মোঃ এরশাদ আলী, লংগদু প্রতিনিধি:
পার্বত্যাঞ্চলে শান্তি, সম্প্রীতি ও মানুষের জীবনমান উন্নয়নের ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর খাগড়াছড়ি রিজিয়নের আওতাধীন লংগদু জোনের উদ্যোগে বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে দুর্গম এলাকার সুবিধাবঞ্চিত ৭০০ রোগীকে বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ২০০ রোগীকে বিনামূল্যে চশমা বিতরণ এবং চোখের বিভিন্ন জটিল সমস্যায় আক্রান্ত ১৭৫ রোগীকে উন্নত চিকিৎসা ও অস্ত্রোপচারের জন্য চট্টগ্রামে রেফার করা হয়েছে।
শনিবার (৮ আগস্ট) সকালে লংগদু বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে ‘তেজস্বী বীর লংগদু জোন’-এর উদ্যোগে এ চক্ষু চিকিৎসা ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়। ক্যাম্পে সার্বিক সহযোগিতা করে রোটারি ক্লাব অব চিটাগাং পোর্ট সিটি, রোটারাক্ট ক্লাব অব চিটাগাং লেক সিটি, চট্টগ্রাম লায়ন্স ফাউন্ডেশন এবং লায়ন্স ক্লাব অব চিটাগাং প্রোগ্রেসিভ সাউথ।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন লংগদু জোনের জোন অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মীর মোর্শেদ, এসপিপি, পিএসসি।
চিকিৎসা ক্যাম্পে অভিজ্ঞ চক্ষু বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মাধ্যমে রোগীদের বিনামূল্যে চোখ পরীক্ষা, চিকিৎসা পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় ওষুধ প্রদান করা হয়। পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী রোগীদের বিনামূল্যে চশমাও বিতরণ করা হয়।
এ ছাড়া ছানিপড়া (ক্যাটার্যাক্ট)সহ চোখের বিভিন্ন জটিল সমস্যায় আক্রান্ত রোগীদের শনাক্ত করা হয়। তাদের উন্নত ও বিশেষায়িত চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও নির্দেশনা দেওয়া হয়।
লংগদু জোন সূত্রে জানা যায়, দিনব্যাপী এ ক্যাম্পে মোট ৭০০ জন রোগীকে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ২০০ জনকে বিনামূল্যে চশমা বিতরণ করা হয়। এছাড়া উন্নত চিকিৎসা ও চোখের অস্ত্রোপচারের জন্য ১৭৫ জন রোগীকে চট্টগ্রামে রেফার করা হয়েছে। রেফার করা রোগীদের চিকিৎসা ও অস্ত্রোপচারসংক্রান্ত যাবতীয় ব্যয় লংগদু জোন বহন করবে বলে জানানো হয়েছে।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী দেশের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা রক্ষার পাশাপাশি মানবিক ও সামাজিক উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। পার্বত্য এলাকার মানুষের সঙ্গে পারস্পরিক আস্থা, সম্প্রীতি ও সুসম্পর্ক আরও জোরদার করতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের জনকল্যাণমূলক ও মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
চক্ষু চিকিৎসাসেবা নিতে আসা স্থানীয় বাসিন্দা, সমাজসেবক ও বিশিষ্ট ব্যক্তিরা সেনাবাহিনীর এ মানবিক উদ্যোগের প্রশংসা করেন। একই সঙ্গে দুর্গম এলাকার সাধারণ মানুষের জন্য বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করায় আয়োজক ও সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।