মো. হোসেন, চট্টগ্রাম প্রতিনিধি:
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে আলোচিত শিশু ইরা হত্যা মামলার একমাত্র আসামি বাবু শেখকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে ধর্ষণচেষ্টা ও নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের অপরাধে তাকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড, আরও ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং মোট ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) চট্টগ্রামের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৪-এর বিচারক সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ জান্নাতুল ফেরদৌস এ রায় ঘোষণা করেন।
রায় অনুযায়ী, দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় হত্যা অপরাধে আসামিকে মৃত্যুদণ্ড ও ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। এছাড়া নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (সংশোধিত ২০০৩)-এর ৭ ধারায় যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও ১ লাখ টাকা অর্থদণ্ড এবং একই আইনের ৯(৪)(খ) ধারায় ধর্ষণচেষ্টার অপরাধে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ডের আদেশ দেন আদালত।
মামলাটি ঘটনার মাত্র ১২০ দিনের মধ্যে নিষ্পত্তি হয়। অভিযোগ গঠনের পর মাত্র ১০ কার্যদিবসে বিচারকাজ শেষ হয়। এ সময় ৬ কার্যদিবসে ১৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। গত ৩০ জুন আসামি বাবু শেখ আদালতে আত্মপক্ষ সমর্থনে সাফাই সাক্ষ্য দেন।
মামলার নথি অনুযায়ী, গত ১ মার্চ সকালে বাবু শেখ ঘুরতে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে শিশু ইরাকে বাড়ি থেকে বের করে সীতাকুণ্ড বোটানিক্যাল গার্ডেন ও ইকো পার্কে নিয়ে যায়। সেখানে সে শিশুটিকে ধর্ষণের চেষ্টা করে। এতে ব্যর্থ হয়ে দেশীয় ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার গলায় আঘাত করে পালিয়ে যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় ইরা স্থানীয় লোকজনের কাছে পৌঁছালে তারা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। চিকিৎসাধীন অবস্থায় পরে তার মৃত্যু হয়।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. সারওয়ার হোসেন লাভলু বলেন, শিশু ইরার ওপর সংঘটিত অপরাধ ছিল অত্যন্ত নৃশংস ও মানবতাবিরোধী। সাক্ষ্য-প্রমাণ, ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন এবং অন্যান্য আলামতের মাধ্যমে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আদালত সর্বোচ্চ শাস্তি প্রদান করেছেন। তিনি বলেন, এ রায় ভবিষ্যতে শিশু নির্যাতনের মতো জঘন্য অপরাধ প্রতিরোধে দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।
রায় ঘোষণার পর শিশুটির মা ও মামলার বাদী রোকেয়া বেগম আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন, “আমার মেয়ে আর কোনোদিন ফিরে আসবে না, আর মা বলে ডাকবে না। তবে আদালতের এই রায়ে আমি সন্তুষ্ট। আমার মেয়ের মতো অন্য কোনো শিশুর সঙ্গে যারা এমন নৃশংসতা করবে, তাদেরও যেন একইভাবে বিচার হয়।”
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) কামরুজ্জামান বলেন, ঘটনার পরপরই পুলিশ সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে আলামত সংগ্রহ, সাক্ষীদের জবানবন্দি গ্রহণ এবং সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন করে। আদালতের এ রায়ে তদন্তের যথার্থতা স্বীকৃতি পেয়েছে।