বিশেষ প্রতিনিধি, পাবনা:
পাবনার ভাঙ্গুড়ায় শিশু রামিসা হত্যা এবং সারাদেশে শিশু ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনার প্রতিবাদে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। শিশু নির্যাতন ও হত্যাকাণ্ডের বিরুদ্ধে দ্রুত বিচার এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে স্থানীয় শিক্ষার্থী, মুক্তিযোদ্ধার সন্তান, সাংবাদিক ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এ কর্মসূচিতে অংশ নেন।
শনিবার (২৩ মে) সকাল ১১টায় ভাঙ্গুড়া স্মৃতিসৌধ চত্বরে এ মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়। মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের উদ্যোগে এবং সাহেল আহমেদ সবুজের সহায়তায় আয়োজিত কর্মসূচিতে সভাপতিত্ব করেন সালেহ আহমেদ সবুজ।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, দেশে দিন দিন শিশু ধর্ষণ, নির্যাতন ও হত্যার ঘটনা উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। এসব ঘটনায় অনেক সময় অপরাধীরা আইনের ফাঁকফোকর ব্যবহার করে শাস্তি এড়িয়ে যাওয়ায় অপরাধ প্রবণতা আরও বাড়ছে। তারা শিশু রামিসাসহ সকল শিশু হত্যাকাণ্ডের দ্রুত তদন্ত, সুষ্ঠু বিচার এবং অপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান।
উপস্থিত শিক্ষার্থীদের পক্ষে বক্তব্য দেন আবু মো. আদিব ইরফান। তিনি বলেন, “শিশুরা আজ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। একটি সভ্য সমাজে শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্র ও সমাজের দায়িত্ব। আমরা চাই শিশু নির্যাতনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া হোক।”
মানববন্ধনে আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধার সন্তান, নাগরিক ও প্রজন্ম পরিষদের সভাপতি মো. গোলাম মোস্তফা, ভাঙ্গুড়া প্রেসক্লাবের সাংগঠনিক সম্পাদক ও দৈনিক আলোকিত বাংলাদেশের উপজেলা প্রতিনিধি মো. আব্দুল আজিজ, সাংবাদিক বিকাশ কুমারসহ স্থানীয় বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
বক্তারা আরও বলেন, শিশুদের নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে শুধু আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বা প্রশাসনের ওপর নির্ভর করলেই হবে না, সমাজের প্রতিটি মানুষকে সচেতন হতে হবে। পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সামাজিক সংগঠনগুলোকে শিশুদের সুরক্ষায় আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। একইসঙ্গে শিশু নির্যাতনবিরোধী সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তারা।
মানববন্ধন শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি ভাঙ্গুড়া পৌর শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে বকুলতলা এলাকায় গিয়ে শেষ হয়। এসময় অংশগ্রহণকারীরা শিশু নির্যাতন ও হত্যার বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং সরকার ও প্রশাসনের প্রতি কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।
কর্মসূচিতে বিভিন্ন বয়সী নারী-পুরুষ, শিক্ষার্থী, অভিভাবক, সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধি এবং সচেতন নাগরিকদের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। অংশগ্রহণকারীরা বলেন, শিশুদের নিরাপদ সমাজ গড়ে তুলতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে এবং শিশু নির্যাতনের বিরুদ্ধে “শূন্য সহনশীলতা” নীতি বাস্তবায়ন করতে হবে।