কুয়েল ইসলাম সিহাত, পঞ্চগড় প্রতিনিধি:
পঞ্চগড় সদর উপজেলায় অবৈধ কারেন্ট জালের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে তিনটি দোকান থেকে ১৬৫টি কারেন্ট জাল জব্দ করা হয়েছে। জব্দকৃত জালগুলোর আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ২ লাখ টাকা। পরে স্থানীয় জনগণের উপস্থিতিতে বাজারের একটি ফাঁকা স্থানে জালগুলো আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়। একই সঙ্গে অবৈধ কারেন্ট জাল বিক্রির দায়ে এক ব্যবসায়ীকে ৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।
সোমবার (২২ জুন) বিকেলে পঞ্চগড় সদর উপজেলার টুনিরহাট বাজারে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এবং উপজেলা মৎস্য দপ্তরের সহযোগিতায় এ অভিযান পরিচালিত হয়।
অভিযানে টুনিরহাট বাজারের ব্যবসায়ী মাহবুব আলমের দোকানে বিপুল পরিমাণ অবৈধ কারেন্ট জাল পাওয়া যায়। এ অপরাধে মৎস্য সুরক্ষা ও সংরক্ষণ আইন, ১৯৫০-এর আওতায় তাকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এছাড়া আরও দুটি দোকানে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ কারেন্ট জাল জব্দ করা হলেও দোকানের মালিকরা অভিযানের খবর পেয়ে পালিয়ে যাওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা সম্ভব হয়নি। তবে জব্দকৃত সব জাল সরকারি হেফাজতে নিয়ে পরে ধ্বংস করা হয়।
অভিযানে নেতৃত্ব দেন পঞ্চগড় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আসিফ আলী। এ সময় সদর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা হিমেল চন্দ্র রায়, পুলিশের একটি দল এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা হিমেল চন্দ্র রায় বলেন, অবৈধ কারেন্ট জালের ব্যবহার দেশের মৎস্যসম্পদের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। এসব জালে ছোট-বড় সব ধরনের মাছ আটকা পড়ে, ফলে মাছের স্বাভাবিক প্রজনন ব্যাহত হয় এবং দেশীয় মাছের সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে কমে যায়। এ কারণে সরকার অবৈধ কারেন্ট জাল উৎপাদন, বিক্রি, সংরক্ষণ ও ব্যবহার নিষিদ্ধ করেছে।
তিনি আরও বলেন, দেশীয় মাছের প্রজনন, জলজ জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নিরাপদ মৎস্যসম্পদ নিশ্চিত করতে এ ধরনের অভিযান নিয়মিত পরিচালনা করা হবে। আইন অমান্য করে কেউ অবৈধ কারেন্ট জাল বিক্রি বা ব্যবহার করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও তিনি সতর্ক করেন।
স্থানীয় সচেতন মহল এ অভিযানের প্রশংসা করে বলেন, অবৈধ কারেন্ট জালের ব্যবহার বন্ধ করা গেলে দেশীয় মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে এবং নদী-খাল-বিলের প্রাকৃতিক পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।