পলাশ পাল, নেত্রকোনা জেলা প্রতিনিধি:
নেত্রকোনার কলমাকান্দায় বিদ্যালয়ের জমি ও সংলগ্ন সরকারি হালট দখল করে নির্মিত ২২টি অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করেছে উপজেলা প্রশাসন। রোববার (১১ অক্টোবর) সকাল ১১টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত কলমাকান্দা মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ ও আশপাশের এলাকায় এ অভিযান চালানো হয়। এ সময় এক্সকাভেটর দিয়ে স্থাপনাগুলো ভেঙে ফেলার পাশাপাশি নির্মাণসামগ্রী সরিয়ে নেওয়া হয়।
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. শামসুজ্জামান আসিফের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে সদর ইউনিয়ন ভূমি অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও পুলিশের একটি দল উপস্থিত ছিল।
উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয়ের জমি এবং সামনের সরকারি হালট দখল করে সেখানে স্থায়ী দোকানঘর নির্মাণ করে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিলেন কয়েকজন ব্যবসায়ী। এতে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা খেলার মাঠ ব্যবহারের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছিল। পাশাপাশি ব্যাহত হচ্ছিল স্বাভাবিক শিক্ষার পরিবেশ।
বিদ্যালয়ের জমি উদ্ধার, খেলার মাঠ রক্ষা ও নতুন ভবন নির্মাণের দাবিতে সম্প্রতি আন্দোলনে নামে শিক্ষার্থীরা। এ দাবিতে তারা দুই দফায় মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করে। পরে বিদ্যালয়ের সম্পত্তি রক্ষায় ছয় দফা দাবি নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয় ঘেরাও করে তারা।
কলমাকান্দা সদর ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা মো. মশিউর রহমান সেলিম জানান, কলমাকান্দা মৌজার এসএ ১০ নম্বর দাগে অবস্থিত সরকারি হালট এবং এসএ ৭৬ নম্বর দাগে অবস্থিত বিদ্যালয়ের জমি দখলমুক্ত করতে গত এক সপ্তাহে অবৈধ দখলদারদের একাধিকবার মৌখিকভাবে সতর্ক করা হয়। এরপরও তাঁরা জায়গা ছেড়ে না দেওয়ায় প্রশাসনের উদ্যোগে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযানে দীর্ঘদিনের দখলমুক্তির দাবি পূরণ হওয়ায় স্বস্তি প্রকাশ করেছে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা। শিক্ষার্থী মো. ফাহিম মিয়া, নৈঋতা পত্রনবীশ ও ইনতিশার অরোরা ফারহা জানায়, বিদ্যালয়ের জমি ও খেলার মাঠ উদ্ধারের দাবিতে তারা আন্দোলন করেছিল। অবশেষে স্থাপনাগুলো উচ্ছেদ হওয়ায় তারা আনন্দিত।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এ কে এম শাহজাহান কবীর বলেন, “বিদ্যালয়ের জমি ও সরকারি হালট দখলমুক্ত করায় উপজেলা প্রশাসনকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই। এখন শিশুদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে দ্রুত বিদ্যালয়ের নতুন ভবন, সীমানাপ্রাচীর, প্রবেশগেট ও খেলার মাঠ নির্মাণ করা প্রয়োজন।”
তবে উচ্ছেদ হওয়া কয়েকজন ব্যবসায়ী লিখিত নোটিশ না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যবসায়ী বলেন, “আমাদের কোনো লিখিত নোটিশ দেওয়া হয়নি, কেবল মৌখিকভাবে বলা হয়েছিল। দীর্ঘদিন ধরে এখানে ব্যবসা করে আসায় আকস্মিক উচ্ছেদে আমরা বড় বিপাকে পড়েছি।”
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এন. এম. আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, “সরকারি স্বার্থসংশ্লিষ্ট সম্পত্তি উদ্ধার ও জনস্বার্থ রক্ষায় এ ধরনের অভিযান নিয়মিত পরিচালনা করা হচ্ছে। সরকারি সম্পত্তি রক্ষায় প্রশাসনের এ অবস্থান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।”