সোনারগাঁও (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি:
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে দুই স্কুলছাত্রীকে উত্ত্যক্ত ও এক ছাত্রীকে লাথি মারার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার ভিডিওটি ফেসবুক ও টিকটকে ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার কাঁচপুর ওমর আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির দুই ছাত্রী প্রায় এক মাস আগে কাঁচপুর শীতলক্ষ্যা নদীর তীরবর্তী ওয়াকওয়েতে স্কুল ড্রেস পরা অবস্থায় হাঁটছিল। এ সময় এক কিশোর তাদের একজনকে লাথি মারেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার একটি ভিডিও পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
স্থানীয়দের দাবি, প্রেমসংক্রান্ত একটি বিষয়কে কেন্দ্র করে ওই কিশোর স্কুলছাত্রীকে লাথি মারেন। তবে সংশ্লিষ্ট এক ছাত্রী এ ধরনের প্রেমের সম্পর্কের বিষয়টি অস্বীকার করেছেন।
ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর স্থানীয় বিএনপি নেতা আশরাফুল ইসলামসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা কয়েকদিন আগে বিষয়টি স্থানীয়ভাবে মীমাংসা করেন বলে জানা গেছে। এরপরই লাথি মারার ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে।
ধারণা করা হচ্ছে, ঘটনার সময় অভিযুক্ত কিশোরের কোনো সহযোগী ভিডিওটি ধারণ করেছিলেন। পরে সেটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করা হয়। ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয় এবং অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি ওঠে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর পরিবার আইনগত ব্যবস্থা নিতে আগ্রহী না হওয়ায় বিষয়টি থানায় গড়ায়নি। এ ঘটনায় থানায় কোনো লিখিত অভিযোগও জমা পড়েনি। তবে ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর কাঁচপুর পুরান বাজার পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই আরিফুজ্জামান আরিফ বিষয়টি খতিয়ে দেখেছেন।
পুলিশ জানায়, ভিডিওতে অভিযুক্ত হিসেবে যে কিশোরকে দেখা গেছে, সে কাঁচপুর রায়েরটেক এলাকায় ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করে। ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর ওই কিশোর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষমা চেয়েছে বলেও জানা গেছে।
এদিকে, ঘটনাটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
কাঁচপুর ওমর আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল মতিন বলেন, বিদ্যালয়ে উপস্থিত না হয়ে স্কুল ড্রেস পরে শীতলক্ষ্যা নদীর পাড়ে যাওয়াসহ কয়েকটি অভিযোগের কারণে সপ্তম শ্রেণির দুই ছাত্রীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। নোটিশের জবাব সন্তোষজনক না হলে বিদ্যালয়ের নিয়ম অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সোনারগাঁ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আনোয়ার বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্কুলছাত্রীকে লাথি দেওয়ার একটি ভিডিও ভাইরাল হওয়ার বিষয়টি তিনি শুনেছেন। তবে এ ঘটনায় থানায় কেউ লিখিত অভিযোগ করেননি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে, অপ্রাপ্তবয়স্ক শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং এ ধরনের ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে না দেওয়ার জন্য স্থানীয়রা সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।