শাহাদাৎ হোসেন চৌধুরী শিপন, সোনারগাঁও (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি:
টানা কয়েক দিনের বৃষ্টিতে দেশের অন্যতম ব্যস্ততম ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও অংশজুড়ে অসংখ্য ছোট-বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। কাঁচপুর সেতু থেকে মেঘনা সেতু পর্যন্ত প্রায় ১৪ কিলোমিটার সড়কের বিভিন্ন স্থানে কার্পেটিং উঠে গিয়ে তৈরি হয়েছে ঝুঁকিপূর্ণ খানাখন্দ। এতে প্রতিদিন হাজার হাজার যানবাহন দুর্ঘটনার ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে। চরম দুর্ভোগে পড়েছেন দূরপাল্লার যাত্রী, পরিবহন শ্রমিক, ব্যক্তিগত গাড়িচালক ও স্থানীয় বাসিন্দারা।
সরেজমিনে দেখা যায়, কাঁচপুর সেতুর ঢালু এলাকা, চেঙ্গাইন, মদনপুর, কেওঢালা, লাঙ্গলবন্দ, সোনাখালী, দড়িকান্দি, টিপুরদী, হাবিবপুর, মোগরাপাড়া চৌরাস্তা, পিরোজপুর, চেঙ্গাকান্দি, মৃধাকান্দি, নয়াগাঁও, আষাঢ়িয়ারচর এবং মেঘনা টোল প্লাজা এলাকায় সড়কের বিভিন্ন স্থানে বড় ও ছোট গর্ত তৈরি হয়েছে। অনেক জায়গায় বৃষ্টির পানি জমে থাকায় গর্তের গভীরতা বোঝা যাচ্ছে না। ফলে দ্রুতগতির যানবাহনের চালকদের জন্য এটি মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে।
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগপথগুলোর একটি। প্রতিদিন এই মহাসড়ক দিয়ে রাজধানীর সঙ্গে চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, নোয়াখালী, ফেনী, কক্সবাজার, চাঁদপুর ও লক্ষ্মীপুরসহ দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের লাখো মানুষ যাতায়াত করেন। একই সঙ্গে শত শত পণ্যবাহী ট্রাক, কাভার্ডভ্যান ও কনটেইনার চলাচল করে। ফলে সামান্য একটি গর্তও বড় ধরনের দুর্ঘটনার কারণ হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
মাঠপর্যায়ে দেখা গেছে, গর্ত এড়াতে অনেক চালক হঠাৎ লেন পরিবর্তন করছেন। এতে পেছনের যানবাহনের সঙ্গে সংঘর্ষের ঝুঁকি বাড়ছে। ভারী যানবাহন গর্তে পড়লে নিয়ন্ত্রণ হারানোর উপক্রম হচ্ছে। মোটরসাইকেল আরোহীরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছেন। কোথাও কোথাও ধীরগতিতে যান চলাচলের কারণে দীর্ঘ যানজটও সৃষ্টি হচ্ছে।
পরিবহন চালক মতিন মিয়া বলেন, “মহাসড়কে এখন গাড়ি চালানো খুবই কষ্টকর। গর্ত এড়াতে গিয়ে প্রায়ই দুর্ঘটনার পরিস্থিতি তৈরি হয়। রাতে বৃষ্টির পানি জমে থাকলে গর্ত বোঝা যায় না। অনেক সময় হঠাৎ ব্রেক করতে হয়। এছাড়া গাড়ির গতি কমে গেলে ছিনতাইয়ের ঝুঁকিও বেড়ে যায়।”
তিনি আরও বলেন, “প্রতিবছর বর্ষা এলেই সাময়িকভাবে সংস্কার করা হয়। কয়েক দিনের মধ্যেই আবার একই অবস্থা হয়। স্থায়ীভাবে উন্নতমানের সংস্কার না করলে সমস্যার সমাধান হবে না।”
কুমিল্লা থেকে ঢাকাগামী তিশা পরিবহনের যাত্রী আশরাফুল ইসলাম জাকির বলেন, “দিনের বেলায় কিছুটা সতর্ক থাকা যায়। কিন্তু রাতে চলাচল সত্যিই আতঙ্কের। গাড়ি গর্তে পড়লে যাত্রীরা ভয় পেয়ে যান।”
প্রাইভেটকার চালক জামিল হোসেন বলেন, “গর্তের কারণে গাড়ির সাসপেনশন ও চাকা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। অনেক সময় গাড়ির নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। দ্রুত সংস্কার না হলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।”
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, মহাসড়কের পাশে অনেক স্থানে কার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় বৃষ্টির পানি দীর্ঘ সময় সড়কের ওপর জমে থাকে। এতে রাস্তার ভিত্তি দুর্বল হয়ে দ্রুত কার্পেটিং উঠে যাচ্ছে এবং বড় বড় গর্ত তৈরি হচ্ছে।
এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুর রহিম বলেন, “টানা বৃষ্টি, ওভারলোড যানবাহন এবং অতিরিক্ত যান চলাচলের কারণে মহাসড়কে খানাখন্দ সৃষ্টি হচ্ছে। বৃষ্টির সময় স্থায়ীভাবে কার্পেটিং করা সম্ভব নয়। তবে ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলোতে জরুরি ভিত্তিতে প্যাচিং করা হচ্ছে। আবহাওয়া অনুকূলে এলে ক্ষতিগ্রস্ত অংশগুলো টেকসইভাবে সংস্কার করা হবে।”
স্থানীয়দের দাবি, দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই মহাসড়কে সাময়িক জোড়াতালি নয়, দ্রুত টেকসই সংস্কার ও কার্যকর পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমবে এবং যাত্রীদের দুর্ভোগও লাঘব হবে।