কুষ্টিয়ায় সন্ত্রাসী হামলা: স্বেচ্ছাসেবক দল নেতাসহ অন্তত ১২ জন গুলিবিদ্ধ
কুষ্টিয়া প্রতিনিধি
কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার মরিচা ইউনিয়নের মাজদিয়ার গ্রামে সোমবার দিবাগত রাতে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটেছে। বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতার সুযোগ নিয়ে একদল সশস্ত্র দুর্বৃত্ত হামলা চালিয়ে নারীসহ অন্তত ১০-১২ জনকে গুলি করে আহত করে। আহতদের মধ্যে মরিচা ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক রবিউল ইসলামসহ কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর বলে জানা গেছে।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, সোমবার রাত আনুমানিক ১১টার দিকে মাজদিয়ার মাদ্রাসাপাড়া এলাকায় হঠাৎ বিদ্যুৎ চলে যায়। এর কিছুক্ষণ পরই ওত পেতে থাকা সশস্ত্র দুর্বৃত্তরা দেশীয় অস্ত্র ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে রবিউল ইসলামের বাড়িতে অতর্কিত হামলা চালায়। কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই তারা বাড়ির নারী-পুরুষদের লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি ছোড়ে।
এ হামলায় গুলিবিদ্ধদের মধ্যে রয়েছেন—মাজদিয়ার গ্রামের হাফেজ প্রামাণিকের ছেলে ও মরিচা ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক রবিউল ইসলাম, সাহাজ প্রামাণিকের ছেলে কামু, কটা প্রামাণিকের ছেলে রানা, জাকায়াত প্রামাণিকের ছেলে হাফেজ প্রামাণিক, রানার স্ত্রী তমা খাতুন, রুমনের স্ত্রী রুনা এবং রাকিব ডাক্তারের স্ত্রী মুন্নীসহ আরও কয়েকজন।
হামলার পর স্থানীয়রা দ্রুত আহতদের উদ্ধার করে দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
ঘটনার পর পুরো এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। আতঙ্কগ্রস্ত স্থানীয়রা এ নৃশংস হামলার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
আহতদের একজনের স্বজন মেহেদী হাসান বলেন, “রাতে হঠাৎ বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার পরপরই একদল অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী আমাদের বাড়িতে হামলা চালায়। তারা নারী-পুরুষ কাউকেই রেহাই দেয়নি, নির্বিচারে গুলি করে আতঙ্ক সৃষ্টি করে পালিয়ে যায়।”
এ বিষয়ে দৌলতপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সৈকত বিশ্বাস জানান, মরিচা এলাকায় রাতে একটি অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। গুলিবিদ্ধরা চিকিৎসাধীন আছেন এবং পুরো বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে।








