বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:৫৩ অপরাহ্ন
শিরোনাম
ইয়ারিংছড়ি সেনামৈত্রী উচ্চ বিদ্যালয়ের এসএসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায় ও নবীন শিক্ষার্থীদর বরণ অনুষ্ঠিত  গোপালগঞ্জে পাসপোর্ট সেবায় ধস: লোডশেডিংয়ে থমকে কাজ, ভোগান্তিতে সেবাপ্রত্যাশী লালমোহনে স্পিকার মেজর হাফিজ উদ্দিন আহমেদকে নাগরিক সংবর্ধনা খাগড়াছড়ির মানিকছড়িতে সিন্দুকছড়ি জোন আয়োজনে বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা ও মেডিকেল চক্ষু ক্যাম্পেইন  তাড়াশে ধান ক্ষেত থেকে এক ব্যক্তির রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার গোপালগঞ্জে টেকনিক্যাল শিক্ষার্থীদের জন্য চাকরি মেলা ও সেমিনার প্রতিপক্ষের হামলায় বসতঘর হারিয়ে খোলা আকাশের নিচে বসবাস,মামলা করে নিরাপত্তাহীনতায় পরিবার টুঙ্গিপাড়া প্রেস ক্লাবের দ্বিবার্ষিক নির্বাচন সম্পন্ন, সভাপতি আফজাল ও সম্পাদক মুকুল রামগতি- কমলনগরে দুই মাসের নিষেধাজ্ঞা: মেঘনা পাড়ের ‘জলকন্যাদের’ ঘরে নেই চুলার আগুন ধামইরহাটে হজ যাত্রা  উপলক্ষে দোয়া ও বিদায় অনুষ্ঠিত

রামগতি- কমলনগরে দুই মাসের নিষেধাজ্ঞা: মেঘনা পাড়ের ‘জলকন্যাদের’ ঘরে নেই চুলার আগুন

Reporter Name / ১৩ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল, ২০২৬

মোখলেছুর রহমান ধনু

রামগতি-কমলনগর (লক্ষ্মীপুর) প্রতিনিধি

মেঘনা নদীতে ইলিশের নিরাপদ বংশবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে সরকারের ঘোষিত দুই মাসের মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞা চলছে। এই সময়ে নদী তীরবর্তী হাজারো জেলের জীবনে নেমে এসেছে স্থবিরতা। তবে লক্ষ্মীপুরের রামগতি ও কমলনগরে নারী জেলেদের দুর্দশা যেন আরও গভীর—কাজ নেই, আয় নেই, আবার সরকারি সহায়তাও নেই।

কমলনগরের মেঘনা পাড়ে গিয়ে দেখা যায়, আলেয়া বেগমসহ অনেক নারী জেলে পরিবার নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। নদীকেই জীবনের অবলম্বন করে বড় হওয়া আলেয়া বলেন,আমার জন্ম নদীতে, বিয়াও হইছে এই নদীতেই। মাছ ধইরাই সংসার চালাই। এখন অভিযান চলতেছে, নদীতে নামা বন্ধ। ঘরে চাউল নাই, পোলাপাইন নিয়া অনেক কষ্টে দিন কাটাইতাছি।”একই চিত্র বিধবা খতিজার জীবনেও। স্বামী হারানোর পর দীর্ঘদিন ধরে মেঘনায় মাছ ধরে সন্তানদের বড় করেছেন তিনি। বর্তমানে ছোট মেয়েকে নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন পার করছেন। ক্ষোভ প্রকাশ করে খতিজা বলেন,“দেশের সবাই সাহায্য পায়, আমরা পাই না। মেম্বার-চেয়ারম্যানরা আমাদের খোঁজও নেয় না।”স্থানীয়দের অভিযোগ, পুরুষ জেলেরা সরকারি ভিজিএফ সহায়তা পেলেও নারী জেলেরা তালিকার বাইরে রয়ে গেছেন। আলেয়া ও খতিজার মতো অনেকেই দাবি করেন, তারা নিয়মিত নদীতে মাছ ধরলেও প্রশাসনের কাছে ‘জেলে’ হিসেবে স্বীকৃতি পান না। ফলে নিষেধাজ্ঞার সময়ে কোনো সরকারি সহায়তা বা বিকল্প কর্মসংস্থানের সুযোগ থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন তারা।এ বিষয়ে কমলনগর উপজেলার সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা তূর্য সাহা বলেন,“রামগতি ও কমলনগরে মহিলা জেলে তেমন নেই, হাতেগোনা কয়েকজন থাকতে পারে।”তবে মাঠ পর্যায়ের বাস্তবতা ভিন্ন কথা বলছে। নদী তীরবর্তী মানুষের মতে, সঠিক জরিপ ও তদারকির অভাবেই প্রকৃত নারী জেলেরা সরকারি তালিকার বাইরে থেকে যাচ্ছেন।ইলিশের বংশবৃদ্ধির জন্য এই নিষেধাজ্ঞা যতটা জরুরি, ততটাই জরুরি জেলে পরিবারগুলোর জীবিকা নিশ্চিত করা—এমনটাই মনে করছেন স্থানীয় সচেতন মহল।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
এক ক্লিকে বিভাগের খবর