মোখলেছুর রহমান ধনু রামগতি-কমলনগর (লক্ষ্মীপুর) প্রতিনিধি
লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার হাজিরহাট বাজারে অবস্থিত আলিফ হোটেলের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচারের অভিযোগ উঠেছে। ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া একটি ছবি ও ভিডিওকে ভিত্তিহীন দাবি করে এর প্রতিবাদ জানিয়েছেন হোটেলটির সত্ত্বাধিকারী মো. রুবেল। এ ঘটনায় প্রতিষ্ঠানের সুনাম ও ব্যবসায়িক মর্যাদা ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ তাঁর।
হোটেল কর্তৃপক্ষের দাবি, ২০২৩ সালে হাজিরহাট বাজারে আধুনিক ও রুচিশীল পরিবেশে আলিফ হোটেল চালু করা হয়। প্রতিষ্ঠার পর থেকে খাবারের মান, স্বাদ ও পরিবেশের দিকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে আসছে প্রতিষ্ঠানটি। হোটেলটির সাফল্য দেখে আশপাশে আরও কয়েকটি খাবারের প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে বলেও জানান সংশ্লিষ্টরা।
হোটেলের সত্ত্বাধিকারী মো. রুবেল জানান, তাঁদের প্রতিষ্ঠানটি সম্পূর্ণ সিসিটিভি ক্যামেরার আওতাধীন। খাবারের মান ও স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ বজায় রাখতে রান্নাঘরে বহিরাগতদের প্রবেশে কঠোর নজরদারি করা হয়।
তিনি বলেন, শুক্রবার (৬ নভেম্বর) হোটেলকে কেন্দ্র করে একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এতে তাঁর ব্যক্তিগত ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের সুনাম ক্ষুণ্ন হয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে আটজন যুবককে শনাক্ত করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। পরে ওই যুবকেরা নিজেদের ভুল বুঝতে পেরে ব্যবহৃত মোবাইল ফোন থেকে ছবি ও ভিডিও মুছে ফেলেছেন বলে জানান হোটেল মালিক। তবে ঘটনার প্রমাণ হিসেবে তাঁদের ছবি স্ক্রিনশট করে সংরক্ষণ করা হয়েছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
রুবেল আরও বলেন, দূরদূরান্ত থেকে আসা পর্যটকদের জন্য হোটেলে খাবারের বিশেষ ছাড়ের ব্যবস্থা রয়েছে। প্রতিদিন ৪৪ জন দক্ষ কর্মচারী প্রায় ৩০০ থেকে ৪০০ জন গ্রাহককে সেবা দিয়ে থাকেন। গ্রাহকদের সন্তুষ্টি ও খাবারের মান বজায় রাখাই তাঁদের প্রধান লক্ষ্য।
এদিকে, ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর হোটেলটির রান্নাঘর ও পরিবেশ পরিদর্শন করেছে উপজেলা প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট বিভাগ।
কমলনগর উপজেলা স্যানিটারি ইন্সপেক্টর মো. রিয়াজ বলেন, “ফেসবুকে ঘটনাটি দেখে আমরা দ্রুত হোটেলটিতে উপস্থিত হই। রান্নাঘরের পরিবেশ চমৎকার ছিল। তবে হোটেলের সার্বিক পরিবেশ পরিদর্শন করে ভবিষ্যতে খাবারের মান ও স্বাস্থ্যবিধি রক্ষায় আরও সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।”
তিনি আরও জানান, উপজেলার বিভিন্ন বাজারের খাবার হোটেল ও কনফেকশনারি প্রতিষ্ঠান নিয়মিত মনিটরিং করা হচ্ছে।
কমলনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রাহাত উজ জামান বলেন, “বাজারের খাবারের দোকানসংক্রান্ত ঘটনায় এখন পর্যন্ত কেউ অভিযোগ করেননি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় আলোচনা চলছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য ও অভিযোগের যথাযথ যাচাইয়ের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটনের দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।