খ ম জায়েদ হোসেন
নাসিরনগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলায় অনুমোদনহীন, ভেজাল ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তৈরি বিভিন্ন শিশুখাদ্য অবাধে বিক্রি হচ্ছে। বিশেষ করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সামনে, বাজার ও গ্রামাঞ্চলের পাড়া-মহল্লার দোকানগুলোতে নিম্নমানের খাদ্যপণ্যের ছড়াছড়িতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অভিভাবক ও সচেতন নাগরিকরা। তাদের অভিযোগ, এসব খাদ্য নিয়মিত খেয়ে স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ছে কোমলমতি শিশুরা।
সরেজমিনে উপজেলার প্রধান সড়ক, বাজার, বিভিন্ন মোড়, বিদ্যালয় ও মার্কেটসংলগ্ন এলাকায় ঘুরে দেখা যায়, রঙিন মোড়কে মোড়ানো ফলের জুস, ড্রিংকস, লাচ্ছি, ললিপপ, চিপস, চকলেট, ক্যান্ডি, চুইংগাম, ওয়েফার, আইস পপ, আইসক্রিমসহ নানা ধরনের খাদ্যপণ্য খুচরা ও পাইকারিভাবে বিক্রি হচ্ছে। আকর্ষণীয় মোড়ক ও খেলনাসংবলিত প্যাকেটের কারণে শিশুরা সহজেই এসব খাদ্যের প্রতি আকৃষ্ট হচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, অধিকাংশ খাদ্যপণ্যের মোড়কে উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের নাম, উপাদানের তালিকা, উৎপাদনের তারিখ কিংবা মেয়াদোত্তীর্ণের তথ্য উল্লেখ নেই। অনেক পণ্যে বিএসটিআইয়ের অনুমোদনের সিলও অনুপস্থিত। আবার কিছু পণ্যে বিভ্রান্তিকরভাবে বিএসটিআইয়ের সিল ব্যবহার করা হলেও সূক্ষ্মভাবে লেখা থাকে—‘বিএসটিআই অনুমোদিত নয়’, যা সাধারণ ক্রেতাদের চোখ এড়িয়ে যায়।
এছাড়া কিছু খাদ্যপণ্যের প্যাকেটে প্লাস্টিকের খেলনা সংযুক্ত থাকায় স্বাস্থ্যঝুঁকি আরও বাড়ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। ব্যবসায়ীদের বিভিন্ন লাভজনক অফারের কারণে এসব নিম্নমানের পণ্যের বাজারও সম্প্রসারিত হচ্ছে।
স্থানীয় অভিভাবকরা জানান, শিশুদের আবদারের কাছে অনেক সময় তারা অসহায় হয়ে এসব খাদ্য কিনে দিতে বাধ্য হন। তবে এসব খাদ্যের মান সম্পর্কে সচেতনতার অভাবও একটি বড় কারণ।
চিকিৎসকদের মতে, নিম্নমানের ও অস্বাস্থ্যকর খাদ্য নিয়মিত গ্রহণ করলে শিশুদের ডায়রিয়া, আমাশয়, বমি, পেটের নানা রোগ, ক্ষুধামন্দা ও অপুষ্টির ঝুঁকি বাড়ে। দীর্ঘমেয়াদে এসব খাদ্য পাকস্থলী, কিডনি ও স্নায়ুতন্ত্রের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে এবং শিশুদের স্বাভাবিক শারীরিক ও মানসিক বিকাশ ব্যাহত হতে পারে। তাই শিশুদের ঘরে তৈরি নিরাপদ ও পুষ্টিকর খাবার খাওয়ানোর পরামর্শ দিয়েছেন তারা।
স্থানীয় সচেতন মহলের অভিযোগ, উপজেলার পাইকারি ও খুচরা বাজারে নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত বা তদারকি অভিযান না থাকায় ভেজাল ও অনুমোদনহীন শিশুখাদ্যের বাণিজ্য দিন দিন বাড়ছে। একই সঙ্গে জনসচেতনতামূলক কার্যক্রমও দৃশ্যমান নয়।
সচেতন নাগরিকরা দ্রুত এসব ভেজাল ও নকল শিশুখাদ্যের উৎপাদন, সরবরাহ ও বিক্রির বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান পরিচালনা, বাজার মনিটরিং জোরদার এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, এখনই কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা মারাত্মক হুমকির মুখে পড়বে।