মোখলেছুর রহমান ধনু
রামগতি-কমলনগর (লক্ষ্মীপুর) প্রতিনিধি
লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার মুন্সিগঞ্জ বাজার সংলগ্ন বিশাল মাঠে শুরু হয়েছে তিন দিনব্যাপী ইসলাহী ইজতেমা। বাংলাদেশ মুজাহিদ কমিটি কমলনগর উপজেলা শাখার উদ্যোগে এবং মুন্সিগঞ্জ মারকাযুত তাক্বওয়া ইসলামিয়া মাদরাসা ও স্থানীয় ব্যবসায়ীদের সহযোগিতায় আয়োজিত এ ধর্মীয় সমাবেশকে ঘিরে পুরো এলাকায় বিরাজ করছে উৎসবমুখর ও ধর্মীয় আবহ।
রবিবার (১০ মে) সকাল থেকেই কমলনগরসহ আশপাশের বিভিন্ন উপজেলা ও জেলা থেকে হাজারো ধর্মপ্রাণ মুসল্লি ইজতেমা প্রাঙ্গণে সমবেত হতে থাকেন। আগামী ১০, ১১ ও ১২ মে পর্যন্ত চলবে এই ইসলাহী ইজতেমা। পরে ১৩ মে বুধবার অনুষ্ঠিত হবে নারীদের জন্য বিশেষ মহিলা মাহফিল।
ইজতেমা উপলক্ষে মুসল্লিদের জন্য নেওয়া হয়েছে ব্যাপক প্রস্তুতি। ওজু, গোসল, বিশুদ্ধ পানি, থাকা-খাওয়া ও নিরাপত্তার জন্য করা হয়েছে বিশেষ ব্যবস্থা। সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করছেন স্বেচ্ছাসেবকরা। ইজতেমা মাঠকে কেন্দ্র করে বসেছে নানা ধরনের দোকানপাট, খাবারের স্টল ও ইসলামি বইয়ের অস্থায়ী বিপণি। ফলে পুরো এলাকায় সৃষ্টি হয়েছে প্রাণচাঞ্চল্যপূর্ণ পরিবেশ।
প্রধান আকর্ষণ পীর সাহেব চরমোনাই
ইজতেমার প্রধান মেহমান হিসেবে উপস্থিত থাকবেন আমীরুল মুজাহিদীন হযরত মাওলানা মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম (পীর সাহেব চরমোনাই)। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে লক্ষ্মীপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের হুইপ আলহাজ্ব এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজানের।
এছাড়াও ইজতেমার বিভিন্ন অধিবেশনে গুরুত্বপূর্ণ বয়ান পেশ করবেন দেশবরেণ্য ওলামায়ে কেরাম। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন—
মাওলানা ডাঃ সিরাজুল ইসলাম সিরাজী (নওমুসলিম)
মুফতি রেজাউল করিম আবরার
মাওলানা আব্দুর রহমান জামী
আল্লামা ফরিদ উদ্দিন আল মোবারক
মুফতি ইলিয়াছুর রহমান জিহাদী
আল্লামা খালেদ সাইফুল্লাহ
মুফতি আনিসুর রহমান আশরাফী (পীর সাহেব কমলনগর)
নারীদের জন্য বিশেষ আয়োজন
মূল ইজতেমা শেষে আগামী ১৩ মে বুধবার সকাল ৮টা থেকে নারীদের জন্য আলাদাভাবে ‘বিশেষ মহিলা মাহফিল’ অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে পর্দার আড়ালে নারীদের জন্য দ্বীনি আলোচনা, ইসলামী শিক্ষা ও নসিহতমূলক বয়ানের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
আয়োজকদের বক্তব্য
ইজতেমা বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক এবং মুন্সিগঞ্জ মারকাযুত তাক্বওয়া ইসলামিয়া মাদরাসার পরিচালক মুফতি মুহাম্মদ শরিফুল ইসলাম জানান, এলাকাবাসী, আলেম-ওলামা ও স্থানীয় ব্যবসায়ীদের সম্মিলিত সহযোগিতায় এ বৃহৎ আয়োজন সফলভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব হয়েছে।
তিনি বলেন, “দেশ, জাতি এবং বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনায় আখেরি মোনাজাতের মাধ্যমে ইজতেমার সমাপ্তি ঘোষণা করা হবে।”
তিনি ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের ইজতেমায় অংশগ্রহণ করে দ্বীনি আলোচনা শোনার এবং আখেরি মোনাজাতে শরিক হওয়ার আহ্বান জানান।