খ ম জায়েদ হোসেন, নাসিরনগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি
ঋতুর পালাবদলে প্রকৃতিতে শুরু হয়েছে পরিবর্তনের ছোঁয়া। আশ্বিনের শেষভাগে এসে ভোরের হালকা কুয়াশা, শীতল বাতাস আর কমে আসা গরমের তীব্রতা জানান দিচ্ছে শীতের আগমনী বার্তা। হাওরবেষ্টিত ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরেও এরই মধ্যে প্রকৃতিতে দেখা দিয়েছে হেমন্তের আবহ।
ভোরের আলো ফোটার আগেই উপজেলার বিভিন্ন হাওরাঞ্চল, গ্রামীণ মেঠোপথ, ফসলের মাঠ ও সবুজ সবজিবাগান ঢেকে যাচ্ছে হালকা কুয়াশায়। সূর্যের আলো বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কুয়াশার আস্তরণ ধীরে ধীরে সরে গেলেও ভোরের শীতল বাতাসে অনুভূত হচ্ছে ঋতু পরিবর্তনের স্পষ্ট আভাস।
ফজরের নামাজ শেষে প্রাতঃভ্রমণে বের হওয়া মানুষ ও শরীরচর্চায় অংশ নেওয়া তরুণদের চোখে পড়ছে প্রকৃতির এই পরিবর্তিত রূপ। স্থানীয় কলেজ মাঠ ও আশপাশের বিস্তীর্ণ সবুজ মাঠে ভোরে দেখা যায় কুয়াশায় মোড়ানো মনোরম পরিবেশ। কোথাও ঘাসের ডগায় জমে থাকা শিশির, কোথাও কুয়াশার চাদরে আচ্ছাদিত মেঠোপথ—সব মিলিয়ে নাসিরনগরের সকাল হয়ে উঠছে স্নিগ্ধ ও নান্দনিক।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, “ভোরে হাঁটতে বের হয়ে দেখি চারদিক কুয়াশায় ঢেকে গেছে। সকালবেলায় হালকা ঠান্ডার এই আমেজ বেশ ভালো লাগছে। মনে হচ্ছে শীত এবার আগেভাগেই আসছে।”
ভোরে ফুটবল খেলতে আসা সোহেল বলেন, আশ্বিন-কার্তিক শুধু প্রকৃতির রূপবদলের সময় নয়, এ সময় কৃষকের মনেও নতুন আশার সঞ্চার হয়। মাঠে রোপা আমন ধান ধীরে ধীরে সবুজ হয়ে উঠছে। ফসলের মাঠের এই দৃশ্য কৃষকের মুখেও হাসি ফোটাচ্ছে।
প্রকৃতির রূপবদলের পাশাপাশি আশ্বিন-কার্তিক মাসে বাঙালির উৎসবের আমেজও থাকে। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজাকে ঘিরে বিভিন্ন এলাকায় শুরু হয় উৎসবের প্রস্তুতি। শরতের কাশফুল, নীল আকাশ, সাদা মেঘ আর ভোরের কুয়াশা মিলে নাসিরনগরের প্রকৃতিতে এখন যেন বিদায়ী শরৎ ও আগত হেমন্তের মেলবন্ধন।
স্থানীয়দের ভাষ্য, দিনের বেলায় এখনও গরমের অনুভূতি থাকলেও ভোর ও শেষ রাতে আবহাওয়া ক্রমেই আরামদায়ক হয়ে উঠছে। প্রকৃতির এই পরিবর্তন শীতের আগমনেরই পূর্বাভাস বলে মনে করছেন অনেকে।
হাওর, নদী, সবুজ মাঠ ও গ্রামীণ জনপদ ঘেরা নাসিরনগরে আশ্বিনের কুয়াশা তাই শুধু আবহাওয়ার পরিবর্তনের বার্তা নয়; একই সঙ্গে এটি প্রকৃতির নতুন সাজে সেজে ওঠারও ইঙ্গিত দিচ্ছে।