পলাশ পাল, নেত্রকোণা জেলা প্রতিনিধি:
নেত্রকোণার মদনে ১১ বছরের শিশু শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ ও অন্তঃসত্ত্বা করার ঘটনায় অভিযুক্ত মাদরাসা শিক্ষক আমান উল্লাহ সাগরের ডিএনএ পরীক্ষার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। গতকাল রোববার (১০ মে) বিকেলে তিন দিনের রিমান্ড শেষে আসামিকে আদালতে হাজির করা হলে অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোহসিনা ইসলাম এই আদেশ দেন।
সংশ্লিষ্ট জিআরও সূত্র জানায়, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মো. আখতারুজ্জামান ঘটনার রহস্য উদঘাটন ও অকাট্য প্রমাণ সংগ্রহের লক্ষ্যে আসামির ডিএনএ পরীক্ষার আবেদন করেন। আদালত আবেদনটি মঞ্জুর করে দ্রুত পরীক্ষার নির্দেশ দিয়ে আসামিকে জেলহাজতে পাঠানোর আদেশ দেন।
ঘটনার বিবরণ:
মামলা সূত্রে জানা যায়, মদন উপজেলার একটি মহিলা কওমি মাদরাসার পরিচালক ও শিক্ষক আমান উল্লাহ সাগর ওই ছাত্রীকে বিভিন্ন সময় একাধিকবার ধর্ষণ করেন। লোকলজ্জা ও ভয়ে শিশুটি বিষয়টি এতদিন গোপন রাখলেও সম্প্রতি সে অসুস্থ হয়ে পড়ে। শারীরিক পরিবর্তনের এক পর্যায়ে ধরা পড়ে যে, শিশুটি ৭ মাসের অন্তঃসত্ত্বা। এই খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয় এবং ভুক্তভোগীর পরিবার থানায় মামলা দায়ের করে।
তদন্ত ও আইনি পদক্ষেপ:
ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত শিক্ষক পলাতক ছিলেন। গত সপ্তাহে র্যাব-১৪-এর একটি দল ময়মনসিংহের গৌরীপুর থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশে হস্তান্তর করে। গত ৭ মে (বৃহস্পতিবার) আদালত তার তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছিলেন। রিমান্ড চলাকালীন পুলিশ আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। অন্যদিকে, ভুক্তভোগী শিশুটি ইতোমধ্যে আদালতে ২২ ধারায় জবানবন্দি দিয়ে ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে সরাসরি অভিযোগ করেছে।
তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মো. আখতারুজ্জামান জানান, “ভিকটিমের জবানবন্দি এবং পারিপার্শ্বিক তথ্যপ্রমাণ সাগরের বিরুদ্ধে যাচ্ছে। ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নিশ্চিত করা গেলে মামলার বিচার প্রক্রিয়া আরও জোরালো হবে।”
বর্তমানে আসামি আমান উল্লাহ সাগর জেলা কারাগারে রয়েছেন। এই ঘটনায় এলাকায় এখনো থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে এবং স্থানীয়রা দোষী শিক্ষকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।