মো. হোসেন, চট্টগ্রাম প্রতিনিধি:
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলা নির্বাচন অফিসে নতুন ভোটার নিবন্ধন ও জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) সংক্রান্ত সেবা নিতে এসে অতিরিক্ত কাগজপত্রের চাহিদা ও হয়রানির অভিযোগ করেছেন একাধিক সেবাপ্রার্থী।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, নির্বাচন কমিশনের সরকারি গেজেটে বাধ্যতামূলক নয়—এমন বিভিন্ন কাগজপত্র জমা দিতে বাধ্য করা হচ্ছে। এসব অতিরিক্ত কাগজপত্র দিতে না পারলে আবেদন গ্রহণে গড়িমসি করা হচ্ছে বা এনআইডি পাওয়া যাবে না বলে জানানো হচ্ছে।
বুধবার (২৯ জুলাই) সরেজমিনে উপজেলা নির্বাচন অফিসে গিয়ে দেখা যায়, নতুন ভোটার নিবন্ধনের জন্য আবেদনকারীদের একাধিক ধরনের কাগজপত্র সংগ্রহ করে আনতে বলা হচ্ছে। সেবাপ্রার্থী ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, এর মধ্যে কিছু নথি সরকারি নির্দেশনার বাইরে।
সেবাপ্রার্থীরা জানান, ডিজিটাল জন্ম নিবন্ধন, শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ, মা-বাবার জাতীয় পরিচয়পত্রসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেওয়ার পরও অতিরিক্ত নথি চাওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে যাদের মা-বাবার এনআইডি নেই, দীর্ঘদিন প্রবাসে ছিলেন বা অভিভাবক মারা গেছেন, তাদের নানা জটিলতার মুখে পড়তে হচ্ছে।
ভুক্তভোগী আরিফ হোসেন বলেন, “আমার ভাবি অসুস্থ। তার সব কাগজপত্র জমা দেওয়ার পরও বারবার নতুন কাগজপত্র আনতে বলা হয়েছে। পরে অসুস্থ অবস্থায় তাকে তিন-চারবার অফিসে নিয়ে এসেছি। কিন্তু সকাল ১১টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত অপেক্ষা করার পরও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে পাইনি। শেষে বলা হয়েছে, অন্যদিন আসতে। একটি সাধারণ কাজের জন্য বারবার অফিসে আসতে বাধ্য হচ্ছি।”
আরেক সেবাপ্রার্থী অভিযোগ করে বলেন, “আমার শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ নেই। অথচ এটি বাধ্যতামূলক না হওয়া সত্ত্বেও সনদ জমা দিতে বলা হয়েছে। সনদ দিতে না পারলে দুই হাজার টাকা দাবি করা হয়।” তবে এই অর্থ দাবির অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে সীতাকুণ্ড উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বলেন, “এ ধরনের একাধিক অভিযোগের কথা শুনেছি। বিষয়টি নির্বাচন কমিশনের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে খোঁজ নেওয়া হবে।”
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মেহেদী হাসানের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে অফিসে পাওয়া যায়নি। ফলে তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
এদিকে ভুক্তভোগী, জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় সচেতন মহল অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, ভোটার নিবন্ধন ও এনআইডি সেবা হয়রানিমুক্ত, স্বচ্ছ ও সহজ করতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।