মো. হোসেন, চট্টগ্রাম প্রতিনিধি
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার ফৌজদারহাট এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা জলিল টেক্সটাইল মিলের শ্রমিকদের বকেয়া পাওনা পরিশোধের দাবিতে শ্রমিক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সমাবেশ থেকে শ্রমিক নেতারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, শ্রমিকদের ন্যায্য পাওনা পরিশোধ না করে মিল হস্তান্তর বা মালিকানা পরিবর্তনের কোনো উদ্যোগ নেওয়া হলে কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।
শুক্রবার (৭ আগস্ট) ফৌজদারহাটে জলিল টেক্সটাইল মিলের সামনে এ শ্রমিক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে জলিল টেক্সটাইল মিলস ওয়ার্কার্স ইউনিয়নের সভাপতি মো. মসিউল্লাহ সভাপতিত্ব করেন। সংগঠনের সভাপতি মোহাম্মদ নছিদ্দিক উদ্দিনসহ শ্রমিক নেতারা এতে উপস্থিত ছিলেন।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে মিলটি বন্ধ থাকায় প্রায় ১ হাজার ৭৩ জন শ্রমিক ও তাঁদের পরিবার আর্থিক সংকটে পড়েছেন। বছরের পর বছর মিলটিতে শ্রমিকরা কাজ করলেও তাঁদের সব ন্যায্য পাওনা এখনো পরিশোধ করা হয়নি। ফলে শ্রমিক ও তাঁদের পরিবারের জীবনযাপন কঠিন হয়ে পড়েছে।
শ্রমিক নেতারা বলেন, শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধ না করে বন্ধ মিল হস্তান্তর বা মালিকানা পরিবর্তনের কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করা উচিত নয়। মিল হস্তান্তরের আগে শ্রমিকদের সব বকেয়া পাওনা পরিশোধের বিষয়ে কর্তৃপক্ষকে কার্যকর সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
বক্তারা আরও বলেন, একজন শ্রমিকের কাছে তাঁর পাওনা শুধু অর্থ নয়; এই অর্থ তাঁর সন্তানদের ভবিষ্যৎ, পরিবারের প্রয়োজন এবং দীর্ঘদিনের শ্রমের ন্যায্য মূল্য। শ্রমিকরা বছরের পর বছর অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন। তাই তাঁদের পরিশ্রমের ন্যায্য মূল্য পরিশোধ করেই মিল হস্তান্তর বা মালিকানা পরিবর্তনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।
সমাবেশে শ্রমিক নেতারা বলেন, শ্রমিকদের ন্যায্য পাওনা পরিশোধ ও নিষ্পত্তি না করে মিল হস্তান্তরের কোনো উদ্যোগ নেওয়া হলে শ্রমিকরা তা মেনে নেবেন না। প্রয়োজনে তাঁরা কঠোর আন্দোলন গড়ে তুলবেন।
তাঁরা আরও বলেন, শ্রমিকদের পাওনা আদায়ের দাবিতেই এই সমাবেশের আয়োজন করা হয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রায় ১ হাজার ৭৩ জন শ্রমিকের ন্যায্য পাওনা পরিশোধের ব্যবস্থা না হলে ভবিষ্যতে আরও বৃহত্তর কর্মসূচি ঘোষণা করা হতে পারে।
শ্রমিক নেতারা আশা প্রকাশ করেন, কর্তৃপক্ষ শ্রমিকদের দীর্ঘদিনের ন্যায্য পাওনা বুঝিয়ে দেওয়ার পরই জলিল টেক্সটাইল মিল হস্তান্তরের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে। শ্রমিকরাও দ্রুত তাঁদের পাওনা পরিশোধের বিষয়ে কর্তৃপক্ষের ইতিবাচক সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছেন।