মোখলেছুর রহমান ধনু
রামগতি-কমলনগর (লক্ষ্মীপুর) প্রতিনিধি:
লক্ষ্মীপুরের রামগতি ও কমলনগর উপজেলায় অনুমোদনহীন কিছু ফেসবুক পেজ ও তথাকথিত অনলাইন পোর্টালের কার্যক্রম নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় পেশাদার সংবাদকর্মীরা। তাদের অভিযোগ, যাচাই-বাছাই ছাড়াই বিভ্রান্তিকর তথ্য ও চটকদার ফটোকার্ড প্রকাশের মাধ্যমে এক শ্রেণির ব্যক্তি সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করছেন এবং মূলধারার সাংবাদিকতার পরিবেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করছেন। এ পরিস্থিতিতে অপসাংবাদিকতা রোধে প্রশাসনের কার্যকর হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন তারা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কোনো প্রাতিষ্ঠানিক অনুমোদন বা সাংবাদিকতার ন্যূনতম পেশাগত মানদণ্ড অনুসরণ না করেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক অন্তত ১৫ থেকে ২০টি ফেসবুক পেজ ও অনলাইন প্ল্যাটফর্ম পরিচালিত হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, এসব প্ল্যাটফর্মের অনেকগুলোই কোনো ঘটনার সত্যতা যাচাই না করে মনগড়া তথ্য ও আকর্ষণীয় শিরোনাম ব্যবহার করে সংবাদ প্রকাশ করে থাকে। ফলে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হওয়ার পাশাপাশি প্রকৃত তথ্য আড়ালে থেকে যাচ্ছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন পেশাদার সাংবাদিক জানান, কোনো ঘটনা ঘটার পর মূলধারার গণমাধ্যম তথ্য যাচাইয়ের আগেই এসব পেজে বিভ্রান্তিকর পোস্ট ও ফটোকার্ড ছড়িয়ে পড়ে। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে ভুল ধারণা তৈরি হয় এবং বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়।
পেশাদার সংবাদকর্মীদের দাবি, সাংবাদিকতা একটি দায়িত্বশীল পেশা। তাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রেও নীতিমালা ও আইন মেনে চলা প্রয়োজন। রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে অপসাংবাদিকতার পরিবর্তে সরকার অনুমোদিত মূলধারার গণমাধ্যমের সঙ্গে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানান তারা।
স্থানীয় সচেতন মহলের অভিযোগ, অনুমোদনহীন কিছু পেজ ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিল, ব্ল্যাকমেইল এবং সামাজিক হয়রানির মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। এতে রামগতি ও কমলনগরের সাধারণ মানুষ নানা ধরনের ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
তবে প্রতিবেদনে উল্লিখিত অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ফেসবুক পেজ ও অনলাইন পোর্টালগুলোর কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রকাশ করা হবে।
স্থানীয় সংবাদকর্মী ও সচেতন নাগরিকদের দাবি, অভিযোগগুলো তদন্ত করে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে রামগতি ও কমলনগরে সুস্থ ও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার পরিবেশ নিশ্চিত করা হোক।