শিরোনাম
দৌলতপুরে পদ্মার ভয়াবহ ভাঙন, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনে জেলা প্রশাসক রামগড়ে দুই বছর ধরে শূন্য উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার পদ, ব্যাহত শিক্ষা প্রশাসন হাবিলাসদ্বীপে গাউসিয়া কমিটির অভিষেক ও স্মরণসভা অনুষ্ঠিত লংগদুতে ছুরিকাঘাত করে অটোরিকশা চালকের ২ লাখ টাকা ছিনতাই ভাঙ্গুড়ায় বাংলাদেশ স্কাউটসের প্রথম উপজেলা ডে ক্যাম্প অনুষ্ঠিত পার্বতীপুর প্রেসক্লাবের নবনির্বাচিত কমিটির শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত রামগতিতে ডাকাতি-চাঁদাবাজির প্রতিবাদে মানববন্ধন, অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের দাবি সান্তাহারে নাগরিক কমিটির ১১ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি গঠন চুয়াডাঙ্গায় রাইস কুকারের সুইচ দিতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে গৃহবধূর মৃত্যু দুর্গাপুরে জামায়াতের গণমিছিল ও সমাবেশ: জুলাই সনদ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়নের সমাবেশ অনুষ্ঠিত 
রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ০৮:৪৩ অপরাহ্ন

দৌলতপুরে পদ্মার ভয়াবহ ভাঙন, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনে জেলা প্রশাসক

প্রতিবেদকের নাম / ২ বার দেখা হয়েছে
আপডেট : রবিবার, ২ আগস্ট, ২০২৬

 

স্টাফ রিপোর্টার | কুষ্টিয়া

কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার পদ্মা নদীর ভয়াবহ ভাঙনে মরিচা ইউনিয়নের ভুরকা-হাটখোলা থেকে কোলদিয়ার পর্যন্ত প্রায় দুই কিলোমিটার এলাকা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। গত দুই সপ্তাহ ধরে চলমান ভাঙনে বসতভিটা, চার ফসলি কৃষিজমি, ফলের বাগান ও বিভিন্ন স্থাপনা নদীগর্ভে বিলীন হওয়ায় চরম আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তায় দিন কাটাচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

রোববার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত ভাঙনকবলিত কোলদিয়ার হাটখোলাপাড়া, মাজদিয়ার ও ভুরকা এলাকা পরিদর্শন করেন কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক মো. তৌহিদ বিন-হাসান। এ সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন কুষ্টিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী রশিদুর রহমান, দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অনিন্দ্য গুহ এবং প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

পরিদর্শনকালে ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দারা জেলা প্রশাসকের কাছে তাদের দুর্ভোগের কথা তুলে ধরে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান। তাদের অভিযোগ, নদীভাঙনে বহু পরিবারের ঘরবাড়ি, আবাদি জমি ও ফলের বাগান বিলীন হয়েছে। এখনই প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে আরও বিস্তীর্ণ এলাকা নদীগর্ভে চলে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

স্থানীয়দের দাবি, পদ্মার পানি বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে ভাঙন জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। ভারত থেকে আমদানি করা ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুতের জাতীয় সঞ্চালন লাইন, রায়টা-মহিষকুণ্ডি বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ, জুনিয়াদহ বাজার, হাটখোলাপাড়া জামে মসজিদসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা হুমকির মুখে রয়েছে।

নদীভাঙনের কারণে কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও ঝুঁকিতে পড়েছে। এর মধ্যে রয়েছে নদী ভরাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ভুরকা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কোলদিয়ার কান্দিপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কোলদিয়ার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কোলদিয়ার মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং জুনিয়াদহ মাধ্যমিক বিদ্যালয়। এতে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে।

এলাকাবাসী অবিলম্বে জিও ব্যাগ ও কংক্রিট ব্লক ফেলে অস্থায়ীভাবে ভাঙন প্রতিরোধ এবং দীর্ঘমেয়াদে টেকসই নদীশাসন প্রকল্প বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন।

কুষ্টিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রশিদুর রহমান জানান, পদ্মা নদীর ভাঙন পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনের পর জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন প্রতিরোধের প্রস্তাব প্রস্তুত করা হচ্ছে। পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি নদীশাসন প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে সুপারিশ পাঠানো হয়েছে।

জেলা প্রশাসক মো. তৌহিদ বিন-হাসান বলেন, নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের দুর্ভোগ অত্যন্ত বেদনাদায়ক। জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে চাহিদাপত্র পাঠানো হচ্ছে। বরাদ্দ পাওয়া গেলে দ্রুত জিও ব্যাগ ফেলা ও অন্যান্য প্রতিরক্ষামূলক কাজ শুরু করা হবে। একই সঙ্গে স্থায়ী নদীশাসন ও বাঁধ নির্মাণের বিষয়েও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

Share this news as a Photo Card


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর
আর্কাইভস
02 August 2026

দৌলতপুরে পদ্মার ভয়াবহ ভাঙন, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনে জেলা প্রশাসক

www.dainikkagoj.com
02 August 2026

দৌলতপুরে পদ্মার ভয়াবহ ভাঙন, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনে জেলা প্রশাসক

www.dainikkagoj.com