সোমবার, ০২ মার্চ ২০২৬, ১০:৫০ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
তৃণমূল থেকে উঠে আসা এক আদর্শিক নেতা: তাড়াশের রাজনীতিতে মো. সোলাইমান হোসেন সিহাব স্বাধীনতার প্রথম সূর্যোদয়: যে কক্ষে রচিত হয়েছিল বাংলাদেশের পতাকার নকশা কুষ্টিয়ায় লালন আঁখড়াবাড়ীতে দোল পুর্ণিমা উৎসবের প্রস্তুতি সম্পন্ন  কুষ্টিয়ার মিরপুরে সংসদ সদস্যের সাথে সরকারি কর্মকর্তাদের মতবিনিময়  কুষ্টিয়ায় ট্রেনের নিচে পড়ে মোটরসাইকেল আরোহী নিহত  অভিযোগ ও সংবাদ প্রকাশের পরে তাড়াশ সদর ইউনিয়ন ভূমি উপসহকারী মোঃ আরিফুল ইসলাম পলাশকে শাস্তিমূলক বদলি কমলনগরে নদী কেড়েছে ভিটেমাটি, কাড়তে পারেনি ভালোবাসা: চর কালকিনিতে মাস্টার সাইফুল্লাহর ৩৩ বছরের আস্থার প্রতিচ্ছবি কুষ্টিয়ায় জিকে ক্যানেল থেকে নিখোঁজ শিশুর মরদেহ উদ্ধার পিআরও হিসেবে সাংবাদিক নিয়োগের প্রস্তাব সচিবালয়ে জমা   আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করায় তিন ভাই গ্রেপ্তার 

জামালপুরে দানকৃত স্কুলের জমি সাব-কবলায় বিক্রি ! প্রাপ্যতা নিয়ে মামলা

Reporter Name / ৯৫ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ২৭ নভেম্বর, ২০২৫

জামালপুর প্রতিনিধি:

জামালপুর সদর উপজেলার দিগপাইত ইউনিয়নের দিঘলী গ্রামে ‘ফরিদুল কবীর শামীম জুনিয়র মডেল স্কুল’ নামে একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য দান করা ৭২ শতাংশ জমি সাব-কবলা দলিল মূলে বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বর্তমানে জমির বৈধ প্রাপ্যতা নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে আদালতে পাল্টাপাল্টি মামলা চলমান রয়েছে, যা স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।

​স্থানীয় ও ভুক্তভোগী ওয়ারিশ সূত্রে জানা যায়, ২০০২ সালের ১৯ মার্চ দিঘলী গ্রামের বাসিন্দা মৃত খাদেম আলী সরকারের ছেলে সৈয়দ আলী সরকার এলাকার ছেলে-মেয়েদের পড়াশোনার স্বার্থে একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে তাঁর পৈতৃক সম্পত্তি থেকে রঘুনাথপুর দিঘলী মৌজার ৭২ শতাংশ জমি তৎকালীন বিদ্যালয়ের সেক্রেটারি ফরিদুল কবীর শামীম তালুকদারের নামে দানপত্র দলিল (দলিল নং-৬০৩১) করে দেন। এরপর প্রতিষ্ঠানটির নাম রাখা হয় ‘ফরিদুল কবীর শামীম জুনিয়র মডেল স্কুল’।

​পরবর্তীতে শিক্ষার্থীদের অপ্রতুলতার কারণে বিদ্যালয়টি বন্ধ হয়ে যায় এবং দীর্ঘদিন পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকে। এমতাবস্থায় ২০১৬ সালের ১৯ এপ্রিল অভিযুক্ত ফরিদুল কবীর শামীম তালুকদার ‘প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজনে’ দেখিয়ে এই জমির মধ্যে ৬৫ শতাংশ বিদ্যালয়ের সভাপতি আবুল কালাম আজাদ ওরফে আমজাদের নিকট সাব-কবলা দলিল মূলে বিক্রি করেন। দলিলটির নম্বর-৬৪৮৭।

​জমির বিক্রির বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর দানকারীর ওয়ারিশগণ তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। দানকারীর কন্যা জেলীনা বেগম জানান, তাঁর বাবা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নির্মাণের উদ্দেশ্যেই জমিটি দান করেছিলেন, কিন্তু এটি বিক্রি হয়ে যাওয়ায় তারা বিস্মিত। এ বিষয়ে শামীম তালুকদারের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি দাবি করেন, জমি গ্রহীতা আবুল কালাম আজাদ ওরফে আমজাদ যে সৈয়দ আলীর ছেলে নন, তা তিনি জানতেন না।

​এরপরই জমি দানকারীর ওয়ারিশগণ এই বিক্রির বিরুদ্ধে আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। অন্যদিকে, সাব-কবলা মূলে জমি গ্রহীতা আবুল কালাম আজাদ ওরফে আমজাদ সেই মামলার বিরুদ্ধে আরেকটি মামলা দায়ের করেছেন বলে তাঁর স্ত্রী রোকসানা বেগম নিশ্চিত করেছেন। বর্তমানে উভয় পক্ষের দুটি মামলা আদালতে চলমান রয়েছে।

​শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নামে দান করা জমি এভাবে সাব-কবলায় বিক্রি করার অভিযোগ ওঠায় এলাকায় বেশ চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় মোজাম্মেল হকসহ অনেকেই এই লেনদেনকে ‘অনৈতিক কাজ’ বলে অভিহিত করেছেন। তাঁরা বলছেন, শামীম তালুকদারের মতো একজন বিজ্ঞ ব্যক্তি এই ধরনের কাজ করবেন, তা ‘অবিশ্বাস্য’। দিঘলী গ্রামে বর্তমানে এ বিষয়টি নিয়ে তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে।

​জমির প্রকৃত মালিকানা ও প্রাপ্যতা নির্ধারণের বিষয়টি এখন পুরোপুরি আদালতের চূড়ান্ত ফলাফলের ওপর নির্ভর করছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
এক ক্লিকে বিভাগের খবর