মো. মাসুদ রানা, বিশেষ প্রতিনিধি
‘অহিংসা পরম ধর্ম’—গৌতম বুদ্ধের এই বাণী ধারণ করে খাগড়াছড়ির দীঘিনালা উপজেলায় মাসব্যাপী দানোত্তম কঠিন চীবরদান উৎসব শুরু হয়েছে। সোমবার (২৬ অক্টোবর) উপজেলার তিনটি বৌদ্ধ বিহারে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও নানা আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে এ উৎসবের সূচনা হয়।
প্রবারণা পূর্ণিমার মধ্য দিয়ে বৌদ্ধ ভিক্ষুদের তিন মাসব্যাপী বর্ষাবাস শেষ হওয়ার পরদিন থেকে দানোত্তম কঠিন চীবরদান উৎসব শুরু হয়। এরই ধারাবাহিকতায় দীঘিনালায় প্রথম দিনে ধাম্মাচারিয়া বৌদ্ধ বিহার, বোয়ালখালী দশবল বৌদ্ধ রাজ বিহার ও তপোবন বৌদ্ধ বিহারে কঠিন চীবরদান অনুষ্ঠিত হয়।
ধাম্মাচারিয়া বৌদ্ধ বিহারে আয়োজিত কঠিন চীবরদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দীঘিনালা জোনের জোন অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. আল আমিন, ইউএসসি, পিএসসি।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উদাল বাগান সংঘরত্ন বৌদ্ধ বিহারের অধ্যক্ষ ভদন্ত শ্রদ্ধা লংকার মহাস্থবির। আশীর্বাদক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পার্বত্য ভিক্ষু সংঘ বাংলাদেশের উপ-সংঘরাজ ভদন্ত শ্রদ্ধা লংকার মহাস্থবির।
অনুষ্ঠানে ধর্মদেশনা দেন পার্বত্য ভিক্ষু সংঘ বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক ভদন্ত লোকমিত্র স্থবির এবং রাঙামাটি আনন্দ বিহারের উপাধ্যক্ষ ভদন্ত বিমল জ্যোতি মহাস্থবির।
এ ছাড়া অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন দীঘিনালা সরকারি ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ তরুণ কান্তি চাকমা, দীঘিনালা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান চন্দ্র রঞ্জন চাকমাসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে লে. কর্নেল মো. আল আমিন বলেন, সব ধর্মের বাণী মানুষের কল্যাণ ও মঙ্গল কামনা করে। ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে পারস্পরিক বন্ধন ও সম্প্রীতি আরও দৃঢ় করে।
কঠিন চীবরদান বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় উৎসব। বর্ষাবাস শেষে বৌদ্ধ ভিক্ষুদের চীবর (বস্ত্র) দানকে কেন্দ্র করে এ উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের পাশাপাশি এ আয়োজন স্থানীয় বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতি বৃদ্ধিতেও ভূমিকা রাখে।
আয়োজক সূত্রে জানা গেছে, এ বছর দীঘিনালা উপজেলায় ৮টি বনবিহার ও ৩৯টি বৌদ্ধ বিহারে দানোত্তম কঠিন চীবরদান উৎসব অনুষ্ঠিত হবে। মাসব্যাপী এসব আয়োজনের মধ্য দিয়ে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের পাশাপাশি পারস্পরিক সম্প্রীতির পরিবেশ আরও সুদৃঢ় হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।