রামগতি- কমলনগরে দুই মাসের নিষেধাজ্ঞা: মেঘনা পাড়ের ‘জলকন্যাদের’ ঘরে নেই চুলার আগুন
মোখলেছুর রহমান ধনু
রামগতি-কমলনগর (লক্ষ্মীপুর) প্রতিনিধি
মেঘনা নদীতে ইলিশের নিরাপদ বংশবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে সরকারের ঘোষিত দুই মাসের মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞা চলছে। এই সময়ে নদী তীরবর্তী হাজারো জেলের জীবনে নেমে এসেছে স্থবিরতা। তবে লক্ষ্মীপুরের রামগতি ও কমলনগরে নারী জেলেদের দুর্দশা যেন আরও গভীর—কাজ নেই, আয় নেই, আবার সরকারি সহায়তাও নেই।
কমলনগরের মেঘনা পাড়ে গিয়ে দেখা যায়, আলেয়া বেগমসহ অনেক নারী জেলে পরিবার নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। নদীকেই জীবনের অবলম্বন করে বড় হওয়া আলেয়া বলেন,আমার জন্ম নদীতে, বিয়াও হইছে এই নদীতেই। মাছ ধইরাই সংসার চালাই। এখন অভিযান চলতেছে, নদীতে নামা বন্ধ। ঘরে চাউল নাই, পোলাপাইন নিয়া অনেক কষ্টে দিন কাটাইতাছি।”একই চিত্র বিধবা খতিজার জীবনেও। স্বামী হারানোর পর দীর্ঘদিন ধরে মেঘনায় মাছ ধরে সন্তানদের বড় করেছেন তিনি। বর্তমানে ছোট মেয়েকে নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন পার করছেন। ক্ষোভ প্রকাশ করে খতিজা বলেন,“দেশের সবাই সাহায্য পায়, আমরা পাই না। মেম্বার-চেয়ারম্যানরা আমাদের খোঁজও নেয় না।”স্থানীয়দের অভিযোগ, পুরুষ জেলেরা সরকারি ভিজিএফ সহায়তা পেলেও নারী জেলেরা তালিকার বাইরে রয়ে গেছেন। আলেয়া ও খতিজার মতো অনেকেই দাবি করেন, তারা নিয়মিত নদীতে মাছ ধরলেও প্রশাসনের কাছে ‘জেলে’ হিসেবে স্বীকৃতি পান না। ফলে নিষেধাজ্ঞার সময়ে কোনো সরকারি সহায়তা বা বিকল্প কর্মসংস্থানের সুযোগ থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন তারা।এ বিষয়ে কমলনগর উপজেলার সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা তূর্য সাহা বলেন,“রামগতি ও কমলনগরে মহিলা জেলে তেমন নেই, হাতেগোনা কয়েকজন থাকতে পারে।”তবে মাঠ পর্যায়ের বাস্তবতা ভিন্ন কথা বলছে। নদী তীরবর্তী মানুষের মতে, সঠিক জরিপ ও তদারকির অভাবেই প্রকৃত নারী জেলেরা সরকারি তালিকার বাইরে থেকে যাচ্ছেন।ইলিশের বংশবৃদ্ধির জন্য এই নিষেধাজ্ঞা যতটা জরুরি, ততটাই জরুরি জেলে পরিবারগুলোর জীবিকা নিশ্চিত করা—এমনটাই মনে করছেন স্থানীয় সচেতন মহল।








