শাহাদাৎ হোসেন চৌধুরী, সোনারগাঁও (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি:
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও উপজেলায় ডিবি পুলিশের পরিচয় দিয়ে এক কাপড় ব্যবসায়ীর বাড়িতে হামলা, মারধর, ঘরবাড়ি তছনছ এবং নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার লুটের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী রিয়াদ কবির বাদী হয়ে মঙ্গলবার (২৩ জুন) সকালে সোনারগাঁও থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগটি গ্রহণ করে পুলিশ জানিয়েছে, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত সোমবার (২২ জুন) সকালে উপজেলার জামপুর ইউনিয়নের বুরুমদী গ্রামের বাসিন্দা ও কাপড় ব্যবসায়ী রিয়াদ কবিরের বাড়িতে স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি নিজেদের ডিবি পুলিশের সদস্য পরিচয় দিয়ে প্রবেশ করেন। অভিযোগে পিয়ার হোসেন, মাসুম, শফিকুল ইসলাম, আল-আমিন, লিটন হোসেন, মো. হোসেনসহ আরও ৪-৫ জন অজ্ঞাত ব্যক্তির নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগীর ভাষ্য অনুযায়ী, বাড়িতে প্রবেশের পর হামলাকারীরা তাকে মারধর করে এবং ঘরে মাদক রয়েছে দাবি করে তল্লাশির নামে আলমারি, শোকেস, খাট, ড্রয়ারসহ বিভিন্ন আসবাবপত্র তছনছ করে। একপর্যায়ে ঘরে থাকা প্রায় ৪ লাখ টাকা নগদ অর্থ এবং স্বর্ণালংকার নিয়ে যায়। যাওয়ার সময় মামলা ও গ্রেপ্তারের ভয় দেখিয়ে পরিবারকে বিভিন্ন ধরনের হুমকিও দেয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
ঘটনার সময় হামলাকারীদের একজনের একটি পরিচয়পত্র (আইডি কার্ড) ঘটনাস্থলে পড়ে যায় বলে জানান রিয়াদ কবির। ওই পরিচয়পত্রে অজয় কুমার জয় নামে একজনের পরিচয়, পদবি সিপাহী, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (Department of Narcotics Control) এবং আইডি নম্বর ৪৯১৩২৫ উল্লেখ ছিল বলে দাবি করা হয়েছে।
এ ঘটনায় নতুন মোড় নেয় যখন পরিচয়পত্রটি ফেরত দেওয়ার জন্য শরীফ হোসেন নামে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের এক সিপাহি পরিচয়ে একজন ফোন করে আইডি কার্ড ফেরত দেওয়ার জন্য চাপ ও হুমকি দেন বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী। তবে শরীফ হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তিনি কাউকে ফোন করেননি এবং এ ধরনের অভিযানের বিষয়েও কিছু জানেন না।
ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী রিয়াদ কবির বলেন, “পূর্ব শত্রুতার জেরে এলাকার একটি সংঘবদ্ধ চক্র পুলিশের সোর্স পরিচয় ব্যবহার করে আমার পরিবারকে হয়রানি করতে এ ঘটনা ঘটিয়েছে। মাদক উদ্ধারের নাটক সাজিয়ে তারা আমার বাড়িতে তাণ্ডব চালিয়েছে এবং নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার লুট করেছে। পরিবারের নিরাপত্তার স্বার্থে আমি থানায় অভিযোগ করেছি।”
অভিযোগে নাম থাকা পিয়ার হোসেন তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “ঘটনার কয়েকদিন ধরে আমি ওই এলাকায়ই যাইনি। কেউ যদি দাবি করে আমি সেখানে ছিলাম, তাহলে তার প্রমাণ দিতে হবে। তবে শুনেছি প্রশাসনের লোকজনের সঙ্গে রিয়াদ ও তার পরিবারের সদস্যদের কথা-কাটাকাটি ও মারামারির ঘটনা ঘটেছে।”
এ বিষয়ে সোনারগাঁও থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. গোলাম সারোয়ার বলেন, “অভিযোগটি গ্রহণ করা হয়েছে। ডিবি পুলিশের পরিচয় ব্যবহার করে কাউকে হয়রানি করা অত্যন্ত গুরুতর অপরাধ। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
স্থানীয়দের মতে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয় ব্যবহার করে অপরাধ সংঘটনের অভিযোগ উদ্বেগজনক। এ ধরনের ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের আইনের আওতায় আনা হলে সাধারণ মানুষের মধ্যে আস্থা আরও বৃদ্ধি পাবে বলে তারা মনে করেন।