মোখলেছুর রহমান ধনু
রামগতি-কমলনগর (লক্ষ্মীপুর) প্রতিনিধি
লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে মেঘনা নদীতে জেগে ওঠা নতুন চরে ‘পিডাইন্না জাল’ ফেলা ও মাছ ধরার পয়েন্ট দখলকে কেন্দ্র করে স্থানীয় জেলে ও রাজনৈতিক নেতাদের অনুসারীদের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। কয়েক দফা ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও মারামারির ঘটনায় দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ আরও তীব্র হয়েছে। এতে যেকোনো সময় বড় ধরনের সংঘর্ষের আশঙ্কায় নদীপাড়ের সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মাতাব্বর হাটসংলগ্ন চরে মাছ ধরার জন্য ১০টি নৌকা চলাচল নিয়ে স্থানীয় জেলে নেতাদের মধ্যে একটি সমঝোতা হয়েছিল। এতে সাবেক ছাত্রলীগ নেতা মো. জিহাদ, যুবদল নেতা হেলাল মেম্বার, বিএনপি নেতা মো. কবির ও হাসানাতের অংশ নেওয়ার কথা ছিল। তবে পরে ওই সমঝোতা নিয়ে বিরোধ দেখা দেয়। অভিযোগ রয়েছে, জিহাদ, কবির ও হাসানাত জোটবদ্ধ হয়ে কয়েকজন বিএনপি নেতার ছত্রছায়ায় হেলাল মেম্বারের গ্রুপকে নদী থেকে সরিয়ে দেন।
এরই জের ধরে সম্প্রতি হেলাল মেম্বারের একটি নৌকা নদীতে জাল ফেললে জিহাদ গ্রুপের অনুসারীরা ওই জাল কেটে দেয় বলে অভিযোগ ওঠে। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে হেলাল মেম্বারের লোকজন চারজনকে আটক করে রাখেন বলে জানা গেছে।
পরে কমলনগর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে জামাল মাঝি, তাঁর ছেলে সুমন, কামাল মাঝি ও শামীমকে উদ্ধার করে স্বজনদের জিম্মায় দেয়।
ভুক্তভোগী মাঝি মো. রিপন অভিযোগ করে বলেন, সমঝোতা অনুযায়ী নদীতে জাল ফেলার পর তাঁদের ওপর হামলা করা হয় এবং জাল কেটে দেওয়ায় তাঁরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।
অন্যদিকে হেলাল মেম্বার অভিযোগ করেন, ঘটনার পর পুলিশ তাঁদের এজাহার গ্রহণ না করে শুধু প্রতিপক্ষের মামলা নিয়েছে।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে জামাল মাঝি বলেন, হেলাল মেম্বার নদীর মাছ ধরার পয়েন্ট দখলের চেষ্টা করায় সাধারণ জেলেরা প্রতিবাদ করেছেন।
সাধারণ জেলে ছিদ্দিক উল্লাহ বলেন, স্থানীয় ও রাজনৈতিক নেতাদের বিরোধের কারণে সাধারণ জেলেরা আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন। প্রাণভয়ে অনেকেই নদীতে মাছ ধরতে যেতে পারছেন না।
কমলনগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. ফরিদুল আলম বলেন, এ বিষয়ে অভিযোগ পাওয়া গেছে। আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
এদিকে পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে না এলে যেকোনো সময় অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। সংঘর্ষ এড়াতে প্রশাসনের দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।