মোক্তার হোসেন, কয়রা (খুলনা) প্রতিনিধি:
খুলনার কয়রা উপজেলার ফতেকাটি কুশোডাঙা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১৫৫ জন কোমলমতি শিক্ষার্থী দীর্ঘদিন ধরে জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ ঝুপড়ি ঘরে পাঠগ্রহণ করছে। সামান্য বৃষ্টিতেই শ্রেণিকক্ষে পানি ঢুকে পাঠদান ব্যাহত হয়। এমনকি অফিস কক্ষেও পানি পড়ায় গুরুত্বপূর্ণ সরকারি নথিপত্র নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
১৯৯১ সালে প্রতিষ্ঠিত বিদ্যালয়টির জন্য ২০০১ সালে একটি পাকা ভবন নির্মাণ করা হলেও নির্মাণ ত্রুটির কারণে কয়েক বছরের মধ্যেই ভবনের প্লাস্টার খসে পড়ে, লোহার রড বেরিয়ে আসে এবং ছাদ দিয়ে পানি চুঁইয়ে পড়তে শুরু করে। পরে ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করে পরিত্যক্ত করা হয়। এরপর দুই দশক পার হলেও নতুন কোনো স্থায়ী ভবন নির্মাণ করা হয়নি।
সরেজমিনে দেখা যায়, গোলপাতা ও টিনের ছাউনিযুক্ত অস্থায়ী কক্ষে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা চরম ঝুঁকি নিয়ে পাঠদান ও পাঠগ্রহণ করছে। বর্ষা মৌসুমে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে।
বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আব্দুর রব বলেন, “শিক্ষকতা জীবনের শেষ প্রান্তে এসেও শিশুদের জন্য একটি নিরাপদ ভবন দেখতে পারলাম না। প্রতিদিন ভয় নিয়ে ক্লাস নিতে হয়। দ্রুত একটি টেকসই ভবন নির্মাণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন জানাই।”
শিক্ষকরাও জানান, বৃষ্টি হলেই পাঠদান ব্যাহত হয়। এতে শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ায় আগ্রহ কমে যাচ্ছে এবং স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।
বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি রাবেয়া খাতুন বলেন, “১৯৯১ সাল থেকে পরিচালিত এই বিদ্যালয়ের ১৫৫ শিক্ষার্থীর নিরাপত্তার স্বার্থে দ্রুত একটি নতুন ভবন নির্মাণ করা জরুরি।”
সহ-সভাপতি রোকনুজ্জামান বলেন, “আমি নিজেও এই বিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী। দুর্যোগপ্রবণ কয়রায় একটি বহুতল, দুর্যোগ সহনীয় বিদ্যালয় ভবন সময়ের দাবি।”
স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন নাগরিকরা জানান, ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসপ্রবণ এলাকায় বিদ্যালয়টি হওয়ায় নিরাপদ বহুতল ভবন নির্মাণ অত্যন্ত জরুরি। পাশাপাশি মাঠে জলাবদ্ধতার কারণে শিক্ষার্থীরা খেলাধুলা ও শারীরিক বিকাশের সুযোগ থেকেও বঞ্চিত হচ্ছে।
কয়রা উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা বলেন, বিদ্যালয়টি তিনি পরিদর্শন করেছেন এবং নতুন ভবনের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে ইতোমধ্যে অবহিত করা হয়েছে। দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
এলাকাবাসীর দাবি, শিক্ষার্থীদের নিরাপদ শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়, শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত বরাদ্দ দিয়ে আধুনিক, দুর্যোগ সহনীয় বহুতল বিদ্যালয় ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নিক।