এস চাঙমা সত্যজিৎ
স্টাফ রিপোর্টারঃ
আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে খাগড়াছড়ি জেলার কোরবানির পশুর হাটগুলো এখন জমজমাট হয়ে উঠেছে। পাহাড়ের প্রাকৃতিক পরিবেশে দেশীয় পদ্ধতিতে লালন-পালন করা গরু, মহিষ ও ছাগলের প্রতি স্থানীয় ক্রেতাদের পাশাপাশি জেলার বাইরের ক্রেতাদেরও ব্যাপক আগ্রহ দেখা যাচ্ছে।
জেলার বিভিন্ন উপজেলার পশুর হাট ঘুরে দেখা গেছে, ঈদকে সামনে রেখে হাটগুলোতে এখন উপচে পড়া ভিড়। স্থানীয় কৃষক ও খামারিরা তাদের নিজস্ব খামারে লালিত গরু, ছাগল ও মহিষ বিক্রির জন্য বাজারে এনেছেন। পাশাপাশি ব্যবসায়ীরাও বিভিন্ন এলাকা থেকে পশু সংগ্রহ করে হাটে তুলেছেন।
কোরবানির উদ্দেশ্যে পছন্দের পশু কিনতে প্রতিদিনই হাটে ভিড় করছেন ক্রেতারা। অনেকে জেলার বাইর থেকেও এসে পশু দেখে যাচ্ছেন। বিশেষ করে পাহাড়ি পরিবেশে বেড়ে ওঠা স্বাস্থ্যবান গরুগুলোর প্রতি ক্রেতাদের আকর্ষণ বেশি লক্ষ্য করা গেছে।
খামারি ও কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, খাগড়াছড়ির প্রাকৃতিক পরিবেশে সবুজ ঘাস ও প্রাকৃতিক খাদ্য ব্যবহার করে পশু পালন করা হয়। কৃত্রিম হরমোন বা ক্ষতিকর ওষুধ ব্যবহার না করায় এখানকার পশুর মান ভালো থাকে। এছাড়া প্রাণিসম্পদ বিভাগের পরামর্শ অনুযায়ী নিয়মিত পরিচর্যা ও চিকিৎসা দেওয়ায় পশুগুলো রোগমুক্ত ও স্বাস্থ্যবান থাকে।
হাট সূত্রে জানা গেছে, এবার খাগড়াছড়ির পশুর হাটে সর্বোচ্চ সাত লাখ টাকা মূল্যের গরু তোলা হয়েছে। তবে ক্রেতারা এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ তিন লাখ টাকা পর্যন্ত দাম প্রস্তাব করেছেন। অন্যদিকে সর্বনিম্ন পশুর মূল্য ধরা হয়েছে প্রায় ৫৫ হাজার টাকা।
এদিকে পশুর হাটে নিরাপত্তা ও সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। জাল টাকা প্রতিরোধ, ছিনতাই ও বিশৃঙ্খলা এড়াতে গোয়েন্দা পুলিশ, জেলা পুলিশ ও প্রাণিসম্পদ বিভাগের তত্ত্বাবধানে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। হাটগুলোতে জাল নোট শনাক্তকরণ টিমও কাজ করছে বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, প্রাণিসম্পদ বিভাগের নির্দেশনা মেনে স্বাস্থ্যসম্মত পশু কেনাবেচা নিশ্চিত হলে এবারের ঈদ বাজার আরও প্রাণবন্ত ও নিরাপদ হবে।