৩১০০ কোটি টাকার ব্লকের কাজ! বাঁধে ঠেকে ঝড়-জোয়ার-জলোচ্ছ্বাস, স্বস্তিতে উপকূলবাসী
মোখলেছর রহমান ধনু,
রামগতি-কমলনগর (লক্ষ্মীপুর) প্রতিনিধি:
লক্ষ্মীপুরের রামগতি-কমলনগরে মানুষের মাঝে স্বস্তি দেখা গেছে। যে সময়ে ঝড়- জলোচ্ছ্বাসের ক্ষত-বিক্ষত দিশেহারা ছিলেন। এখন ওই সময়ে মানুষ স্বাভাবিক জীবন যাপন করছেন। দুটি উপজেলায় প্রায় পঞ্চাশ হাজার কৃষক তাদের ফসল নিয়ে দুশ্চিন্তার স্থলে নিশ্চিন্তে । ফলে দুটি উপজেলার সর্বস্তরের দুই লাখ মানুষ স্বস্তিতে।
জানা যায়, দীর্ঘ তিন যুগেরও বেশি সময় ধরে লক্ষ্মীপুরের রামগতি-কমলনগরে মেঘনার করাল গ্রাসে ভাঙনে কমলনগরে চরকালকিনি, সাহেবেরহাট, চরমার্টিন, চরফলকন ও পাটারীরহাট ইউনিয়নে প্রায় ২০ হাজার পরিবার সর্বস্থ হারিয়ে একই উপজেলার পাশ^বর্তী হাজিরহাট, চরকাদিরা ও তোবারগঞ্জ ইউনিয়নসহ উচ্চমূল্যে জমি ক্রয়ে করে জীবন যাপন করেন। এছাড়া অধিকাংশ পরিবার তিন-চারবারের ভাঙনে নিঃস্ব হয়ে মাথা গোজার ঠাঁইও মেলেনি। তারা জেলাসহ বন্দরনগর চট্টগ্রাম, ফেনী ও ঢাকাতে রাস্তার পাশে কিংবা রিক্্রা চালিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন। ঠিক সেই সময়ে উপকূলের ঝুঁকিপূর্ণ প্রায় দেড় লাখ মানুষের দুঃখ, কষ্টের দিকে তাকিয়ে ৩১শ কোটি টাকার ব্লকবাঁধের একটি মেগাপ্রকল্পের কাজ শুরু হয়। বদলি তাদের স্বাভাবিক রেওয়াজ। লক্ষ্মীপুর পানি উন্নয়ন বোডের কর্মকর্তারা বদলালেও ; ব্øকবাধের কাজের গুণগত মান অব্যাহত দেখা গেছে। এছাড়া দেশের চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন এলাকায় অনিয়মের কথা শুনলেও এখানকার বাঁধের কাজের ধারা ঠিক রয়েছে। এতে রাজনৈতিক, সামাজিম, জনপ্রতিনিধিসহ সর্বস্তরের মানুষ প্রশংসার দাবি রাখেন। কাজের এমন গনগত মান ভবিষ্যতেও অব্যাহত কামনা করেন। পশ্চিম চরলরেন্স মহিলা দাখিল মাদ্রাসার সুপার মাওলানা মাকছুদুর রহমান ফরাজী বলেন, আমাদের প্রতিষ্ঠানটি সম্পূর্ণ ঝুঁিকপূর্ণ ছিলো। পানি উন্নয়নবোডের তদারকিতে ব্লকবাঁধের কারণে বিশাল বেড়ীবাঁধে এলাকা রক্ষা পেয়েছে। এতে আমরা মহাখুশি। পানি উন্নয়বোডের ভালো মনিটরিংয়ে সরকারী বেসরকারীসহ শত শত ফসলিজমি রক্ষায় পেয়েছে।
অপরদিকে রামগতি উপজেলার চরগাজীর অংশ, চররমিজ, চরআবদুল্লা, আলেকজান্ডার ইউনিয়নের বিশাল একটা অংশ নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। ঝুঁকিতে ছিলো রামগতি উপজেলা পরিষদ, আলেকজান্ডার বাজার, আলেকজান্ডার-রামগতি মেইন সড়ক, রামগতি উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্্র। ইতোমধ্যে পানি উন্নয়নবোডের ব্লকবাঁধের ব্যাপক উন্নয়ন কাজে ঝুঁকিমূক্ত সরকারী-বেসরকারী প্রতিষ্ঠানসহ বহু স্থাপনাও। হাজার হাজার কোটি টাকার এলাকার সম্পদ রক্ষা পেয়েছে। আলেকজান্ডার ইউনিয়নের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী খোকন জানান, যে সরকার দেশের জন্য উন্নয়ন করবে মানুষ তাদেরকেই পছন্দ করবে। আমরা চাই এলাকার উন্নয়ন। ব্লকবাঁধের উন্নয়নে আমাদের শত শত বছরের ঐতিহ্যবাহী বাজার রক্ষা পেয়েছে। হাজার হাজার কোটি টাকার সম্পদ, ফসলিজমি, সরকারী- বেসরকারী প্রতিষ্ঠান, বাপ-দাদার, বসতবাড়ি ও কবর স্থান রক্ষায় মানুষ স্বস্তিতে। চরআবদুল্লাহ কামিল মাদ্রাসা অধ্যক্ষ মাওলানা আ ন ম হাকিম বলেন, ব্লকবাঁধের কারণে আমাদের প্রতিষ্ঠানসহ আলেকজান্ডার ইউনিয়নের বিশাল এলাকা রক্ষা পেয়েছে। ভাঙন অব্যাহত থাকলে আমাদের পাঁচতলা বিশিষ্ট এ প্রতিষ্ঠানও নদীতে বিলীন হয়ে যেতো। বিশেষ করে পানি উন্নয়নবোডের ভালো মনিটরিংয়ের কারণে দুটি উপজেলার কয়েক লক্ষ হেক্টর ফসলি জমি রক্ষা পায়।
লক্ষ্মীপুর পানি উন্নয়নবোডের নির্বাহী প্রকৌশলী নাহিদ উজ জামান খান বলেন, রামগতি-কমলনগরের মেঘনার তীর রক্ষা বাঁধের নিদিষ্ট স্থানে প্রকল্পের নিয়মানুযায়ী কাজ চলেছে। আমরা সরকারের নিয়মানুযায়ী কাজ করছি।








