদাদুল উলুম নূরানী কিন্ডার গার্ডেন মাদ্রাসাকে ইবতেদায়ী মাদ্রাসায় উন্নীত করা হয়। বর্তমানে এখানে প্রায় ১০০ শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে।
তবে প্রতিষ্ঠার পর পাঁচ বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো সরকারি স্বীকৃতি ও অনুমোদন না পাওয়ায় প্রতিষ্ঠানটি নানা সংকটে রয়েছে। নেই সরকারি আসবাবপত্র, অনুদান কিংবা শিক্ষকদের বেতন-ভাতার ব্যবস্থা। ফলে স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতেই পাঠদান কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন শিক্ষকরা।
মাদ্রাসার ইবতেদায়ী প্রধান সুপার মো. ইমরান হোসাইন বলেন, ‘আমরা শিক্ষার্থীদের আধুনিক শিক্ষার পাশাপাশি নৈতিক শিক্ষা দেওয়ার চেষ্টা করছি। কিন্তু দীর্ঘদিন বিনা বেতনে দায়িত্ব পালন করা কঠিন। দ্রুত সরকারি স্বীকৃতি ও অনুমোদনের পাশাপাশি শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতার ব্যবস্থা করা প্রয়োজন।’
শিক্ষক ওলিউল্লাহসহ অন্য শিক্ষকরা জানান, প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও আর্থিক সংকটের মধ্যেও তারা শিক্ষার্থীদের পাঠদান অব্যাহত রেখেছেন। সরকারি অনুমোদন ও অনুদান পেলে প্রতিষ্ঠানটিতে আরও মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে বলে তারা মনে করেন।
স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. মামুন সানা বলেন, এলাকার শিশুদের শিক্ষার জন্য প্রতিষ্ঠানটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে।
প্রতিষ্ঠাতা আলহাজ্ব রেজাউল করিম সানা বলেন, ‘নিজস্ব অর্থায়নে প্রতিষ্ঠানটি গড়ে তুলেছি। এখন সরকারি স্বীকৃতি ও সহযোগিতা প্রয়োজন। তা না হলে দীর্ঘমেয়াদে প্রতিষ্ঠানটি পরিচালনা করা কঠিন হয়ে পড়বে।’
স্থানীয় বাসিন্দা ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা বলেন, উপকূলীয় এই এলাকার শিশুদের শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করতে প্রতিষ্ঠানটির প্রতি সরকারি নজর দেওয়া প্রয়োজন। দ্রুত স্বীকৃতি, অনুমোদন ও প্রয়োজনীয় সরকারি সহায়তা দেওয়া হলে ১০০ শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবন আরও স্থিতিশীল হবে।
সরকারি স্বীকৃতি ও সহায়তার অপেক্ষায় থাকা প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষক-কর্মচারীরা আশা করছেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।