মোখলেছুর রহমান ধনু
রামগতি-কমলনগর (লক্ষ্মীপুর) প্রতিনিধি
লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় এনজিওর ঋণের কিস্তি পরিশোধের চাপ এবং মামলার ভয়ে শত শত নারী বাড়িঘর ছেড়ে আত্মগোপনে রয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ঋণের বোঝা, মাঠকর্মীদের কথিত মানসিক হয়রানি ও দুর্ব্যবহারের কারণে অনেক নারী পরিবার-পরিজন ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন বলে স্থানীয়দের দাবি।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ৮ নম্বর চর কাদিরা ইউনিয়নের চর ঠিকা গ্রামের তারার বাপের বাড়ির কাজল রেখা, শিউলি বেগম ও রেখা বেগম, আবু কালামের বাড়ির নার্গিস বেগম, ইসমাইলের বাড়ির নাছিমা বেগম, মনিরের বাড়ির রোকেয়া বেগম এবং মজিবল হকের বাড়ির আয়শা বেগমসহ শত শত নারী বর্তমানে এলাকাছাড়া। দীর্ঘদিন ধরে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গেও তাদের অনেকের যোগাযোগ নেই বলে দাবি করা হয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, প্রিজম বাংলাদেশ, সাগরিকা, টিএমএস, কোডেক, প্রত্যাশী, গ্রামীণ ব্যাংকসহ বিভিন্ন ঋণদানকারী প্রতিষ্ঠানে ঋণ গ্রহণের সময় গ্রাহকদের কাছ থেকে সাদা স্ট্যাম্প, সাদা চেক, জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি, পাসপোর্ট সাইজের ছবি এবং জামিনদারের বিভিন্ন কাগজপত্র নেওয়া হয়। পরে কোনো কারণে কিস্তি পরিশোধে বিলম্ব হলে মাঠকর্মীরা দুর্ব্যবহার করেন এবং আইনি মামলার ভয় দেখান বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীদের স্বজনরা। তাদের দাবি, এসব কারণে অনেক নারী গ্রাম ছেড়ে আত্মগোপনে চলে গেছেন। ফলে চরাঞ্চলের বহু পরিবারে অনিশ্চয়তা ও উদ্বেগ বিরাজ করছে।
তবে অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্মকর্তারা ভিন্ন বক্তব্য দিয়েছেন।
গ্রামীণ ব্যাংকের করুনানগর শাখার কর্মকর্তা কমল বলেন, “চর কাদিরা ইউনিয়নে আমাদের অনেক ঋণগ্রহীতা ঋণের টাকা নিয়ে চলে গেছেন। তাদের এলাকায় পাওয়া যাচ্ছে না। তবে আমাদের অফিসিয়াল নিয়ম অনুযায়ী কার্যক্রম পরিচালনা করতে হয়।”
সাগরিকা এনজিওর কমলনগর শাখার ব্যবস্থাপক মো. আলাউদ্দিন বলেন, “শুধু চর কাদিরা এলাকাতেই আমাদের ৩০ থেকে ৩৫ জন গ্রাহক বর্তমানে পলাতক রয়েছেন।”
কোডেক কমলনগর শাখার মাঠকর্মী রেশমা বেগম বলেন, “গ্রাহক পলাতক রয়েছে, তবে সঠিক সংখ্যা অফিস থেকে জানানো যাবে।”
টিএমএস কমলনগর শাখার ব্যবস্থাপক মো. রাকিব বলেন, “আমাদেরও অনেক গ্রাহক বর্তমানে পলাতক।”
প্রিজম বাংলাদেশ কমলনগর শাখার ব্যবস্থাপক মাহাফুজুর রহমান বলেন, “অনেক গ্রাহক পলাতক আছেন। বিস্তারিত তথ্য অফিসে এসে নেওয়া যাবে।”
প্রত্যাশী এনজিওর কমলনগর শাখার ব্যবস্থাপক মিজানুর রহমান জানান, চর কাদিরা ইউনিয়নে তাদের ২০ থেকে ২৫ জন গ্রাহক পলাতক রয়েছেন এবং ১০ থেকে ১২ জনের বিরুদ্ধে মামলা চলমান রয়েছে।
এ বিষয়ে কমলনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাহাত উজ জামান বলেন, “এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত আমার কাছে কোনো লিখিত অভিযোগ আসেনি। আপনার মাধ্যমে বিষয়টি জানলাম। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”