কাপ্তাই লেকের পানিতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হলো শারদীয় দুর্গোৎসব
মোঃ এরশাদ আলী, লংগদু প্রতিনিধি :
রাঙ্গামাটির লংগদুতে কাপ্তাই হ্রদের পানিতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হলো সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বৃহত্তম ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা।
বৃহস্পতিবার (২ অক্টোবর) দিনের শুরুতে সারাদেশের মতো লংগদু উপজেলা তিনটি পূজা মণ্ডপে অনুষ্ঠিত হয় বিহিত পূজা। এরপর দর্পণ বিসর্জন ও প্রতিমা বিসর্জনের আনুষ্ঠানিকতা। স্থানীয় সুবিধা ও আয়োজন অনুযায়ী শোভাযাত্রার মাধ্যমে দেবী দুর্গার প্রতিমা কাপ্তাই হ্রদের পানিতে বিসর্জন দেওয়া হয়।
হিন্দু শাস্ত্রীয় মতে, বিজয়া দশমীতে দেবী দুর্গা দোলায় চড়ে কৈলাসে ফিরে যান। এ দিনকে তাই দেবীর বিদায়ের দিন হিসেবে পালন করা হয়। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস, বিজয়া দশমীর মূল তাৎপর্য হলো মানুষের অন্তরে থাকা কাম, ক্রোধ, লালসা ও হিংসা প্রভৃতি অসুরিক প্রবৃত্তির বিসর্জন। এসব প্রবৃত্তি ত্যাগ করে পারস্পরিক ভ্রাতৃত্বের বন্ধন দৃঢ় করা এবং শান্তিময় পৃথিবী গড়ে তোলাই এ উৎসবের বার্তা।
মা’দেবী বিদায়ের আগে মণ্ডপ গুলোতে অনুষ্ঠিত হয় সিঁদুর খেলা। পান ও মিষ্টি দিয়ে আনন্দঘন এই আয়োজন শেষে শেষবারের মতো দেবীর আরাধনায় অংশ নেন তারা। নারীরা দেবীর চরণ থেকে সিঁদুর নিয়ে স্বামীর মঙ্গল কামনায় নিজেদের সিঁথি রাঙিয়ে নেন এবং দেবীকে সিঁদুর ছোঁয়ানোর পর একে অপরকেও সিঁদুর পরিয়ে দেন।
এবছর দুর্গা উৎসবকে ঘিরে উপজেলার আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সার্বক্ষণিক তৎপরতা ছিল চোখে পড়ার মতো, সাম্প্রতিক খাগড়াছড়ির ঘটনার পূজা মণ্ডপগুলোতে উপজেলা প্রশাসন ও আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর পরিদর্শন সহ নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তায় মোতায়েন করা হয় আনসার-ভিডিপি এবং পুলিশ বাহিনী। সেই সাথে সার্বক্ষনিক টহল জোরদার করেন সেনাবাহিনীর তেজস্বী বীর, লংগদু জোন ও ব্যাটালিয়ন আনসার সদস্যরা।








