শিরোনাম
রামগড়ের গরুকাটায় দুই বাঙালি পরিবারের বসতঘরে আগুন, পুড়ে মারা গেল দুই গরু নান্দাইলকে মাদক, জুয়া ও চাঁদাবাজমুক্ত করতে সামাজিক উদ্যোগের ঘোষণা প্রতিমন্ত্রীর রামগড়ে খালেদা জিয়ার জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে দোয়া ও আলোচনা সভা চুয়াডাঙ্গায় দুই এমপির উপস্থিতিতে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন লালমোহনে খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মদিন উপলক্ষে বিএনপির আলোচনা ও দোয়া মাহফিল এমপি আয়নুল হকের ওপর হামলা, গাড়ি ভাঙচুর সোনারগাঁয়ের ঐতিহ্যবাহী বিদ্যালয়ে শিক্ষার মান নিয়ে প্রশ্ন, ৭১ পরীক্ষার্থীর ৪০ জনই অকৃতকার্য লংগদুতে ১৩ বছরের কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগে ৫৫ বছরের বৃদ্ধ গ্রেপ্তার তানোরে ১০৫ বিঘা জমিতে গড়ে উঠছে কুটুমবাড়ি এগ্রো রিসোর্ট, সৃষ্টি হবে বিপুল কর্মসংস্থান ধর্মপাশায় সরকারি কাজে বাধাদানের মামলায় সাংবাদিক গ্রেপ্তার, আদালতের মাধ্যমে কারাগারে
রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬, ০২:০৯ পূর্বাহ্ন

ভেড়ামারায় পদ্মার ভয়াবহ ভাঙন, বিলীন ৯৫০ বিঘা ফসলি জমি

প্রতিবেদকের নাম / ৩৭ বার দেখা হয়েছে
আপডেট : শুক্রবার, ১৪ আগস্ট, ২০২৬

 

হৃদয় রায়হান, কুষ্টিয়া প্রতিনিধি

কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলার বাহাদুরপুর ইউনিয়নের মাধবপুর, আড়কান্দি ও রায়টা এলাকায় পদ্মা নদীর ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিয়েছে। প্রায় ৫ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে অব্যাহত ভাঙনে গত বছর থেকে চলতি বছর পর্যন্ত প্রায় ৯৫০ বিঘা ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ভাঙনের কবলে পড়ে স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের একমাত্র শ্মশানঘাটও নদীতে হারিয়ে গেছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, গত দুই বছর ধরে ভাঙন চললেও ভাঙন ঠেকাতে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেয়নি পানি উন্নয়ন বোর্ড। ফলে পদ্মার পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নতুন করে নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে কৃষিজমি, পানবরজ ও কলাবাগান। এতে চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন কৃষক ও পানচাষিরা।

সরেজমিনে দেখা যায়, গত কয়েক দিন ধরে পদ্মার পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় মাধবপুর, আড়কান্দি ও রায়টা এলাকায় ভাঙনের তীব্রতা বেড়েছে। নদীর পাড় থেকে মাটি ও ফসলি জমি ধসে পড়ছে। ইতোমধ্যে শত শত পানচাষির প্রায় ৫ হাজার পলি পানবরজ এবং প্রায় ১০০ বিঘা কলাবাগান নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে।

কৃষক গিরি দাস বলেন, এ অঞ্চলে তাদের একটি প্রাচীন শ্মশানঘাট ছিল। সেটি রক্ষায় পানি উন্নয়ন বোর্ড কোনো কার্যকর ভূমিকা নেয়নি। শেষ পর্যন্ত শ্মশানঘাটটিও পদ্মায় বিলীন হয়ে গেছে। সেখানে এখন প্রায় ৫০ ফুট গভীর পানি।

পানচাষি ও ব্যবসায়ী নেতা আসলাম উদ্দিন বলেন, ভেড়ামারা উপজেলার সবচেয়ে বেশি পানচাষ হয় এই এলাকায়। দেশের পুরোনো ও ঐতিহ্যবাহী কুচিয়ামোড়া পানবাজার মূলত এখানকার পানের ওপর নির্ভরশীল। এ পর্যন্ত কয়েকশ পানচাষি প্রায় ৫০০ বিঘা জমিতে থাকা অন্তত ৫ হাজার পলি পানবরজ হারিয়েছেন। ভাঙন অব্যাহত থাকলে এ অঞ্চলের পানচাষ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

কুষ্টিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাশিদুর রহমান বলেন, প্রায় দুই মাস আগে থেকেই ওই এলাকায় ভাঙন শুরু হয়েছে। বর্তমানে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় কয়েক দিনে ভাঙন আরও বেড়েছে। ভাঙন রোধে প্রয়োজনীয়তার ভিত্তিতে প্রস্তাবনা দেওয়া হয়েছে। সেটি অনুমোদন হয়ে বাজেট না আসা পর্যন্ত কাজ করা সম্ভব হবে না।

ভেড়ামারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আমিরুল আরাফাত বলেন, ভাঙন রোধে কাজ করার জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডকে জোর তাগিদ দেওয়া হয়েছে। তিনি নিজেও ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনে যাবেন।

স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত ভাঙন প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া না হলে আরও বিপুল পরিমাণ কৃষিজমি, বসতভিটা ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। একই সঙ্গে পানচাষনির্ভর এ এলাকার শত শত পরিবারের জীবিকা হুমকির মুখে পড়বে।

Share this news as a Photo Card


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর
আর্কাইভস
14 August 2026

ভেড়ামারায় পদ্মার ভয়াবহ ভাঙন, বিলীন ৯৫০ বিঘা ফসলি জমি

www.dainikkagoj.com
14 August 2026

ভেড়ামারায় পদ্মার ভয়াবহ ভাঙন, বিলীন ৯৫০ বিঘা ফসলি জমি

www.dainikkagoj.com